মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নিরসন ও দীর্ঘদিনের বৈরিতার অবসানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। গত মার্চের পর থেকে তেলের দাম এখন সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ইতিবাচক ইঙ্গিতে বিশ্বজুড়ে ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানির বাজারে।
আন্তর্জাতিক বাজার সূচক অনুযায়ী, বিশ্বমানের ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৫৮ ডলার বা প্রায় চার শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়ে ৮৩ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক শূন্য ১ ডলার বা প্রায় পৌনে পাঁচ শতাংশ কমে ৮০ দশমিক ৮৭ ডলারে অবস্থান করছে। জ্বালানি তেলের দামের এমন আকস্মিক পতন বিশ্ব অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, কোনো ধরনের বাধা বা টোল ছাড়াই রণকৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলমান মার্কিন নৌ অবরোধও প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, খসড়া চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আগামী এক মাসের মধ্যে ইরানের তত্ত্বাবধানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেল পরিবহন পুরোদমে চালু হবে।
"আন্তর্জাতিক বাজারের ব্যবসায়ীরা এখন তেল সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির মাত্রা কমে আসায় তেলের দামের অস্থিরতা হ্রাস পেয়েছে।" — টিম ওয়াটেরার, প্রধান বাজার বিশ্লেষক, কেসিএম ট্রেড (রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকার)
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ (২০ শতাংশ) পরিবাহিত হয় এই কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত অবরুদ্ধ ছিল। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল ও গ্যাসের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়, যা আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি ও অস্থিরতা তৈরি করেছিল। দুই পরাশক্তির চুক্তি স্বাক্ষরের খবরে অবরুদ্ধ সরবরাহ চেইন পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সুনির্দিষ্ট সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তির আবহ দেখা দিয়েছে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নিরসন ও দীর্ঘদিনের বৈরিতার অবসানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। গত মার্চের পর থেকে তেলের দাম এখন সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ইতিবাচক ইঙ্গিতে বিশ্বজুড়ে ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানির বাজারে।
আন্তর্জাতিক বাজার সূচক অনুযায়ী, বিশ্বমানের ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৫৮ ডলার বা প্রায় চার শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়ে ৮৩ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক শূন্য ১ ডলার বা প্রায় পৌনে পাঁচ শতাংশ কমে ৮০ দশমিক ৮৭ ডলারে অবস্থান করছে। জ্বালানি তেলের দামের এমন আকস্মিক পতন বিশ্ব অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, কোনো ধরনের বাধা বা টোল ছাড়াই রণকৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলমান মার্কিন নৌ অবরোধও প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, খসড়া চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আগামী এক মাসের মধ্যে ইরানের তত্ত্বাবধানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেল পরিবহন পুরোদমে চালু হবে।
"আন্তর্জাতিক বাজারের ব্যবসায়ীরা এখন তেল সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির মাত্রা কমে আসায় তেলের দামের অস্থিরতা হ্রাস পেয়েছে।" — টিম ওয়াটেরার, প্রধান বাজার বিশ্লেষক, কেসিএম ট্রেড (রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকার)
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ (২০ শতাংশ) পরিবাহিত হয় এই কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত অবরুদ্ধ ছিল। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল ও গ্যাসের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়, যা আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি ও অস্থিরতা তৈরি করেছিল। দুই পরাশক্তির চুক্তি স্বাক্ষরের খবরে অবরুদ্ধ সরবরাহ চেইন পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সুনির্দিষ্ট সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তির আবহ দেখা দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন