ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্য আফ্রিকার চরম অস্থিতিশীল দেশ মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে স্থানান্তরের এক নজিরবিহীন ও বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন। মার্কিন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত দুজন আইনজীবীর বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এই তালিকায় এমন অনেক বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যারা নিজ দেশে ফেরত গেলে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, নির্যাতন কিংবা জীবননাশের চরম ঝুঁকিতে পড়বেন।
আইনজীবী এমিলি ট্রস্টলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই তালিকায় থাকা ইরানি নাগরিকদের মধ্যে দুজন নারী রয়েছেন, যাদের একজন খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন এবং অন্যজন গণতন্ত্রপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। নিজ দেশে ফিরে গেলে তাদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত একটি গোপন চুক্তির আওতায় তৃতীয় দেশে বিতর্কিত অভিবাসীদের পাঠানোর এই প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, প্রথম দফায় প্রায় ২০ জন অভিবাসীকে নিয়ে একটি বিশেষ ফ্লাইট যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দর ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মধ্যে ইরান ছাড়াও সিরিয়া ও আফগানিস্তানের নাগরিকরা রয়েছেন।
এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, তালিকায় থাকা অনেক অভিবাসীই মার্কিন আদালতে ‘উইথহোল্ডিং অব রিমুভাল’ বা দেশ থেকে অপসারণ স্থগিতের আইনি সুরক্ষা পেয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে এমন দেশে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো নিষিদ্ধ যেখানে তার ওপর নির্যাতন বা নিপীড়নের সুস্পষ্ট আশঙ্কা থাকে। মার্কিন প্রশাসন তাদের সরাসরি নিজ দেশে না পাঠিয়ে তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের মাধ্যমে এই আইনি সুরক্ষাকবচকে এড়িয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আইনি পরামর্শদাতারা জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই এই বিশেষ ফ্লাইটটি রওনা হওয়ার কথা রয়েছে, যার মধ্যে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হওয়া একজন তুর্কি নাগরিকও থাকতে পারেন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই চুক্তির স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে। তাদের মতে, কোনো প্রকার প্রকাশ্য আলোচনা ছাড়াই সম্পূর্ণ গোপনে এ ধরনের চুক্তি সম্পাদন এবং আশ্রয়প্রার্থীদের জীবনযাত্রার ঝুঁকি বিবেচনা না করা অত্যন্ত দুঃখজনক।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, স্থানান্তরিত অভিবাসীদের মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বাঙ্গুইয়ের একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হবে এবং তাদের সরাসরি নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে না। তবে মানবাধিকার কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘমেয়াদে শত শত অভিবাসীকে এভাবে স্থানান্তর করা হলে তাদের মৌলিক অধিকার মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হতে পারে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে চরম অস্থিতিশীল এবং নিজস্ব সংকটে জর্জরিত মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে এই অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে জোরালো সংশয় দেখা দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্য আফ্রিকার চরম অস্থিতিশীল দেশ মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে স্থানান্তরের এক নজিরবিহীন ও বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন। মার্কিন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত দুজন আইনজীবীর বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এই তালিকায় এমন অনেক বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যারা নিজ দেশে ফেরত গেলে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, নির্যাতন কিংবা জীবননাশের চরম ঝুঁকিতে পড়বেন।
আইনজীবী এমিলি ট্রস্টলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই তালিকায় থাকা ইরানি নাগরিকদের মধ্যে দুজন নারী রয়েছেন, যাদের একজন খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন এবং অন্যজন গণতন্ত্রপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। নিজ দেশে ফিরে গেলে তাদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত একটি গোপন চুক্তির আওতায় তৃতীয় দেশে বিতর্কিত অভিবাসীদের পাঠানোর এই প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, প্রথম দফায় প্রায় ২০ জন অভিবাসীকে নিয়ে একটি বিশেষ ফ্লাইট যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দর ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মধ্যে ইরান ছাড়াও সিরিয়া ও আফগানিস্তানের নাগরিকরা রয়েছেন।
এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, তালিকায় থাকা অনেক অভিবাসীই মার্কিন আদালতে ‘উইথহোল্ডিং অব রিমুভাল’ বা দেশ থেকে অপসারণ স্থগিতের আইনি সুরক্ষা পেয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে এমন দেশে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো নিষিদ্ধ যেখানে তার ওপর নির্যাতন বা নিপীড়নের সুস্পষ্ট আশঙ্কা থাকে। মার্কিন প্রশাসন তাদের সরাসরি নিজ দেশে না পাঠিয়ে তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের মাধ্যমে এই আইনি সুরক্ষাকবচকে এড়িয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আইনি পরামর্শদাতারা জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই এই বিশেষ ফ্লাইটটি রওনা হওয়ার কথা রয়েছে, যার মধ্যে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হওয়া একজন তুর্কি নাগরিকও থাকতে পারেন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই চুক্তির স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে। তাদের মতে, কোনো প্রকার প্রকাশ্য আলোচনা ছাড়াই সম্পূর্ণ গোপনে এ ধরনের চুক্তি সম্পাদন এবং আশ্রয়প্রার্থীদের জীবনযাত্রার ঝুঁকি বিবেচনা না করা অত্যন্ত দুঃখজনক।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, স্থানান্তরিত অভিবাসীদের মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বাঙ্গুইয়ের একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হবে এবং তাদের সরাসরি নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে না। তবে মানবাধিকার কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘমেয়াদে শত শত অভিবাসীকে এভাবে স্থানান্তর করা হলে তাদের মৌলিক অধিকার মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হতে পারে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে চরম অস্থিতিশীল এবং নিজস্ব সংকটে জর্জরিত মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে এই অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে জোরালো সংশয় দেখা দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স

আপনার মতামত লিখুন