যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আসন্ন কূটনৈতিক সমঝোতা বা চুক্তির বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা এই চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং একে আমেরিকার স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে অভিহিত করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় সতর্ক করে বলেছেন যে, প্রেসিডেন্ট শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি করলেও অতীতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ভঙ্গ হওয়ার ঘটনাগুলো মানুষকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই প্রশাসন অপ্রয়োজনীয় সামরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আমেরিকার সাধারণ জনগণের বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সম্ভাব্য চুক্তির সমালোচনা করে কংগ্রেসম্যান সেথ মল্টন একে একটি ‘আত্মসমর্পণের দলিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই চুক্তিটি মূলত বর্তমান প্রশাসনের দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ এবং এটি তেহরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে এক ধরনের নতিস্বীকার। মল্টনের ভাষ্যমতে, এই যুদ্ধে এরই মধ্যে আমেরিকার শত কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে এবং চৌদ্দজন মার্কিন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। অথচ বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি সমঝোতা পাচ্ছে, যা যুদ্ধের আগে এমনিতেই কার্যকর ছিল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যে পথটি আগে থেকেই খোলা ছিল, তা পুনরুদ্ধারের জন্য এত বড় মূল্য দিয়ে চুক্তির ঘোষণা দেওয়াকে কোনোভাবেই কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
অন্যদিকে, এই সমালোচনার জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের পারমাণবিক চুক্তির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ওবামার স্বাক্ষরিত সেই চুক্তিটি মূলত ইরানকে পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ার একটি সহজ সুযোগ করে দিয়েছিল, যা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য ছিল বড় ধরনের হুমকি। ট্রাম্পের ভাষায়, তার বর্তমান পরিকল্পনাটি আগের চুক্তির ঠিক বিপরীত একটি শক্ত কাঠামো। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তার প্রস্তাবিত এই নতুন রূপরেখা ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে রুখে দেওয়ার জন্য এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর হিসেবে কাজ করবে। ট্রাম্পের দাবি, তেহরান এখন বুঝতে পেরেছে যে, সামরিক বা অন্য কোনো উপায়ে তাদের পক্ষে আর পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না।
ওয়াশিংটনের এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের গৃহিত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা যখন এই চুক্তিকে প্রশাসনের ব্যর্থতা ও ভুল কৌশলের ফল হিসেবে দেখছেন, তখন রিপাবলিকান প্রশাসন এটিকে নিজেদের বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে প্রচার করছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বমুহূর্তে এই রাজনৈতিক বিতর্ক পুরো বিশ্ব পরিস্থিতির ওপর কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন বড় আলোচনার বিষয়। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে এই চুক্তির কার্যকারিতা শেষ পর্যন্ত কতটা বজায় থাকে, তা দেখার জন্য এখন বিশ্ববাসীর চোখ ওয়াশিংটনের দিকে।
সূত্র: আল জাজিরা

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আসন্ন কূটনৈতিক সমঝোতা বা চুক্তির বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা এই চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং একে আমেরিকার স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে অভিহিত করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় সতর্ক করে বলেছেন যে, প্রেসিডেন্ট শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি করলেও অতীতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ভঙ্গ হওয়ার ঘটনাগুলো মানুষকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই প্রশাসন অপ্রয়োজনীয় সামরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আমেরিকার সাধারণ জনগণের বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সম্ভাব্য চুক্তির সমালোচনা করে কংগ্রেসম্যান সেথ মল্টন একে একটি ‘আত্মসমর্পণের দলিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই চুক্তিটি মূলত বর্তমান প্রশাসনের দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ এবং এটি তেহরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে এক ধরনের নতিস্বীকার। মল্টনের ভাষ্যমতে, এই যুদ্ধে এরই মধ্যে আমেরিকার শত কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে এবং চৌদ্দজন মার্কিন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। অথচ বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি সমঝোতা পাচ্ছে, যা যুদ্ধের আগে এমনিতেই কার্যকর ছিল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যে পথটি আগে থেকেই খোলা ছিল, তা পুনরুদ্ধারের জন্য এত বড় মূল্য দিয়ে চুক্তির ঘোষণা দেওয়াকে কোনোভাবেই কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
অন্যদিকে, এই সমালোচনার জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের পারমাণবিক চুক্তির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ওবামার স্বাক্ষরিত সেই চুক্তিটি মূলত ইরানকে পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ার একটি সহজ সুযোগ করে দিয়েছিল, যা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য ছিল বড় ধরনের হুমকি। ট্রাম্পের ভাষায়, তার বর্তমান পরিকল্পনাটি আগের চুক্তির ঠিক বিপরীত একটি শক্ত কাঠামো। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তার প্রস্তাবিত এই নতুন রূপরেখা ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে রুখে দেওয়ার জন্য এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর হিসেবে কাজ করবে। ট্রাম্পের দাবি, তেহরান এখন বুঝতে পেরেছে যে, সামরিক বা অন্য কোনো উপায়ে তাদের পক্ষে আর পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না।
ওয়াশিংটনের এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের গৃহিত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা যখন এই চুক্তিকে প্রশাসনের ব্যর্থতা ও ভুল কৌশলের ফল হিসেবে দেখছেন, তখন রিপাবলিকান প্রশাসন এটিকে নিজেদের বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে প্রচার করছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বমুহূর্তে এই রাজনৈতিক বিতর্ক পুরো বিশ্ব পরিস্থিতির ওপর কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন বড় আলোচনার বিষয়। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে এই চুক্তির কার্যকারিতা শেষ পর্যন্ত কতটা বজায় থাকে, তা দেখার জন্য এখন বিশ্ববাসীর চোখ ওয়াশিংটনের দিকে।
সূত্র: আল জাজিরা

আপনার মতামত লিখুন