দিকপাল

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হয়ে ইতিহাস গড়লেন ইলন মাস্ক


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ | ০৪:০২ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হয়ে ইতিহাস গড়লেন ইলন মাস্ক

বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এক ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মাইলফলক স্পর্শ করে নতুন ইতিহাস গড়লেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। গত ১২ জুন ২০২৬, শুক্রবার তার মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এই অভূতপূর্ব অর্জনের খবরটি নিশ্চিত করা হয়। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্সসহ বিশ্বের প্রধান আর্থিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

ইলন মাস্কের এই বিশাল সম্পদের সিংহভাগই এসেছে স্পেসএক্সে তার অংশীদারিত্ব থেকে। শুক্রবার স্পেসএক্স যখন শেয়ারবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও সম্পন্ন করে, তখন এর শেয়ারের দাম প্রত্যাশার চেয়েও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। প্রতিষ্ঠানটিতে মাস্কের প্রায় ৪২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮৬৬ বিলিয়ন ডলার। এর পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলায় তার ১২ শতাংশ শেয়ারের মূল্য প্রায় ২৮৪ বিলিয়ন ডলার। মূলত এই দুই প্রতিষ্ঠানের আকাশচুম্বী সাফল্যের ওপর ভর করেই তিনি বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে নিজের নাম লেখালেন।

মাস্কের এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছানোর যাত্রাটি মোটেও মসৃণ ছিল না। মাত্র কয়েক বছর আগেও তার সম্পদ বর্তমানের তুলনায় অনেক কম ছিল। ২০২০ সালের শুরুর দিকে তার সম্পদের পরিমাণ ছিল মাত্র ২৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর টেসলা ও স্পেসএক্সের অতিমানবীয় প্রবৃদ্ধির কারণে তার সম্পদ বিস্ময়কর গতিতে বাড়তে থাকে। তবে এই দীর্ঘ যাত্রায় বিভিন্ন সময় প্রযুক্তি খাতের মন্দা এবং শেয়ারবাজারের অস্থিরতার কারণে তাকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কাও সামলাতে হয়েছে। সব বাধা অতিক্রম করে প্রতিবারই তিনি দ্বিগুণ শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।

বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেরদের তালিকায় মাস্ক এখন অন্য সবার থেকে যোজন যোজন এগিয়ে। তার মোট সম্পদের পরিমাণ গুগল, অ্যামাজন এবং ওরাকলের মতো বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাদের সম্মিলিত সম্পদের চেয়েও বেশি।

মাস্কের এই বিশাল সাম্রাজ্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে তার দূরদর্শী ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি—যার মধ্যে রয়েছে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্স-এআই, নিউরালিংক এবং দ্য বোরিং কোম্পানি। যদিও এই কোম্পানিগুলোর অনেকগুলোই এখনো পূর্ণ মুনাফায় পৌঁছাতে পারেনি, তবুও বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা মাস্কের নেতৃত্বের ওপর বিপুল আস্থা রাখছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হয়ে ইতিহাস গড়লেন ইলন মাস্ক

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image

বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এক ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মাইলফলক স্পর্শ করে নতুন ইতিহাস গড়লেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। গত ১২ জুন ২০২৬, শুক্রবার তার মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এই অভূতপূর্ব অর্জনের খবরটি নিশ্চিত করা হয়। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্সসহ বিশ্বের প্রধান আর্থিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

ইলন মাস্কের এই বিশাল সম্পদের সিংহভাগই এসেছে স্পেসএক্সে তার অংশীদারিত্ব থেকে। শুক্রবার স্পেসএক্স যখন শেয়ারবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও সম্পন্ন করে, তখন এর শেয়ারের দাম প্রত্যাশার চেয়েও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। প্রতিষ্ঠানটিতে মাস্কের প্রায় ৪২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮৬৬ বিলিয়ন ডলার। এর পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলায় তার ১২ শতাংশ শেয়ারের মূল্য প্রায় ২৮৪ বিলিয়ন ডলার। মূলত এই দুই প্রতিষ্ঠানের আকাশচুম্বী সাফল্যের ওপর ভর করেই তিনি বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে নিজের নাম লেখালেন।

মাস্কের এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছানোর যাত্রাটি মোটেও মসৃণ ছিল না। মাত্র কয়েক বছর আগেও তার সম্পদ বর্তমানের তুলনায় অনেক কম ছিল। ২০২০ সালের শুরুর দিকে তার সম্পদের পরিমাণ ছিল মাত্র ২৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর টেসলা ও স্পেসএক্সের অতিমানবীয় প্রবৃদ্ধির কারণে তার সম্পদ বিস্ময়কর গতিতে বাড়তে থাকে। তবে এই দীর্ঘ যাত্রায় বিভিন্ন সময় প্রযুক্তি খাতের মন্দা এবং শেয়ারবাজারের অস্থিরতার কারণে তাকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কাও সামলাতে হয়েছে। সব বাধা অতিক্রম করে প্রতিবারই তিনি দ্বিগুণ শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।

বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেরদের তালিকায় মাস্ক এখন অন্য সবার থেকে যোজন যোজন এগিয়ে। তার মোট সম্পদের পরিমাণ গুগল, অ্যামাজন এবং ওরাকলের মতো বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাদের সম্মিলিত সম্পদের চেয়েও বেশি।

মাস্কের এই বিশাল সাম্রাজ্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে তার দূরদর্শী ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি—যার মধ্যে রয়েছে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্স-এআই, নিউরালিংক এবং দ্য বোরিং কোম্পানি। যদিও এই কোম্পানিগুলোর অনেকগুলোই এখনো পূর্ণ মুনাফায় পৌঁছাতে পারেনি, তবুও বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা মাস্কের নেতৃত্বের ওপর বিপুল আস্থা রাখছেন।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল