দিকপাল

মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা!


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ | ০৪:১৪ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা!

বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে সংবেদনশীল অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্যে পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা এখন এক নতুন ও অত্যন্ত বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে। দুই দেশের উগ্র সংঘাতের জেরে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালির কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক রাডার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এক শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এই হামলার ক্ষত শুকানোর আগেই ইরানের পক্ষ থেকে এক রক্তক্ষয়ী ও ভয়াবহ পালটা হামলার দাবি করা হয়েছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এক নজিরবিহীন ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধাবস্থার জন্ম দিয়েছে।

এই আকস্মিক ও তীব্র সংঘাতের নেপথ্য কারণ স্পষ্ট করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাত্র এক দিন আগে ইরানের সামরিক বাহিনী অত্যন্ত অন্যায়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক সামরিক হেলিকপ্টার আকাশেই ভূপাতিত করেছিল। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে তাদের আকাশযানের ওপর চালানো এই ধৃষ্টতাপূর্ণ আক্রমণের মোক্ষম জবাব দিতেই ওয়াশিংটন অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে ইরানের মূল ভূখণ্ডের ভেতরের সামরিক অবকাঠামোগুলো ধ্বংস করতে এই আগ্রাসী অভিযান পরিচালনা করেছে।

মার্কিন যুদ্ধবিমানের এই ভারী বোমা হামলার পর পরই তেহরানের পক্ষ থেকে যেকোনো মূল্যে সর্বোচ্চ এবং কঠোরতম প্রতিশোধ নেওয়ার তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। এই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইরানের শক্তিশালী ও এলিট সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি বিশ্ববাসীকে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করে জানায়। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, জর্ডানের মাটিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বড় সামরিক ঘাঁটির ওপর তারা একযোগে একাধিক দূরপাল্লার শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। আইআরজিসির প্রকাশিত বিবরণী অনুযায়ী, এই নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল মার্কিন বিমান বাহিনীর অত্যন্ত দামি ও আধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের সুরক্ষিত আশ্রয়স্থল বা হ্যাঙ্গার এবং তাদের মূল সামরিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার। তবে ইরানের এই ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মার্কিন ঘাঁটিতে ঠিক কী ধরনের সামরিক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিংবা কতজন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াশিংটন বা স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এই অভাবনীয় পাল্টাপাল্টি রক্তক্ষয়ী হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় প্রতিটি দেশেই সর্বোচ্চ সামরিক সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সবকটি রাষ্ট্রকে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি যেভাবে জ্যামিতিক হারে অবনতি হচ্ছে, তাতে করে এই সংঘাত কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এক বিধ্বংসী আঞ্চলিক মহাযুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির মারাত্মক আঁচ লেগেছে পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। কুয়েতের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের সীমান্ত লক্ষ্য করে আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা শত্রুপক্ষের বেশ কয়েকটি অজ্ঞাত ও বিপজ্জনক লক্ষ্যবস্তু তাদের নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঝ আকাশেই সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। এর ঠিক পর পরই ইরানি সামরিক কমান্ড আরও একটি বড় দাবি করে বসে যে, তারা বাহরাইনের অভ্যন্তরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতেও সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের এই বিস্ফোরক দাবির পরপরই বাহরাইন সরকারের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে জরুরি বিমান হামলার সতর্কতা সংকেত জারি করা হয় এবং দেশের সর্বস্তরের জনগণকে যেকোনো ধরনের আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়াসহ প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা!

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image

বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে সংবেদনশীল অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্যে পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা এখন এক নতুন ও অত্যন্ত বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে। দুই দেশের উগ্র সংঘাতের জেরে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালির কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক রাডার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এক শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এই হামলার ক্ষত শুকানোর আগেই ইরানের পক্ষ থেকে এক রক্তক্ষয়ী ও ভয়াবহ পালটা হামলার দাবি করা হয়েছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এক নজিরবিহীন ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধাবস্থার জন্ম দিয়েছে।

এই আকস্মিক ও তীব্র সংঘাতের নেপথ্য কারণ স্পষ্ট করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাত্র এক দিন আগে ইরানের সামরিক বাহিনী অত্যন্ত অন্যায়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক সামরিক হেলিকপ্টার আকাশেই ভূপাতিত করেছিল। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে তাদের আকাশযানের ওপর চালানো এই ধৃষ্টতাপূর্ণ আক্রমণের মোক্ষম জবাব দিতেই ওয়াশিংটন অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে ইরানের মূল ভূখণ্ডের ভেতরের সামরিক অবকাঠামোগুলো ধ্বংস করতে এই আগ্রাসী অভিযান পরিচালনা করেছে।

মার্কিন যুদ্ধবিমানের এই ভারী বোমা হামলার পর পরই তেহরানের পক্ষ থেকে যেকোনো মূল্যে সর্বোচ্চ এবং কঠোরতম প্রতিশোধ নেওয়ার তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। এই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইরানের শক্তিশালী ও এলিট সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি বিশ্ববাসীকে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করে জানায়। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, জর্ডানের মাটিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বড় সামরিক ঘাঁটির ওপর তারা একযোগে একাধিক দূরপাল্লার শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। আইআরজিসির প্রকাশিত বিবরণী অনুযায়ী, এই নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল মার্কিন বিমান বাহিনীর অত্যন্ত দামি ও আধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের সুরক্ষিত আশ্রয়স্থল বা হ্যাঙ্গার এবং তাদের মূল সামরিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার। তবে ইরানের এই ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মার্কিন ঘাঁটিতে ঠিক কী ধরনের সামরিক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিংবা কতজন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াশিংটন বা স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এই অভাবনীয় পাল্টাপাল্টি রক্তক্ষয়ী হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় প্রতিটি দেশেই সর্বোচ্চ সামরিক সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সবকটি রাষ্ট্রকে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি যেভাবে জ্যামিতিক হারে অবনতি হচ্ছে, তাতে করে এই সংঘাত কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এক বিধ্বংসী আঞ্চলিক মহাযুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির মারাত্মক আঁচ লেগেছে পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। কুয়েতের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের সীমান্ত লক্ষ্য করে আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা শত্রুপক্ষের বেশ কয়েকটি অজ্ঞাত ও বিপজ্জনক লক্ষ্যবস্তু তাদের নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঝ আকাশেই সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। এর ঠিক পর পরই ইরানি সামরিক কমান্ড আরও একটি বড় দাবি করে বসে যে, তারা বাহরাইনের অভ্যন্তরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতেও সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের এই বিস্ফোরক দাবির পরপরই বাহরাইন সরকারের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে জরুরি বিমান হামলার সতর্কতা সংকেত জারি করা হয় এবং দেশের সর্বস্তরের জনগণকে যেকোনো ধরনের আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়াসহ প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল