বিশ্বজুড়ে ইরানকে একটি নতুন হুমকির উৎস হিসেবে আখ্যা দিয়ে কয়েকটি দেশের দেওয়া যৌথ বিবৃতির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। এই যৌথ বিবৃতিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং চরম রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্র মন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ইরানের উপপররাষ্ট্র মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অভিযোগকারী দেশগুলোর দ্বিমুখী নীতি ও অতীত কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যে দেশগুলো আজ ইরানের দিকে আঙুল তুলছে, তাদের নিজেদের ইতিহাসই আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনায় ভরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সামরিক আগ্রাসনে উসকানি দেওয়া, মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদত দেওয়া এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের চালানো নৃশংসতাকে নিঃশর্ত ছাড় দেওয়ার পেছনে এই দেশগুলোর প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। ফলে যাদের নিজেদের রেকর্ড এতটা প্রশ্নবিদ্ধ, তাদের ইরানের মতো একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নৈতিক বা আইনি অভিযোগ তোলার অধিকার নেই।
কাজেম গারিবাবাদি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ব্যর্থতা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো অবৈধ দখলদারিত্ব ও আগ্রাসন থেকে বিশ্ববাসীর মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতেই ইরানকে এভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এই ভিত্তিহীন দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে।
তেহরানের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানানো হয়, ইরান সবসময়ই আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গুপ্তহত্যা, অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা যেকোনো সহিংস আক্রমণাত্মক প্রচেষ্টাকে ইরান কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তৈরি এই যৌথ বিবৃতির কোনো আইনি বা যৌক্তিক ভিত্তি নেই।
বিবৃতির শেষাংশে কাজেম গারিবাবাদি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে কোনো অবস্থাতেই আপস করা হবে না। যেকোনো ধরনের অযৌক্তিক চাপ প্রয়োগ বা অপতৎপরতার বিরুদ্ধে তেহরান চুপ করে থাকবে না। দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে যেকোনো বৈরী আচরণের সমুচিত ও আনুপাতিক জবাব দিতে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে পশ্চিমা দেশগুলো তেহরানের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার অভিযোগ এনে নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল নিয়েছে। অন্যদিকে ইরান বরাবরই এই ধরনের অভিযোগকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ চরিতার্থ করার প্রচেষ্টা হিসেবে দাবি করে আসছে। উপপররাষ্ট্র মন্ত্রীর এই সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি মূলত পশ্চিমা জোটের সেই ধারাবাহিক চাপের বিরুদ্ধে ইরানের কঠোর ও অনমনীয় অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
বিশ্বজুড়ে ইরানকে একটি নতুন হুমকির উৎস হিসেবে আখ্যা দিয়ে কয়েকটি দেশের দেওয়া যৌথ বিবৃতির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। এই যৌথ বিবৃতিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং চরম রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্র মন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ইরানের উপপররাষ্ট্র মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অভিযোগকারী দেশগুলোর দ্বিমুখী নীতি ও অতীত কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যে দেশগুলো আজ ইরানের দিকে আঙুল তুলছে, তাদের নিজেদের ইতিহাসই আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনায় ভরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সামরিক আগ্রাসনে উসকানি দেওয়া, মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদত দেওয়া এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের চালানো নৃশংসতাকে নিঃশর্ত ছাড় দেওয়ার পেছনে এই দেশগুলোর প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। ফলে যাদের নিজেদের রেকর্ড এতটা প্রশ্নবিদ্ধ, তাদের ইরানের মতো একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নৈতিক বা আইনি অভিযোগ তোলার অধিকার নেই।
কাজেম গারিবাবাদি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ব্যর্থতা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো অবৈধ দখলদারিত্ব ও আগ্রাসন থেকে বিশ্ববাসীর মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতেই ইরানকে এভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এই ভিত্তিহীন দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে।
তেহরানের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানানো হয়, ইরান সবসময়ই আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গুপ্তহত্যা, অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা যেকোনো সহিংস আক্রমণাত্মক প্রচেষ্টাকে ইরান কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তৈরি এই যৌথ বিবৃতির কোনো আইনি বা যৌক্তিক ভিত্তি নেই।
বিবৃতির শেষাংশে কাজেম গারিবাবাদি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে কোনো অবস্থাতেই আপস করা হবে না। যেকোনো ধরনের অযৌক্তিক চাপ প্রয়োগ বা অপতৎপরতার বিরুদ্ধে তেহরান চুপ করে থাকবে না। দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে যেকোনো বৈরী আচরণের সমুচিত ও আনুপাতিক জবাব দিতে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে পশ্চিমা দেশগুলো তেহরানের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার অভিযোগ এনে নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল নিয়েছে। অন্যদিকে ইরান বরাবরই এই ধরনের অভিযোগকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ চরিতার্থ করার প্রচেষ্টা হিসেবে দাবি করে আসছে। উপপররাষ্ট্র মন্ত্রীর এই সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি মূলত পশ্চিমা জোটের সেই ধারাবাহিক চাপের বিরুদ্ধে ইরানের কঠোর ও অনমনীয় অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ।

আপনার মতামত লিখুন