দিকপাল

চুক্তির জন্য ট্রাম্পই বেশি আগ্রহী ছিলেন: মোজতবা খামেনি


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ | ১০:১৭ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

চুক্তির জন্য ট্রাম্পই বেশি আগ্রহী ছিলেন: মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মোজতবা খামেনি। তিনি জানিয়েছেন যে, এই সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের সরকারি প্রতিনিধিরা অত্যন্ত আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রক্রিয়াটিকে দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার এক বার্তায় তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।


আয়াতুল্লাহ খামেনি তার বার্তায় উল্লেখ করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টি জনগণের কাছে পরিষ্কার। তিনি বলেন, তার প্রাথমিক কোনো দ্বিমত থাকলেও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দেওয়া বিশেষ প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করেই তিনি এই চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান হিসেবে দেশের নিরাপত্তা এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের এই সম্মতির মানে এই নয় যে তারা প্রতিপক্ষের সব মতাদর্শ বা দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে নিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাকে নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অযৌক্তিক বা অতিরিক্ত শর্ত ইরান কোনোভাবেই মেনে নেবে না। এখন পুরো জাতি এবং সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনিও এই সমঝোতার শর্তগুলো বাস্তবায়িত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তির আওতায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো সব ধরণের সংঘাত চিরতরে বন্ধ করা, ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করা। এছাড়া অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা বাতিলের প্রতিশ্রুতিও এই চুক্তির মূল অংশ হিসেবে উঠে এসেছে।


বর্তমানে উভয় দেশ সমঝোতা স্মারকের আলোকে ৬০ দিনের একটি আলোচনা প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে। এই দুই মাস সময়ের মধ্যে একটি চূড়ান্ত ও বিস্তারিত চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবেন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। এই প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে ১৯ জুন থেকে সুইজারল্যান্ডে সরাসরি আলোচনার কথা রয়েছে। এই আলোচনার ক্ষেত্রে পাকিস্তান এবং কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে বলে জানা গেছে। ভবিষ্যতে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসলেও ইরান যে তার নিজস্ব অবস্থান ও অধিকারের বিষয়ে আপসহীন থাকবে, সেটিই এই বার্তায় পুনরায় ফুটে উঠেছে।

সূত্র: প্রেস টিভি

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


চুক্তির জন্য ট্রাম্পই বেশি আগ্রহী ছিলেন: মোজতবা খামেনি

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মোজতবা খামেনি। তিনি জানিয়েছেন যে, এই সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের সরকারি প্রতিনিধিরা অত্যন্ত আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রক্রিয়াটিকে দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার এক বার্তায় তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।


আয়াতুল্লাহ খামেনি তার বার্তায় উল্লেখ করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টি জনগণের কাছে পরিষ্কার। তিনি বলেন, তার প্রাথমিক কোনো দ্বিমত থাকলেও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দেওয়া বিশেষ প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করেই তিনি এই চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান হিসেবে দেশের নিরাপত্তা এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের এই সম্মতির মানে এই নয় যে তারা প্রতিপক্ষের সব মতাদর্শ বা দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে নিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাকে নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অযৌক্তিক বা অতিরিক্ত শর্ত ইরান কোনোভাবেই মেনে নেবে না। এখন পুরো জাতি এবং সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনিও এই সমঝোতার শর্তগুলো বাস্তবায়িত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তির আওতায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো সব ধরণের সংঘাত চিরতরে বন্ধ করা, ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করা। এছাড়া অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা বাতিলের প্রতিশ্রুতিও এই চুক্তির মূল অংশ হিসেবে উঠে এসেছে।


বর্তমানে উভয় দেশ সমঝোতা স্মারকের আলোকে ৬০ দিনের একটি আলোচনা প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে। এই দুই মাস সময়ের মধ্যে একটি চূড়ান্ত ও বিস্তারিত চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবেন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। এই প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে ১৯ জুন থেকে সুইজারল্যান্ডে সরাসরি আলোচনার কথা রয়েছে। এই আলোচনার ক্ষেত্রে পাকিস্তান এবং কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে বলে জানা গেছে। ভবিষ্যতে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসলেও ইরান যে তার নিজস্ব অবস্থান ও অধিকারের বিষয়ে আপসহীন থাকবে, সেটিই এই বার্তায় পুনরায় ফুটে উঠেছে।

সূত্র: প্রেস টিভি


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল