দিকপাল

যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে হতাশার সুর ওবামার কণ্ঠে


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ | ০৮:৩৫ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে হতাশার সুর ওবামার কণ্ঠে

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় আরও বেশি নাজুক ও শোচনীয় হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শিকাগোতে ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারের উদ্বোধনের আগে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এমন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিগত সময়গুলোতে যুদ্ধের পেছনে শত শত কোটি ডলার ঢালা হয়েছে এবং সামরিক বাহিনীর ওপর পাহাড়সম চাপ তৈরি হয়েছে। অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে শূন্য। ওবামার মতে, আমরা কেবল যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থানেই ফিরে আসিনি, বরং সামগ্রিক পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও অবনতিশীল হয়েছে।

সাবেক এই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া নীতিগুলোর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তিটি বাতিলের ফলে বিশ্ব নিরাপত্তার ঝুঁকি বেড়েছে। ওই চুক্তির আওতায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার করেছিল, কিন্তু সেই কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসার কারণে তেহরান এখন উল্টো আগের চেয়ে অনেক বেশি পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ পেয়ে গেছে।

এদিকে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভিন্নমত ও ভিন্ন সুরও শোনা যাচ্ছে। বর্তমান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন যে, তাদের গৃহীত শান্তি পরিকল্পনার সুফল পাওয়া যাচ্ছে এবং ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা ভেঙে পড়েছে। তার মতে, জ্বালানির দামও নিম্নমুখী। তবে ভ্যান্সের পূর্বনির্ধারিত সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত হয়ে যাওয়ায় নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে যেকোনো আলোচনার টেবিলে বসতে হলে তেহরানের নির্ধারিত লাল রেখা বা শর্তগুলো অবশ্যই মেনে নিতে হবে। অন্যথায় কঠোর জবাব দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

অন্যদিকে, ভূ-রাজনৈতিক এই উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এক্সন মবিলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নিল চ্যাপম্যান সতর্ক করে বলেছেন, কৌশলগত মজুত যদি সংকটজনক পর্যায়ে নেমে যায়, তবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।

সাক্ষাৎকারের শেষভাগে ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন ও অস্থিরতা নিয়ে তীব্র শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের ভিত মজবুত রাখতে হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় আনার দায়িত্ব নাগরিকদেরই নিতে হবে। এই অস্থির সময় পার করতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা এবং নাগরিকদের সচেতনতা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে হতাশার সুর ওবামার কণ্ঠে

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় আরও বেশি নাজুক ও শোচনীয় হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শিকাগোতে ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারের উদ্বোধনের আগে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এমন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিগত সময়গুলোতে যুদ্ধের পেছনে শত শত কোটি ডলার ঢালা হয়েছে এবং সামরিক বাহিনীর ওপর পাহাড়সম চাপ তৈরি হয়েছে। অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে শূন্য। ওবামার মতে, আমরা কেবল যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থানেই ফিরে আসিনি, বরং সামগ্রিক পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও অবনতিশীল হয়েছে।

সাবেক এই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া নীতিগুলোর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তিটি বাতিলের ফলে বিশ্ব নিরাপত্তার ঝুঁকি বেড়েছে। ওই চুক্তির আওতায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার করেছিল, কিন্তু সেই কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসার কারণে তেহরান এখন উল্টো আগের চেয়ে অনেক বেশি পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ পেয়ে গেছে।

এদিকে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভিন্নমত ও ভিন্ন সুরও শোনা যাচ্ছে। বর্তমান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন যে, তাদের গৃহীত শান্তি পরিকল্পনার সুফল পাওয়া যাচ্ছে এবং ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা ভেঙে পড়েছে। তার মতে, জ্বালানির দামও নিম্নমুখী। তবে ভ্যান্সের পূর্বনির্ধারিত সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত হয়ে যাওয়ায় নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে যেকোনো আলোচনার টেবিলে বসতে হলে তেহরানের নির্ধারিত লাল রেখা বা শর্তগুলো অবশ্যই মেনে নিতে হবে। অন্যথায় কঠোর জবাব দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

অন্যদিকে, ভূ-রাজনৈতিক এই উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এক্সন মবিলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নিল চ্যাপম্যান সতর্ক করে বলেছেন, কৌশলগত মজুত যদি সংকটজনক পর্যায়ে নেমে যায়, তবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।

সাক্ষাৎকারের শেষভাগে ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন ও অস্থিরতা নিয়ে তীব্র শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের ভিত মজবুত রাখতে হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় আনার দায়িত্ব নাগরিকদেরই নিতে হবে। এই অস্থির সময় পার করতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা এবং নাগরিকদের সচেতনতা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

সূত্র: এনবিসি নিউজ


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল