দিকপাল

জার্সি পরে নামাজ আদায় কি বৈধ ইসলামি শরিয়তের স্পষ্ট ব্যাখ্যা


প্রকাশ : রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ | ১২:৩৯ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

জার্সি পরে নামাজ আদায় কি বৈধ ইসলামি শরিয়তের স্পষ্ট ব্যাখ্যা

খেলার জার্সি বা স্পোর্টস জার্সি পরে নামাজ আদায় করলে তা শুদ্ধ হবে কি না—খেলাধুলার এই মৌসুমে অনেকের মনেই এমন প্রশ্ন জাগে। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে, পোশাকটি যদি পবিত্র হয়, সতর আবৃত থাকে এবং নামাজের অন্যান্য শর্ত পূরণ হয়, তবে জার্সি পরে নামাজ আদায় করলে তা শুদ্ধ হয়ে যাবে। তবে জার্সির নকশা এবং তাতে থাকা ছবির ধরনের ওপর এর কিছু ভিন্ন বিধান রয়েছে।

ফকিহ ও ইসলামি স্কলারদের মতে, জার্সিতে যদি কোনো মানুষ কিংবা অন্য কোনো জীবন্ত প্রাণীর স্পষ্ট ছবি থাকে, তবে সেই পোশাক পরে নামাজ আদায় করা মাকরুহ (অপছন্দনীয় ও ত্রুটিপূর্ণ)। তবে ছবিটি যদি আকারে অত্যন্ত ছোট বা অস্পষ্ট হয়, যা দূর থেকে সহজে চেনা যায় না, তাহলে নামাজ মাকরুহ হবে না। অন্যদিকে, জার্সিতে যদি গাছপালা, পাহাড়, নদী বা অন্য কোনো প্রাণহীন বস্তুর ছবি বা দৃশ্য থাকে, তবে তা পরে নামাজ আদায়ে কোনো বিধি-নিষেধ নেই। (সূত্র: আল-বাহরুর রায়েক: ২/২৯, মিরকাতুল মাফাতিহ: ৪৪৮৯)

বর্তমান সময়ে ফুটবল বা ক্রিকেট জার্সিতে সাধারণত বিভিন্ন ক্লাবের নাম, লোগো, স্পনসর প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন, নম্বর কিংবা খেলোয়াড়দের নাম লেখা থাকে। আলেমদের মতে, জার্সিতে এই ধরনের সাধারণ লেখা, নম্বর বা লোগো থাকার কারণে নামাজের কোনো ক্ষতি বা সমস্যা হয় না। তবে সেই বিজ্ঞাপনে যদি কোনো অনৈতিক বার্তা, শরিয়তবিরোধী কোনো বিষয় কিংবা কোনো জীবন্ত প্রাণীর বড় অবয়ব থাকে, তবে তা অবশ্যই পরিহার করা উচিত।

নামাজের সময় পরিচ্ছন্ন, পরিপাটি ও শালীন পোশাক পরিধান করা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন, "হে বনি আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় তোমাদের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছদ গ্রহণ করো।" — সুরা আরাফ, আয়াত: ৩১।

এই আয়াতের আলোকে ফিকাহবিদরা বলেন, নামাজের জন্য সবসময় এমন পোশাক নির্বাচন করা উচিত যা ইবাদতের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফিকহের কিতাবগুলোতে উল্লেখ আছে, যে পোশাক পরে বন্ধুমহল বা সাধারণ মানুষের সামনে যেতে মানুষ সংকোচ বোধ করে, সেই পোশাক পরে মহান রবের দরবারে নামাজে দাঁড়ানো অনুচিত। (সূত্র: খুলাসাতুল ফতোয়া: ১/৫৮, আল-মুহিতুল বুরহানি: ২/১৩৯)

সার্বিকভাবে, জার্সি পরে নামাজ আদায় করলে নামাজ হয়ে যাবে। তবে নামাজের মূল লক্ষ্য যেহেতু খুশু-খুজু (একাগ্রতা) এবং আল্লাহর দরবারে হাজিরা দেওয়া, তাই নামাজের সার্বিক আদব ও মর্যাদা বজায় রাখতে যেকোনো ধরনের প্রাণীর স্পষ্ট ছবিমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও শালীন পোশাক পরিধান করাই উত্তম।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


