লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া একাডেমির হোস্টেলে মেহেদী হাসান নামে এক স্কুলছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার রেশ না কাটতেই নিহতের বাবা জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার দুই দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দায়ের করা এই মামলায় একাডেমির অধ্যক্ষসহ মোট আঠারো জনকে আসামি করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন এবং কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার কারণেই মেধাবী এই ছাত্রের প্রাণ ঝরেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবার।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, নিহত মেহেদী হাসান গত বছর উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে হলের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা কনিষ্ঠদের ওপর বিভিন্ন অজুহাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। ঘটনার সূত্রপাত একটি মোবাইল ফোন চুরির অপবাদকে কেন্দ্র করে। দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর আইফোন হারানোর ঘটনায় একাডেমির দ্বাদশ শ্রেণির বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী মেহেদীসহ সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে ব্যাপক মারধর করে। নিরুপায় হয়ে মেহেদী ও তার সহপাঠীরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নানকে অবহিত করে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, অধ্যক্ষ লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বরং কালক্ষেপণ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযোগ দায়ের করার বিষয়টি জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা জানতে পেরে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়। এরপর সোমবার রাতে মেহেদীকে একা পেয়ে তারা দফায় দফায় পাশবিক নির্যাতন চালায়। সোমবার রাত দশটা থেকে শুরু হওয়া এই নির্যাতন চলে ভোর চারটা পর্যন্ত। এক পর্যায়ে মেহেদীর মৃত্যু হলে দ্রুত তাকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে পার্শ্ববর্তী চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে রেখে আসা হয়। তবে কে বা কারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল তা এখনো রহস্যের আবরণে ঢাকা।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মেহেদী হাসানের বাবার করা এজাহারের ভিত্তিতে অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নান, দ্বাদশ শ্রেণির সাতজন শিক্ষার্থী এবং অজ্ঞাত আরও দশজনের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। শিক্ষাঙ্গনের অভ্যন্তরে এমন ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া একাডেমির হোস্টেলে মেহেদী হাসান নামে এক স্কুলছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার রেশ না কাটতেই নিহতের বাবা জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার দুই দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দায়ের করা এই মামলায় একাডেমির অধ্যক্ষসহ মোট আঠারো জনকে আসামি করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন এবং কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার কারণেই মেধাবী এই ছাত্রের প্রাণ ঝরেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবার।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, নিহত মেহেদী হাসান গত বছর উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে হলের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা কনিষ্ঠদের ওপর বিভিন্ন অজুহাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। ঘটনার সূত্রপাত একটি মোবাইল ফোন চুরির অপবাদকে কেন্দ্র করে। দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর আইফোন হারানোর ঘটনায় একাডেমির দ্বাদশ শ্রেণির বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী মেহেদীসহ সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে ব্যাপক মারধর করে। নিরুপায় হয়ে মেহেদী ও তার সহপাঠীরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নানকে অবহিত করে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, অধ্যক্ষ লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বরং কালক্ষেপণ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযোগ দায়ের করার বিষয়টি জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা জানতে পেরে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়। এরপর সোমবার রাতে মেহেদীকে একা পেয়ে তারা দফায় দফায় পাশবিক নির্যাতন চালায়। সোমবার রাত দশটা থেকে শুরু হওয়া এই নির্যাতন চলে ভোর চারটা পর্যন্ত। এক পর্যায়ে মেহেদীর মৃত্যু হলে দ্রুত তাকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে পার্শ্ববর্তী চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে রেখে আসা হয়। তবে কে বা কারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল তা এখনো রহস্যের আবরণে ঢাকা।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মেহেদী হাসানের বাবার করা এজাহারের ভিত্তিতে অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নান, দ্বাদশ শ্রেণির সাতজন শিক্ষার্থী এবং অজ্ঞাত আরও দশজনের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। শিক্ষাঙ্গনের অভ্যন্তরে এমন ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন