দিকপাল

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন জট কাটছে, ইএফটি চালুর বড় ঘোষণা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ | ০২:০৮ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন জট কাটছে, ইএফটি চালুর বড় ঘোষণা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

দেশের বেসরকারি মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রাপ্তির দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও জটিলতা স্থায়ীভাবে দূর হতে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ের শিক্ষকদের বেতন দ্রুত ও নিয়মিত করতে শতভাগ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) পদ্ধতি চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

জাতীয় সংসদে মাদ্রাসা শিক্ষকদের মে মাসের বকেয়া বেতন প্রাপ্তিতে বিলম্বের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় সংসদের সাম্প্রতিক অধিবেশনে রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন পেতে চরম বিলম্বের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জুন মাসের ১৬ তারিখেও মাদ্রাসার কোনো শিক্ষককে (মে মাসের) বেতন দেওয়া হয়নি। একজন শিক্ষক টাকার অভাবে তাঁর মায়ের চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।” সংসদ সদস্য এই পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই জটিলতার পেছনের প্রশাসনিক কারণ ব্যাখ্যা করেছে। মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১৭ সালে প্রায় ১০ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম’ (MEMIS) প্রকল্পটি প্রথম অনুমোদন করা হয়েছিল। তবে বিগত সরকারের সময় এই প্রকল্প থেকে স্বয়ংক্রিয় ‘ইএফটি’ কার্যক্রমটি রহস্যজনকভাবে বাদ দিয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। যার কারণে মাঠপর্যায়ে মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত ও দ্রুত স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিশোধের প্রক্রিয়াটি বছরের পর বছর বাধাগ্রস্ত হয়ে আসছিল।

বর্তমান সরকার শিক্ষকদের এই ভোগান্তি নিরসনে প্রকল্পটিতে বড় ধরনের সংশোধনী এনেছে। গত ৯ জুন অনুষ্ঠিত একনেক (ECNEC) সভায় ইএফটি কার্যক্রম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করে ‘এমইএমআইএস সাপোর্ট (২য় সংশোধিত) (প্রস্তাবিত ৩য় সংশোধন)’ প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশোধনের পর এই প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এর আগে এই প্রকল্পের অধীনে পরীক্ষামূলক বা পাইলটিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশের আটটি বিভাগের মাত্র আটটি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইএফটি-এর মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন দেওয়া হতো। এই নির্ধারিত আটটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের বাকি সব মাদ্রাসায় এখনো সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল বা অ্যানালগ পদ্ধতিতে বেতন-ভাতা প্রক্রিয়া করতে হচ্ছে। আর এই সনাতন ও প্রাচীন পদ্ধতির কাগজপত্রের জটিলতার কারণেই প্রতি মাসে শিক্ষকদের মূল অ্যাকাউন্টে বেতন পৌঁছাতে কয়েকদিন বিলম্ব হয়ে যায়।

সংশোধিত প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হওয়ায় এখন দেশজুড়ে দ্রুত ইএফটি চালুর প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং খুব দ্রুতই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন জট কাটছে, ইএফটি চালুর বড় ঘোষণা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

দেশের বেসরকারি মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রাপ্তির দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও জটিলতা স্থায়ীভাবে দূর হতে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ের শিক্ষকদের বেতন দ্রুত ও নিয়মিত করতে শতভাগ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) পদ্ধতি চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

জাতীয় সংসদে মাদ্রাসা শিক্ষকদের মে মাসের বকেয়া বেতন প্রাপ্তিতে বিলম্বের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় সংসদের সাম্প্রতিক অধিবেশনে রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন পেতে চরম বিলম্বের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জুন মাসের ১৬ তারিখেও মাদ্রাসার কোনো শিক্ষককে (মে মাসের) বেতন দেওয়া হয়নি। একজন শিক্ষক টাকার অভাবে তাঁর মায়ের চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।” সংসদ সদস্য এই পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই জটিলতার পেছনের প্রশাসনিক কারণ ব্যাখ্যা করেছে। মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১৭ সালে প্রায় ১০ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম’ (MEMIS) প্রকল্পটি প্রথম অনুমোদন করা হয়েছিল। তবে বিগত সরকারের সময় এই প্রকল্প থেকে স্বয়ংক্রিয় ‘ইএফটি’ কার্যক্রমটি রহস্যজনকভাবে বাদ দিয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। যার কারণে মাঠপর্যায়ে মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত ও দ্রুত স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিশোধের প্রক্রিয়াটি বছরের পর বছর বাধাগ্রস্ত হয়ে আসছিল।

বর্তমান সরকার শিক্ষকদের এই ভোগান্তি নিরসনে প্রকল্পটিতে বড় ধরনের সংশোধনী এনেছে। গত ৯ জুন অনুষ্ঠিত একনেক (ECNEC) সভায় ইএফটি কার্যক্রম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করে ‘এমইএমআইএস সাপোর্ট (২য় সংশোধিত) (প্রস্তাবিত ৩য় সংশোধন)’ প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশোধনের পর এই প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এর আগে এই প্রকল্পের অধীনে পরীক্ষামূলক বা পাইলটিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশের আটটি বিভাগের মাত্র আটটি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইএফটি-এর মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন দেওয়া হতো। এই নির্ধারিত আটটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের বাকি সব মাদ্রাসায় এখনো সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল বা অ্যানালগ পদ্ধতিতে বেতন-ভাতা প্রক্রিয়া করতে হচ্ছে। আর এই সনাতন ও প্রাচীন পদ্ধতির কাগজপত্রের জটিলতার কারণেই প্রতি মাসে শিক্ষকদের মূল অ্যাকাউন্টে বেতন পৌঁছাতে কয়েকদিন বিলম্ব হয়ে যায়।

সংশোধিত প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হওয়ায় এখন দেশজুড়ে দ্রুত ইএফটি চালুর প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং খুব দ্রুতই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল