শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাইবার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষায় এক কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশটিতে ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আমিরাতের মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সর্বনিম্ন বয়স ১৫ বছর নির্ধারণ করে আইনি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে শিশুদের সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডার মতো উন্নত দেশগুলোর কাতারে যুক্ত হলো মধ্যপ্রাচ্যের এই শীর্ষ অর্থনৈতিক রাষ্ট্রটি।
নতুন আইনি বিধান অনুযায়ী, ১৫ বছরের কম বয়সীরা কোনো ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট খুলতে, পরিচালনা করতে বা ব্যবহার করতে পারবে না। একই সঙ্গে তারা সরাসরি বার্তা আদান-প্রদান (Direct Message), নতুন পোস্ট প্রকাশ, অন্যের পোস্টে মন্তব্য বা কমেন্ট করা, তথ্য শেয়ার করা কিংবা উন্মুক্ত গ্রুপ ও চ্যানেলে অংশগ্রহণের মতো কোনো কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবে না।
এই কঠোর নীতিমালা দেশটিতে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নের জন্য মেটা (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম), টিকটক, এক্স-সহ (সাবেক টুইটার) বিশ্বখ্যাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১২ মাসের একটি রূপান্তরকাল বা ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট টেক জায়ান্ট কোম্পানিগুলোকে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের কার্যকর ও নিখুঁত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় ১৫ বছরের কম বয়সীদের বিদ্যমান অ্যাকাউন্টগুলো শনাক্ত করে তা দ্রুত বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই নিয়ম বা ফিল্টারিং ব্যবস্থা বাস্তবে রূপ দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে আমিরাতের গণমাধ্যম ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নতুন আইনে শাস্তির প্রক্রিয়া হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক সতর্কবার্তা, আমিরাতে সংশ্লিষ্ট অ্যাপের সেবা আংশিক বা সম্পূর্ণ স্থগিত করা এবং বড় অঙ্কের প্রশাসনিক জরিমানার সুনির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা আমিরাত সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের লাগামহীন প্রযুক্তি আসক্তি, সাইবার বুলিং, মানসিক স্বাস্থ্যের বিপর্যয় এবং বিভিন্ন অনলাইন অপরাধের ঝুঁকি থেকে পরবর্তী প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতেই আমিরাত সরকার অত্যন্ত সময়োপযোগী এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাইবার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষায় এক কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশটিতে ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আমিরাতের মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সর্বনিম্ন বয়স ১৫ বছর নির্ধারণ করে আইনি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে শিশুদের সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডার মতো উন্নত দেশগুলোর কাতারে যুক্ত হলো মধ্যপ্রাচ্যের এই শীর্ষ অর্থনৈতিক রাষ্ট্রটি।
নতুন আইনি বিধান অনুযায়ী, ১৫ বছরের কম বয়সীরা কোনো ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট খুলতে, পরিচালনা করতে বা ব্যবহার করতে পারবে না। একই সঙ্গে তারা সরাসরি বার্তা আদান-প্রদান (Direct Message), নতুন পোস্ট প্রকাশ, অন্যের পোস্টে মন্তব্য বা কমেন্ট করা, তথ্য শেয়ার করা কিংবা উন্মুক্ত গ্রুপ ও চ্যানেলে অংশগ্রহণের মতো কোনো কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবে না।
এই কঠোর নীতিমালা দেশটিতে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নের জন্য মেটা (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম), টিকটক, এক্স-সহ (সাবেক টুইটার) বিশ্বখ্যাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১২ মাসের একটি রূপান্তরকাল বা ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট টেক জায়ান্ট কোম্পানিগুলোকে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের কার্যকর ও নিখুঁত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় ১৫ বছরের কম বয়সীদের বিদ্যমান অ্যাকাউন্টগুলো শনাক্ত করে তা দ্রুত বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই নিয়ম বা ফিল্টারিং ব্যবস্থা বাস্তবে রূপ দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে আমিরাতের গণমাধ্যম ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নতুন আইনে শাস্তির প্রক্রিয়া হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক সতর্কবার্তা, আমিরাতে সংশ্লিষ্ট অ্যাপের সেবা আংশিক বা সম্পূর্ণ স্থগিত করা এবং বড় অঙ্কের প্রশাসনিক জরিমানার সুনির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা আমিরাত সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের লাগামহীন প্রযুক্তি আসক্তি, সাইবার বুলিং, মানসিক স্বাস্থ্যের বিপর্যয় এবং বিভিন্ন অনলাইন অপরাধের ঝুঁকি থেকে পরবর্তী প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতেই আমিরাত সরকার অত্যন্ত সময়োপযোগী এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আপনার মতামত লিখুন