ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনে এবং দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পথ সুগম করতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্য। শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে এই তিনটি দেশ যৌথভাবে প্রায় চার মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ তহবিল চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। এই যৌথ উদ্যোগের আওতায় প্রতিটি দেশ সমানভাবে এক দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ডলার করে অনুদান প্রদান করবে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, সম্প্রতি ঘোষিত এই তহবিলটি মূলত তৃণমূল পর্যায়ের নতুন ও চলমান শান্তি প্রকল্পগুলোর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। বিশেষ করে যুবগোষ্ঠী, বিভিন্ন নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং নারীদের অংশগ্রহণে পরিচালিত উদ্যোগগুলোকে এই তহবিলের আওতায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের অবসানে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরির লক্ষ্যেই মূলত এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি এমন এক সংকটময় সময়ে গৃহীত হলো, যখন উক্ত তিনটি দেশ ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়ের সঙ্গে মিলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় যারা অর্থায়ন করছে এবং যারা এসব কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সহায়তা করছে, তাদের সেই নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মূলত পশ্চিম তীরে রেকর্ড পরিমাণ অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলিদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও নিপীড়নের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমা দেশগুলো এই কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর এই ধরনের অন্যায় আচরণ এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, যার ফলে পশ্চিমা শক্তিগুলো শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে নতুন এই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হয়েছে।
এই উদ্যোগের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এক বিবৃতিতে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, ন্যায়বিচার এবং নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি হলো দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান। তার মতে, ইসরায়েল রাষ্ট্রের পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা সফল করতে এই শান্তি তহবিল একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই অঞ্চলটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্মিলিত আর্থিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান উদ্বেগেরই প্রতিফলন। সংঘাতের পথ থেকে সরে এসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য এটি একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ এবং মাঠ পর্যায়ে শান্তি প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের ওপর।
সূত্র: আল জাজিরা ।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনে এবং দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পথ সুগম করতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্য। শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে এই তিনটি দেশ যৌথভাবে প্রায় চার মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ তহবিল চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। এই যৌথ উদ্যোগের আওতায় প্রতিটি দেশ সমানভাবে এক দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ডলার করে অনুদান প্রদান করবে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, সম্প্রতি ঘোষিত এই তহবিলটি মূলত তৃণমূল পর্যায়ের নতুন ও চলমান শান্তি প্রকল্পগুলোর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। বিশেষ করে যুবগোষ্ঠী, বিভিন্ন নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং নারীদের অংশগ্রহণে পরিচালিত উদ্যোগগুলোকে এই তহবিলের আওতায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের অবসানে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরির লক্ষ্যেই মূলত এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি এমন এক সংকটময় সময়ে গৃহীত হলো, যখন উক্ত তিনটি দেশ ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়ের সঙ্গে মিলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় যারা অর্থায়ন করছে এবং যারা এসব কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সহায়তা করছে, তাদের সেই নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মূলত পশ্চিম তীরে রেকর্ড পরিমাণ অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলিদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও নিপীড়নের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমা দেশগুলো এই কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর এই ধরনের অন্যায় আচরণ এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, যার ফলে পশ্চিমা শক্তিগুলো শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে নতুন এই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হয়েছে।
এই উদ্যোগের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এক বিবৃতিতে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, ন্যায়বিচার এবং নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি হলো দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান। তার মতে, ইসরায়েল রাষ্ট্রের পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা সফল করতে এই শান্তি তহবিল একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই অঞ্চলটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্মিলিত আর্থিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান উদ্বেগেরই প্রতিফলন। সংঘাতের পথ থেকে সরে এসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য এটি একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ এবং মাঠ পর্যায়ে শান্তি প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের ওপর।
সূত্র: আল জাজিরা ।

আপনার মতামত লিখুন