দিকপাল

ইউরেনিয়াম রক্ষা করতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ফাঁদ


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ | ০২:০৮ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ইউরেনিয়াম রক্ষা করতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ফাঁদ

মার্কিন সামরিক অভিযানের আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে নিজেদের পারমাণবিক কার্যক্রমের নিরাপত্তা বলয়কে আরও দুর্ভেদ্য করে তুলেছে ইরান। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, দেশটির ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনা রক্ষায় তেহরান অত্যন্ত কঠোর ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। স্থাপনাটির প্রবেশপথে মাইন পোঁতা, বুবি ট্র্যাপ (ফাঁদ) স্থাপন এবং সুড়ঙ্গ ধসিয়ে দেওয়ার মতো চরম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেখানে মজুত থাকা প্রায় আধা টন উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডারকে যেকোনো বহিঃশত্রুর হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতেই মূলত এই ব্যবস্থা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরেনিয়াম জব্দ করার জন্য সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দেওয়ার পর থেকেই তেহরান তাদের এই প্রতিরক্ষা কৌশল জোরদার করেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র এক মাস আগেও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনার পরিস্থিতি এমন ছিল না। তবে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সামরিক চাপের মুখে রাতারাতি বদলে গেছে দৃশ্যপট। এই নতুন পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য কূটনৈতিক চুক্তির পথ এখন অনেক বেশি সংকীর্ণ ও জটিল হয়ে পড়েছে।

দুই দেশের মধ্যে চলমান প্রস্তাবিত আলোচনার প্রধান শর্তই ছিল এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার অপসারণ ও ধ্বংস করা। কিন্তু নতুন করে নেওয়া এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে এখন সেই ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশন কিংবা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে চুক্তির রূপরেখা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও ইরানকে অবশ্যই তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ধ্বংস করার জন্য হস্তান্তর করতে হবে।

পরমাণু বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসফাহানের ধসে যাওয়া বা অবরুদ্ধ সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে এই অতি-তেজস্ক্রিয় উপাদান উদ্ধার করা কোনো সাধারণ কাজ নয়। এটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং বিপজ্জনক একটি প্রক্রিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা স্কট রোকার এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা উল্লেখ করে বলেন, "যদি সত্যিই সুড়ঙ্গ ধসিয়ে দিয়ে পারমাণবিক উপাদানগুলো আড়াল করা হয়ে থাকে, তবে তা অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা এক বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ। এমনকি এই পুরো প্রক্রিয়ার দায়িত্ব যদি ইরানের ওপরও অর্পণ করা হয়, তবুও ভবিষ্যতে এর স্বচ্ছতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হতে পারে।"

আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইউরেনিয়ামের বিশাল অংশ বর্তমানে ওই ধসে যাওয়া সুড়ঙ্গেই আটকা পড়ে আছে, যা নিষ্ক্রিয় করা এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য জরুরি।

এক সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী এই ইউরেনিয়াম উদ্ধারে বিশেষ কমান্ডো অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানো ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। মার্কিন সামরিক তৎপরতা থমকে যাওয়ার পর থেকেই ইরান তাদের অবস্থানে আরও অনড় ও কঠোর পরিবর্তন এনেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও একাধিকবার স্বীকার করেছেন যে, কেবল সামরিক চাপ দিয়ে ইরানকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা বা এই পারমাণবিক উপাদান উদ্ধার করা সহজ কাজ নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখছে, অন্যদিকে সামরিক চাপ মোকাবিলায় পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। ভূরাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তেহরানের এই দ্বিমুখী কৌশল তাদের আলোচনার 

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


ইউরেনিয়াম রক্ষা করতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ফাঁদ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

মার্কিন সামরিক অভিযানের আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে নিজেদের পারমাণবিক কার্যক্রমের নিরাপত্তা বলয়কে আরও দুর্ভেদ্য করে তুলেছে ইরান। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, দেশটির ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনা রক্ষায় তেহরান অত্যন্ত কঠোর ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। স্থাপনাটির প্রবেশপথে মাইন পোঁতা, বুবি ট্র্যাপ (ফাঁদ) স্থাপন এবং সুড়ঙ্গ ধসিয়ে দেওয়ার মতো চরম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেখানে মজুত থাকা প্রায় আধা টন উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডারকে যেকোনো বহিঃশত্রুর হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতেই মূলত এই ব্যবস্থা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরেনিয়াম জব্দ করার জন্য সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দেওয়ার পর থেকেই তেহরান তাদের এই প্রতিরক্ষা কৌশল জোরদার করেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র এক মাস আগেও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনার পরিস্থিতি এমন ছিল না। তবে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সামরিক চাপের মুখে রাতারাতি বদলে গেছে দৃশ্যপট। এই নতুন পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য কূটনৈতিক চুক্তির পথ এখন অনেক বেশি সংকীর্ণ ও জটিল হয়ে পড়েছে।

দুই দেশের মধ্যে চলমান প্রস্তাবিত আলোচনার প্রধান শর্তই ছিল এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার অপসারণ ও ধ্বংস করা। কিন্তু নতুন করে নেওয়া এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে এখন সেই ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশন কিংবা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে চুক্তির রূপরেখা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও ইরানকে অবশ্যই তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ধ্বংস করার জন্য হস্তান্তর করতে হবে।

পরমাণু বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসফাহানের ধসে যাওয়া বা অবরুদ্ধ সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে এই অতি-তেজস্ক্রিয় উপাদান উদ্ধার করা কোনো সাধারণ কাজ নয়। এটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং বিপজ্জনক একটি প্রক্রিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা স্কট রোকার এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা উল্লেখ করে বলেন, "যদি সত্যিই সুড়ঙ্গ ধসিয়ে দিয়ে পারমাণবিক উপাদানগুলো আড়াল করা হয়ে থাকে, তবে তা অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা এক বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ। এমনকি এই পুরো প্রক্রিয়ার দায়িত্ব যদি ইরানের ওপরও অর্পণ করা হয়, তবুও ভবিষ্যতে এর স্বচ্ছতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হতে পারে।"

আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইউরেনিয়ামের বিশাল অংশ বর্তমানে ওই ধসে যাওয়া সুড়ঙ্গেই আটকা পড়ে আছে, যা নিষ্ক্রিয় করা এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য জরুরি।

এক সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী এই ইউরেনিয়াম উদ্ধারে বিশেষ কমান্ডো অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানো ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। মার্কিন সামরিক তৎপরতা থমকে যাওয়ার পর থেকেই ইরান তাদের অবস্থানে আরও অনড় ও কঠোর পরিবর্তন এনেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও একাধিকবার স্বীকার করেছেন যে, কেবল সামরিক চাপ দিয়ে ইরানকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা বা এই পারমাণবিক উপাদান উদ্ধার করা সহজ কাজ নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখছে, অন্যদিকে সামরিক চাপ মোকাবিলায় পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। ভূরাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তেহরানের এই দ্বিমুখী কৌশল তাদের আলোচনার 


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল