সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন শত শত সাধারণ মানুষ। শনিবার স্টকহোমের ওডেনপ্ল্যান স্কোয়ারে বিভিন্ন নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ইসরাইলের চলমান সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে উত্তপ্ত স্লোগান দেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে গাজায় নিরপরাধ শিশুদের হত্যা, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোমা হামলা বন্ধ এবং লেবাননের ওপর হামলা থামানোর মতো মানবিক দাবিগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। সমাবেশ থেকে অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধ করার পাশাপাশি সুইডেন সরকারের প্রতি ইসরাইলের কাছে অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক সহায়তা বন্ধ করার কঠোর আহ্বান জানান।
এই বিক্ষোভে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইরানি বংশোদ্ভূত সুইডিশ নাগরিকও অংশ নেন। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বৈরী নীতির কড়া সমালোচনা করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান পরিস্থিতির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদাসীনতাকে দায়ী করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আজারবাইজানি বংশোদ্ভূত মানবাধিকারকর্মী আইদিন আমির হাশিমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, পশ্চিমা বিশ্বের রাজনৈতিক, নৈতিক ও আইনি সমর্থন না থাকলে ইসরাইলের পক্ষে ফিলিস্তিনিদের ওপর এতটা দীর্ঘমেয়াদী ও ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপ চালানো সম্ভব হতো না। হাশিমি আরও অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে ফিলিস্তিনপন্থী কণ্ঠস্বরকে নানাভাবে দমন করার চেষ্টা চলছে।
মানবাধিকারকর্মী হাশিমি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে ইসরাইলের নীতির সমালোচনা করা বা দেশটিকে বয়কটের ডাক দেওয়াকে আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। তবে তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন যে, সুইডেনের মাটিতে তারা এমন কোনো দমনমূলক পদক্ষেপ মেনে নেবেন না এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এমন কোনো সুপারিশ বা আইন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। বিভিন্ন ধরনের হুমকি, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং কর্মক্ষেত্রে নানা চাপের মুখেও তারা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ অব্যাহত রাখবেন বলে অঙ্গীকার করেন। স্টকহোমের এই সমাবেশটি প্রমাণ করে যে, দূরবর্তী ভৌগোলিক অবস্থান সত্ত্বেও ফিলিস্তিন ও লেবাননের মানবিক সংকটের বিষয়ে সাধারণ মানুষের বিবেক এখনো জাগ্রত এবং তারা বিশ্বনেতাদের ওপর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন শত শত সাধারণ মানুষ। শনিবার স্টকহোমের ওডেনপ্ল্যান স্কোয়ারে বিভিন্ন নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ইসরাইলের চলমান সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে উত্তপ্ত স্লোগান দেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে গাজায় নিরপরাধ শিশুদের হত্যা, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোমা হামলা বন্ধ এবং লেবাননের ওপর হামলা থামানোর মতো মানবিক দাবিগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। সমাবেশ থেকে অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধ করার পাশাপাশি সুইডেন সরকারের প্রতি ইসরাইলের কাছে অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক সহায়তা বন্ধ করার কঠোর আহ্বান জানান।
এই বিক্ষোভে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইরানি বংশোদ্ভূত সুইডিশ নাগরিকও অংশ নেন। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বৈরী নীতির কড়া সমালোচনা করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান পরিস্থিতির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদাসীনতাকে দায়ী করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আজারবাইজানি বংশোদ্ভূত মানবাধিকারকর্মী আইদিন আমির হাশিমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, পশ্চিমা বিশ্বের রাজনৈতিক, নৈতিক ও আইনি সমর্থন না থাকলে ইসরাইলের পক্ষে ফিলিস্তিনিদের ওপর এতটা দীর্ঘমেয়াদী ও ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপ চালানো সম্ভব হতো না। হাশিমি আরও অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে ফিলিস্তিনপন্থী কণ্ঠস্বরকে নানাভাবে দমন করার চেষ্টা চলছে।
মানবাধিকারকর্মী হাশিমি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে ইসরাইলের নীতির সমালোচনা করা বা দেশটিকে বয়কটের ডাক দেওয়াকে আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। তবে তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন যে, সুইডেনের মাটিতে তারা এমন কোনো দমনমূলক পদক্ষেপ মেনে নেবেন না এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এমন কোনো সুপারিশ বা আইন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। বিভিন্ন ধরনের হুমকি, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং কর্মক্ষেত্রে নানা চাপের মুখেও তারা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ অব্যাহত রাখবেন বলে অঙ্গীকার করেন। স্টকহোমের এই সমাবেশটি প্রমাণ করে যে, দূরবর্তী ভৌগোলিক অবস্থান সত্ত্বেও ফিলিস্তিন ও লেবাননের মানবিক সংকটের বিষয়ে সাধারণ মানুষের বিবেক এখনো জাগ্রত এবং তারা বিশ্বনেতাদের ওপর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আপনার মতামত লিখুন