দিকপাল

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে ইরানকে বিপুল অর্থ দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ | ০৩:০২ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে ইরানকে বিপুল অর্থ দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টির পর সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড় করতে সম্মত হয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, ইরানের তরফ থেকে আর কোনো হামলা চালানো হবে না—এমন শর্তের ভিত্তিতেই এই গোপন সমঝোতায় পৌঁছেছে দেশ দুটি। মূলত দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ঝুঁকি এড়াতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে আমিরাত এই কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল চারটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত এরই মধ্যে ইরানকে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মধ্যে তিন বিলিয়ন ডলার ইতোমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে কিছু সূত্রের দাবি, সব মিলিয়ে এই অর্থের পরিমাণ শেষ পর্যন্ত ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই বিশাল অংকের অর্থ আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে, নাকি বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের নিজস্ব পাওনা অর্থ ছাড় করা হচ্ছে—তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে আমিরাতের একজন কর্মকর্তা কেবল জানিয়েছেন, বর্তমান উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি ও স্থায়িত্ব ফিরিয়ে আনাই তাদের মূল লক্ষ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতাটি এমন এক চতুর কৌশলে সাজানো হয়েছে যেন এতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় দাবি করতে পারে। একদিকে ইরান দাবি করতে পারবে যে তারা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির বড় একটি অংশ আদায় করতে সক্ষম হয়েছে; অন্যদিকে ওয়াশিংটনও বিশ্ববাসীর সামনে বলতে পারবে যে মার্কিন প্রশাসন সরাসরি ইরানকে কোনো আর্থিক সুবিধা প্রদান করেনি। কার্যত, এই সমঝোতার মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সরাসরি সংঘাতকে একটি নিরাপদ দূরত্বের মধ্যে রাখার চেষ্টা চলছে।

এই আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে ইরান তার সামরিক বাহিনীকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধ রাখার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে। শুধু তাই নয়, এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে গড়ার পথও প্রশস্ত হয়েছে।

সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, এখন থেকে দুই দেশ নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একত্রে কাজ করবে। এই উদ্যোগটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে সংঘাতের চেয়ে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সমঝোতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে ইরানকে বিপুল অর্থ দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টির পর সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড় করতে সম্মত হয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, ইরানের তরফ থেকে আর কোনো হামলা চালানো হবে না—এমন শর্তের ভিত্তিতেই এই গোপন সমঝোতায় পৌঁছেছে দেশ দুটি। মূলত দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ঝুঁকি এড়াতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে আমিরাত এই কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল চারটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত এরই মধ্যে ইরানকে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মধ্যে তিন বিলিয়ন ডলার ইতোমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে কিছু সূত্রের দাবি, সব মিলিয়ে এই অর্থের পরিমাণ শেষ পর্যন্ত ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই বিশাল অংকের অর্থ আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে, নাকি বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের নিজস্ব পাওনা অর্থ ছাড় করা হচ্ছে—তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে আমিরাতের একজন কর্মকর্তা কেবল জানিয়েছেন, বর্তমান উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি ও স্থায়িত্ব ফিরিয়ে আনাই তাদের মূল লক্ষ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতাটি এমন এক চতুর কৌশলে সাজানো হয়েছে যেন এতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় দাবি করতে পারে। একদিকে ইরান দাবি করতে পারবে যে তারা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির বড় একটি অংশ আদায় করতে সক্ষম হয়েছে; অন্যদিকে ওয়াশিংটনও বিশ্ববাসীর সামনে বলতে পারবে যে মার্কিন প্রশাসন সরাসরি ইরানকে কোনো আর্থিক সুবিধা প্রদান করেনি। কার্যত, এই সমঝোতার মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সরাসরি সংঘাতকে একটি নিরাপদ দূরত্বের মধ্যে রাখার চেষ্টা চলছে।

এই আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে ইরান তার সামরিক বাহিনীকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধ রাখার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে। শুধু তাই নয়, এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে গড়ার পথও প্রশস্ত হয়েছে।

সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, এখন থেকে দুই দেশ নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একত্রে কাজ করবে। এই উদ্যোগটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে সংঘাতের চেয়ে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সমঝোতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল