ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি-সেভেন শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সম্মেলনের আগে রবিবার জেনেভার জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কাছাকাছি এলাকাটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশ্বের সাতটি শিল্পোন্নত দেশের এই জোটের কার্যক্রম ও নীতির প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। ‘নো জি-সেভেন’ নামক একটি জোটের আহ্বানে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল, যারা দীর্ঘদিন ধরেই এই ধনী দেশগুলোর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে আসছে।
দুপুর নাগাদ জেনেভার পার্ক মন রেপো এলাকায় বিক্ষোভকারীরা সমবেত হতে শুরু করেন। বিকেল তিনটার দিকে তারা প্লাস দে নাসিওঁ অভিমুখে মিছিল শুরু করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। বিক্ষোভকারীরা এক পর্যায়ে জাতিসংঘের টেলিযোগাযোগ সংস্থার ভবনের দিকে লক্ষ্য করে পাথর, বোতল ও আতশবাজি নিক্ষেপ করতে থাকেন। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি সংঘাতময় হয়ে ওঠে এবং পুলিশকে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে হয়। বিক্ষোভকারীরা ভবনের দিকে ফ্লেয়ার ছুড়ে মারলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। জেনেভায় এই বিক্ষোভের আগে কয়েক হাজার নিরাপত্তা কর্মীকে কঠোর সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছিল, তবুও সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়নি।
ফ্রান্সে আয়োজিত জি-সেভেন শীর্ষ সম্মেলনের মূল ভেন্যুর কাছাকাছি এলাকায় বিক্ষোভের অনুমতি না পাওয়ায় আয়োজকরা জেনেভাকে প্রতিবাদস্থল হিসেবে বেছে নেন। তবে ফ্রান্সেও একই ধরনের উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে অনুমতি ছাড়াই প্রায় ২০ হাজার মানুষ মিছিলে অংশ নেন। শুরুতে মিছিলটি শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে তা সহিংস রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় দোকানপাটের সুরক্ষা প্যানেল ভেঙে ফেলে, জানালার কাঁচ চুরমার করে এবং একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশের ওপর বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করার মধ্য দিয়ে তারা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পুঁজিবাদ, বিশ্বায়ন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোই ছিল এই বিক্ষোভকারীদের মূল লক্ষ্য। আগামী সোমবার থেকে এভিয়ানে অনুষ্ঠেয় তিন দিনের এই সম্মেলনে যোগ দিতে বিশ্বের ধনী দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা সমবেত হচ্ছেন। এবারের আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জি-সেভেন সম্মেলনকে ঘিরে এই ধরনের বিক্ষোভ নতুন কোনো বিষয় নয়, তবে এবারের ঘটনার তীব্রতা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্মেলনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখলেও জনমতের এই তীব্র বহিঃপ্রকাশ শীর্ষ নেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
সূত্র: এএফপি এবং রয়টার্স।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি-সেভেন শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সম্মেলনের আগে রবিবার জেনেভার জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কাছাকাছি এলাকাটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশ্বের সাতটি শিল্পোন্নত দেশের এই জোটের কার্যক্রম ও নীতির প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। ‘নো জি-সেভেন’ নামক একটি জোটের আহ্বানে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল, যারা দীর্ঘদিন ধরেই এই ধনী দেশগুলোর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে আসছে।
দুপুর নাগাদ জেনেভার পার্ক মন রেপো এলাকায় বিক্ষোভকারীরা সমবেত হতে শুরু করেন। বিকেল তিনটার দিকে তারা প্লাস দে নাসিওঁ অভিমুখে মিছিল শুরু করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। বিক্ষোভকারীরা এক পর্যায়ে জাতিসংঘের টেলিযোগাযোগ সংস্থার ভবনের দিকে লক্ষ্য করে পাথর, বোতল ও আতশবাজি নিক্ষেপ করতে থাকেন। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি সংঘাতময় হয়ে ওঠে এবং পুলিশকে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে হয়। বিক্ষোভকারীরা ভবনের দিকে ফ্লেয়ার ছুড়ে মারলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। জেনেভায় এই বিক্ষোভের আগে কয়েক হাজার নিরাপত্তা কর্মীকে কঠোর সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছিল, তবুও সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়নি।
ফ্রান্সে আয়োজিত জি-সেভেন শীর্ষ সম্মেলনের মূল ভেন্যুর কাছাকাছি এলাকায় বিক্ষোভের অনুমতি না পাওয়ায় আয়োজকরা জেনেভাকে প্রতিবাদস্থল হিসেবে বেছে নেন। তবে ফ্রান্সেও একই ধরনের উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে অনুমতি ছাড়াই প্রায় ২০ হাজার মানুষ মিছিলে অংশ নেন। শুরুতে মিছিলটি শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে তা সহিংস রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় দোকানপাটের সুরক্ষা প্যানেল ভেঙে ফেলে, জানালার কাঁচ চুরমার করে এবং একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশের ওপর বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করার মধ্য দিয়ে তারা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পুঁজিবাদ, বিশ্বায়ন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোই ছিল এই বিক্ষোভকারীদের মূল লক্ষ্য। আগামী সোমবার থেকে এভিয়ানে অনুষ্ঠেয় তিন দিনের এই সম্মেলনে যোগ দিতে বিশ্বের ধনী দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা সমবেত হচ্ছেন। এবারের আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জি-সেভেন সম্মেলনকে ঘিরে এই ধরনের বিক্ষোভ নতুন কোনো বিষয় নয়, তবে এবারের ঘটনার তীব্রতা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্মেলনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখলেও জনমতের এই তীব্র বহিঃপ্রকাশ শীর্ষ নেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
সূত্র: এএফপি এবং রয়টার্স।

আপনার মতামত লিখুন