জার্সি পরে নামাজ আদায় কি বৈধ ইসলামি শরিয়তের স্পষ্ট ব্যাখ্যা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

খেলার জার্সি বা স্পোর্টস জার্সি পরে নামাজ আদায় করলে তা শুদ্ধ হবে কি না—খেলাধুলার এই মৌসুমে অনেকের মনেই এমন প্রশ্ন জাগে। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে, পোশাকটি যদি পবিত্র হয়, সতর আবৃত থাকে এবং নামাজের অন্যান্য শর্ত পূরণ হয়, তবে জার্সি পরে নামাজ আদায় করলে তা শুদ্ধ হয়ে যাবে। তবে জার্সির নকশা এবং তাতে থাকা ছবির ধরনের ওপর এর কিছু ভিন্ন বিধান রয়েছে।

ফকিহ ও ইসলামি স্কলারদের মতে, জার্সিতে যদি কোনো মানুষ কিংবা অন্য কোনো জীবন্ত প্রাণীর স্পষ্ট ছবি থাকে, তবে সেই পোশাক পরে নামাজ আদায় করা মাকরুহ (অপছন্দনীয় ও ত্রুটিপূর্ণ)। তবে ছবিটি যদি আকারে অত্যন্ত ছোট বা অস্পষ্ট হয়, যা দূর থেকে সহজে চেনা যায় না, তাহলে নামাজ মাকরুহ হবে না। অন্যদিকে, জার্সিতে যদি গাছপালা, পাহাড়, নদী বা অন্য কোনো প্রাণহীন বস্তুর ছবি বা দৃশ্য থাকে, তবে তা পরে নামাজ আদায়ে কোনো বিধি-নিষেধ নেই। (সূত্র: আল-বাহরুর রায়েক: ২/২৯, মিরকাতুল মাফাতিহ: ৪৪৮৯)

বর্তমান সময়ে ফুটবল বা ক্রিকেট জার্সিতে সাধারণত বিভিন্ন ক্লাবের নাম, লোগো, স্পনসর প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন, নম্বর কিংবা খেলোয়াড়দের নাম লেখা থাকে। আলেমদের মতে, জার্সিতে এই ধরনের সাধারণ লেখা, নম্বর বা লোগো থাকার কারণে নামাজের কোনো ক্ষতি বা সমস্যা হয় না। তবে সেই বিজ্ঞাপনে যদি কোনো অনৈতিক বার্তা, শরিয়তবিরোধী কোনো বিষয় কিংবা কোনো জীবন্ত প্রাণীর বড় অবয়ব থাকে, তবে তা অবশ্যই পরিহার করা উচিত।

নামাজের সময় পরিচ্ছন্ন, পরিপাটি ও শালীন পোশাক পরিধান করা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন, "হে বনি আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় তোমাদের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছদ গ্রহণ করো।" — সুরা আরাফ, আয়াত: ৩১।

এই আয়াতের আলোকে ফিকাহবিদরা বলেন, নামাজের জন্য সবসময় এমন পোশাক নির্বাচন করা উচিত যা ইবাদতের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফিকহের কিতাবগুলোতে উল্লেখ আছে, যে পোশাক পরে বন্ধুমহল বা সাধারণ মানুষের সামনে যেতে মানুষ সংকোচ বোধ করে, সেই পোশাক পরে মহান রবের দরবারে নামাজে দাঁড়ানো অনুচিত। (সূত্র: খুলাসাতুল ফতোয়া: ১/৫৮, আল-মুহিতুল বুরহানি: ২/১৩৯)

সার্বিকভাবে, জার্সি পরে নামাজ আদায় করলে নামাজ হয়ে যাবে। তবে নামাজের মূল লক্ষ্য যেহেতু খুশু-খুজু (একাগ্রতা) এবং আল্লাহর দরবারে হাজিরা দেওয়া, তাই নামাজের সার্বিক আদব ও মর্যাদা বজায় রাখতে যেকোনো ধরনের প্রাণীর স্পষ্ট ছবিমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও শালীন পোশাক পরিধান করাই উত্তম।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল