যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কোনো কূটনৈতিক সমঝোতা বা চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার সাথে সাথেই লেবাননজুড়ে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বৈরুতের নীতিনির্ধারক মহল এবং সাধারণ মানুষের মনে এই ভয় প্রবল হয়ে উঠেছে যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চুক্তির আবহে ইসরাইল আবারো লেবাননে বড় ধরনের প্রাণঘাতী হামলা চালাতে পারে। অতীতে যখনই তেহরান ও ওয়াশিংটন কোনো যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতায় পৌঁছানোর উদ্যোগ নিয়েছে, তখনই ইসরাইল তার সামরিক অবস্থান জানান দিতে লেবাননকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই বর্তমানের এই সম্ভাব্য কূটনৈতিক তৎপরতা লেবাননের জন্য দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অতীতের একটি ঘটনার কথা এ প্রসঙ্গে বারবার উঠে আসছে। যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে ছিল, তখন ইসরাইল কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই লেবাননের ওপর ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছিল। ইসরাইল তখন স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, লেবানন ওই চুক্তির কোনো অংশ নয় এবং তারা তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে। মাত্র দশ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননের শতাধিক স্থানে চালানো সেই হামলায় সাড়ে তিনশরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। ইসরাইলের সেই পাশবিক আগ্রাসনের উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বকে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এই বার্তা দেওয়া যে, কোনো আন্তর্জাতিক সমঝোতা বা চুক্তিই লেবাননে তাদের সামরিক তৎপরতাকে থামাতে পারবে না।
বর্তমান বাস্তবতায় লেবাননের শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে। ইসরাইল এবারও তাদের আগের অবস্থানেই অটল রয়েছে। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ইরান বা অন্য কোনো দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি হলেও তারা লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না এবং কোনো যুদ্ধবিরতির শর্ত তাদের ওপর কার্যকর হবে না। মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতিও এই ভয়ের সত্যতা নিশ্চিত করছে। ইসরাইলি বাহিনী বর্তমানে লেবাননের নাবাতিহ শহরের দিকে ক্রমশ অগ্রসর হচ্ছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উঁচু জায়গাগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, বাধ্য হয়ে লেবাননের সরকারি বাহিনীকে নাবাতিহ জেলা এবং এর আশেপাশের বিভিন্ন অবস্থান থেকে সরে আসতে দেখা গেছে।
লেবাননের সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন, ইসরাইল কি কোনো বড় ধরনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগেই চূড়ান্ত কোনো সামরিক আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে? অনেকের আশঙ্কা, নিজেদের প্রভাব বলয় ধরে রাখতে এবং চুক্তির শর্তাবলী অগ্রাহ্য করতে ইসরাইল লেবাননে বড় কোনো উসকানি তৈরি করতে পারে অথবা নতুন কোনো ভূখণ্ড দখলের জন্য বড় আকারের অভিযান শুরু করতে পারে। কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে যখন শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে, ঠিক সেই সময়ে ইসরাইলের এই আগ্রাসী ভূমিকা পুরো অঞ্চলকে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। লেবাননের রাজনৈতিক ও সামরিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে, ওয়াশিংটন যদি লেবাননের নিরাপত্তা ও ইসরাইলের এই একগুঁয়েমি নিয়ে কঠোর অবস্থান না নেয়, তবে বর্তমান অস্থিরতা এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের রূপ নিতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কোনো কূটনৈতিক সমঝোতা বা চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার সাথে সাথেই লেবাননজুড়ে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বৈরুতের নীতিনির্ধারক মহল এবং সাধারণ মানুষের মনে এই ভয় প্রবল হয়ে উঠেছে যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চুক্তির আবহে ইসরাইল আবারো লেবাননে বড় ধরনের প্রাণঘাতী হামলা চালাতে পারে। অতীতে যখনই তেহরান ও ওয়াশিংটন কোনো যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতায় পৌঁছানোর উদ্যোগ নিয়েছে, তখনই ইসরাইল তার সামরিক অবস্থান জানান দিতে লেবাননকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই বর্তমানের এই সম্ভাব্য কূটনৈতিক তৎপরতা লেবাননের জন্য দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অতীতের একটি ঘটনার কথা এ প্রসঙ্গে বারবার উঠে আসছে। যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে ছিল, তখন ইসরাইল কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই লেবাননের ওপর ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছিল। ইসরাইল তখন স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, লেবানন ওই চুক্তির কোনো অংশ নয় এবং তারা তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে। মাত্র দশ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননের শতাধিক স্থানে চালানো সেই হামলায় সাড়ে তিনশরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। ইসরাইলের সেই পাশবিক আগ্রাসনের উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বকে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এই বার্তা দেওয়া যে, কোনো আন্তর্জাতিক সমঝোতা বা চুক্তিই লেবাননে তাদের সামরিক তৎপরতাকে থামাতে পারবে না।
বর্তমান বাস্তবতায় লেবাননের শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে। ইসরাইল এবারও তাদের আগের অবস্থানেই অটল রয়েছে। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ইরান বা অন্য কোনো দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি হলেও তারা লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না এবং কোনো যুদ্ধবিরতির শর্ত তাদের ওপর কার্যকর হবে না। মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতিও এই ভয়ের সত্যতা নিশ্চিত করছে। ইসরাইলি বাহিনী বর্তমানে লেবাননের নাবাতিহ শহরের দিকে ক্রমশ অগ্রসর হচ্ছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উঁচু জায়গাগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, বাধ্য হয়ে লেবাননের সরকারি বাহিনীকে নাবাতিহ জেলা এবং এর আশেপাশের বিভিন্ন অবস্থান থেকে সরে আসতে দেখা গেছে।
লেবাননের সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন, ইসরাইল কি কোনো বড় ধরনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগেই চূড়ান্ত কোনো সামরিক আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে? অনেকের আশঙ্কা, নিজেদের প্রভাব বলয় ধরে রাখতে এবং চুক্তির শর্তাবলী অগ্রাহ্য করতে ইসরাইল লেবাননে বড় কোনো উসকানি তৈরি করতে পারে অথবা নতুন কোনো ভূখণ্ড দখলের জন্য বড় আকারের অভিযান শুরু করতে পারে। কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে যখন শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে, ঠিক সেই সময়ে ইসরাইলের এই আগ্রাসী ভূমিকা পুরো অঞ্চলকে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। লেবাননের রাজনৈতিক ও সামরিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে, ওয়াশিংটন যদি লেবাননের নিরাপত্তা ও ইসরাইলের এই একগুঁয়েমি নিয়ে কঠোর অবস্থান না নেয়, তবে বর্তমান অস্থিরতা এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের রূপ নিতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা

আপনার মতামত লিখুন