দিকপাল

যুক্তরাজ্যে মেটা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাড়ছে ব্যাংক জালিয়াতি


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ | ০৭:০৫ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাজ্যে মেটা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাড়ছে ব্যাংক জালিয়াতি

কোভিড-১৯ মহামারীর পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে আর্থিক জালিয়াতি বা প্রতারণার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সময়ে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে অপরাধীরা সাধারণ মানুষকে নানাভাবে প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলছে। সাম্প্রতিক তথ্য ও গবেষণায় দেখা গেছে, গত এক বছরে যুক্তরাজ্যে ব্যাংকিং ও পেমেন্ট সেবার ক্ষেত্রে জালিয়াতির কারণে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন পাউন্ডে গিয়ে ঠেকেছে। ইউকে ফিন্যান্সের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জালিয়াতির ক্ষেত্রে এখন প্রতারকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে তাদের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লোভনীয় বিনিয়োগের বিজ্ঞাপন দিয়ে যে আর্থিক কেলেঙ্কারিগুলো ঘটানো হয়েছে, তার মাধ্যমেই গত বছর সর্বোচ্চ ২২ কোটি ১৫ লাখ পাউন্ডের বেশি খোয়া গেছে।


বিনিয়োগ প্রলোভনের পাশাপাশি অনলাইন কেনাকাটা এবং সামাজিক সম্পর্কের আড়ালে প্রতারণার জাল বিস্তার করার মতো ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এ ধরনের অপরাধের সিংহভাগই কোনো না কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সূচিত হয়। ফলে কেবল ব্যাংকিং খাতের ওপর দায় না চাপিয়ে মেটার মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও কঠোর আইনি নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। প্রতারণার শিকার গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতির দায়ভার বহনে প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে অংশীদার করার দাবিও উঠেছে জোরেশোরে।


যুক্তরাজ্য বিশ্বের অন্যতম ব্যতিক্রমী দেশ যেখানে অ্যাপভিত্তিক জালিয়াতির শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ প্রদান আইনত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুসারে, ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৮৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। গত বছর ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের প্রায় ৩৫৪ দশমিক ৩ মিলিয়ন পাউন্ড ফেরত দিতে সক্ষম হয়েছে। তবে একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্ল্যাটফর্মে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এবং অবৈধ পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবে কার্যকর করতে বরাবরই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটা নিজেও ধারণা করেছিল যে তাদের মোট আয়ের বড় একটি অংশ বা প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার এই ধরনের প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন থেকে আসে। বর্তমানে এই পুরো পরিস্থিতি ও ক্ষতিপূরণের বিদ্যমান নিয়মগুলো নিয়ে একটি স্বাধীন পর্যালোচনা চলছে এবং সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, আগামী জুলাই মাসের শুরুর দিকে এই পর্যালোচনার ফলাফল প্রকাশিত হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

উৎস: রয়টার্স।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


যুক্তরাজ্যে মেটা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাড়ছে ব্যাংক জালিয়াতি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

কোভিড-১৯ মহামারীর পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে আর্থিক জালিয়াতি বা প্রতারণার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সময়ে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে অপরাধীরা সাধারণ মানুষকে নানাভাবে প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলছে। সাম্প্রতিক তথ্য ও গবেষণায় দেখা গেছে, গত এক বছরে যুক্তরাজ্যে ব্যাংকিং ও পেমেন্ট সেবার ক্ষেত্রে জালিয়াতির কারণে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন পাউন্ডে গিয়ে ঠেকেছে। ইউকে ফিন্যান্সের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জালিয়াতির ক্ষেত্রে এখন প্রতারকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে তাদের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লোভনীয় বিনিয়োগের বিজ্ঞাপন দিয়ে যে আর্থিক কেলেঙ্কারিগুলো ঘটানো হয়েছে, তার মাধ্যমেই গত বছর সর্বোচ্চ ২২ কোটি ১৫ লাখ পাউন্ডের বেশি খোয়া গেছে।


বিনিয়োগ প্রলোভনের পাশাপাশি অনলাইন কেনাকাটা এবং সামাজিক সম্পর্কের আড়ালে প্রতারণার জাল বিস্তার করার মতো ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এ ধরনের অপরাধের সিংহভাগই কোনো না কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সূচিত হয়। ফলে কেবল ব্যাংকিং খাতের ওপর দায় না চাপিয়ে মেটার মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও কঠোর আইনি নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। প্রতারণার শিকার গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতির দায়ভার বহনে প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে অংশীদার করার দাবিও উঠেছে জোরেশোরে।


যুক্তরাজ্য বিশ্বের অন্যতম ব্যতিক্রমী দেশ যেখানে অ্যাপভিত্তিক জালিয়াতির শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ প্রদান আইনত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুসারে, ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৮৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। গত বছর ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের প্রায় ৩৫৪ দশমিক ৩ মিলিয়ন পাউন্ড ফেরত দিতে সক্ষম হয়েছে। তবে একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্ল্যাটফর্মে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এবং অবৈধ পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবে কার্যকর করতে বরাবরই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটা নিজেও ধারণা করেছিল যে তাদের মোট আয়ের বড় একটি অংশ বা প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার এই ধরনের প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন থেকে আসে। বর্তমানে এই পুরো পরিস্থিতি ও ক্ষতিপূরণের বিদ্যমান নিয়মগুলো নিয়ে একটি স্বাধীন পর্যালোচনা চলছে এবং সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, আগামী জুলাই মাসের শুরুর দিকে এই পর্যালোচনার ফলাফল প্রকাশিত হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

উৎস: রয়টার্স।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল