দিকপাল

পরমাণু অস্ত্রের পথ রুদ্ধ করতেই ইরানের সঙ্গে চুক্তি: ট্রাম্প


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ | ০৯:০২ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

পরমাণু অস্ত্রের পথ রুদ্ধ করতেই ইরানের সঙ্গে চুক্তি: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে নতুন একটি পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে সম্প্রতি বেশ সরব হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, তার প্রস্তাবিত এই নতুন রূপরেখাটি তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দৌড় থেকে স্থায়ীভাবে নিবৃত্ত করবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে স্বাক্ষরিত ২০১৫ সালের ‘জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ বা জেসিপিওএ-র কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ওই পুরনো চুক্তিটি ছিল মূলত ইরানকে পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ার একটি সহজ পথ তৈরি করে দেওয়ার শামিল। নিজের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি সেই দুর্বলতার ঠিক বিপরীত মেরুতে অবস্থান করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ওবামার আমলে ইরানের সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছিল, সেখানে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের বিষয়টি ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমানের নতুন এই পরিকল্পনায় ইরানকে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা বা প্রণোদনা দেওয়া হবে না। তার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, এই পুরো বিষয়টি ‘সুযোগের বিনিময়ে সম্মতি’ এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে। অর্থাৎ, তেহরান যদি চুক্তির শর্তাবলি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে তা যাচাই করার সুযোগ দেয়, কেবল তখনই তারা ভবিষ্যতের কোনো অর্থনৈতিক সুবিধার কথা ভাবতে পারবে। এর আগে কোনো ধরনের অগ্রিম অর্থ প্রদানের সুযোগ নেই।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে এনে এমন একটি কঠোর কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে, যা গতানুগতিক কূটনৈতিক আলোচনার চেয়ে অনেকটাই ভিন্ন। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে রেখে তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করা। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি কতটা সফল হবে বা ইরান এই নতুন শর্ত মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তেহরান এই নতুন এবং চ্যালেঞ্জিং প্রস্তাবের বিপরীতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


পরমাণু অস্ত্রের পথ রুদ্ধ করতেই ইরানের সঙ্গে চুক্তি: ট্রাম্প

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

ইরানের সঙ্গে নতুন একটি পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে সম্প্রতি বেশ সরব হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, তার প্রস্তাবিত এই নতুন রূপরেখাটি তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দৌড় থেকে স্থায়ীভাবে নিবৃত্ত করবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে স্বাক্ষরিত ২০১৫ সালের ‘জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ বা জেসিপিওএ-র কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ওই পুরনো চুক্তিটি ছিল মূলত ইরানকে পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ার একটি সহজ পথ তৈরি করে দেওয়ার শামিল। নিজের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি সেই দুর্বলতার ঠিক বিপরীত মেরুতে অবস্থান করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ওবামার আমলে ইরানের সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছিল, সেখানে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের বিষয়টি ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমানের নতুন এই পরিকল্পনায় ইরানকে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা বা প্রণোদনা দেওয়া হবে না। তার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, এই পুরো বিষয়টি ‘সুযোগের বিনিময়ে সম্মতি’ এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে। অর্থাৎ, তেহরান যদি চুক্তির শর্তাবলি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে তা যাচাই করার সুযোগ দেয়, কেবল তখনই তারা ভবিষ্যতের কোনো অর্থনৈতিক সুবিধার কথা ভাবতে পারবে। এর আগে কোনো ধরনের অগ্রিম অর্থ প্রদানের সুযোগ নেই।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে এনে এমন একটি কঠোর কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে, যা গতানুগতিক কূটনৈতিক আলোচনার চেয়ে অনেকটাই ভিন্ন। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে রেখে তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করা। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি কতটা সফল হবে বা ইরান এই নতুন শর্ত মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তেহরান এই নতুন এবং চ্যালেঞ্জিং প্রস্তাবের বিপরীতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল