চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসনে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দীর্ঘ তিন মাস ধরে পাকিস্তান, কাতার, মিসর ও তুরস্কের মতো দেশগুলোর নিবিড় মধ্যস্থতার ফসল হিসেবে আজ রোববার একটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে। এই চুক্তির ফলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে আঞ্চলিক শান্তি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সই হতে যাওয়া এই চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাসের জন্য বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।
লজিস্টিক সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে এই চুক্তি সই অনুষ্ঠানটি ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সফরসূচি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্রান্স সফরের প্রস্তুতি মাথায় রেখেই এই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় শান্তির এই নতুন ভোরের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, পাকিস্তান এই চুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে এবং চুক্তির পরপরই কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় এই সমঝোতাকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খুলে দেওয়া হবে। ট্রাম্প তার আগের প্রশাসনের সাথে ইরানের সম্পর্কের সমালোচনা করে বর্তমান পরিস্থিতিকে অনেক বেশি কার্যকর ও উন্নত বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি একইসঙ্গে কঠোর সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। ট্রাম্প পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, চুক্তিটি যদি দ্রুত ও মসৃণভাবে বাস্তবায়ন না হয়, তবে তিনি সামরিক শক্তি প্রয়োগে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবেন না। পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের বিষয়ে ট্রাম্প বিশেষ কিছু কৌশলগত পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
চুক্তি স্বাক্ষর পরবর্তী পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে এখন সবার নজর আগামী মঙ্গলবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জি-সেভেন সম্মেলনের দিকে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিশ্বনেতাদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে এই চুক্তি। সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া মিসর, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্প পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। যদিও সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সম্মেলনে থাকছেন না, তবুও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের অংশগ্রহণসহ আন্তর্জাতিক জোট গঠনের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এই কূটনৈতিক তৎপরতা শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ সুগম করবে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
সূত্র: অ্যাক্সিওস

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসনে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দীর্ঘ তিন মাস ধরে পাকিস্তান, কাতার, মিসর ও তুরস্কের মতো দেশগুলোর নিবিড় মধ্যস্থতার ফসল হিসেবে আজ রোববার একটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে। এই চুক্তির ফলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে আঞ্চলিক শান্তি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সই হতে যাওয়া এই চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাসের জন্য বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।
লজিস্টিক সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে এই চুক্তি সই অনুষ্ঠানটি ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সফরসূচি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্রান্স সফরের প্রস্তুতি মাথায় রেখেই এই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় শান্তির এই নতুন ভোরের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, পাকিস্তান এই চুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে এবং চুক্তির পরপরই কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় এই সমঝোতাকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খুলে দেওয়া হবে। ট্রাম্প তার আগের প্রশাসনের সাথে ইরানের সম্পর্কের সমালোচনা করে বর্তমান পরিস্থিতিকে অনেক বেশি কার্যকর ও উন্নত বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি একইসঙ্গে কঠোর সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। ট্রাম্প পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, চুক্তিটি যদি দ্রুত ও মসৃণভাবে বাস্তবায়ন না হয়, তবে তিনি সামরিক শক্তি প্রয়োগে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবেন না। পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের বিষয়ে ট্রাম্প বিশেষ কিছু কৌশলগত পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
চুক্তি স্বাক্ষর পরবর্তী পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে এখন সবার নজর আগামী মঙ্গলবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জি-সেভেন সম্মেলনের দিকে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিশ্বনেতাদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে এই চুক্তি। সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া মিসর, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্প পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। যদিও সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সম্মেলনে থাকছেন না, তবুও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের অংশগ্রহণসহ আন্তর্জাতিক জোট গঠনের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এই কূটনৈতিক তৎপরতা শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ সুগম করবে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
সূত্র: অ্যাক্সিওস

আপনার মতামত লিখুন