দিকপাল

নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মাঝেই ট্রাম্পের বিস্ময়কর মন্তব্য


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ | ০২:০৮ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মাঝেই ট্রাম্পের বিস্ময়কর মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে নতুন অর্থনৈতিক তথ্য ও পরিসংখ্যান প্রকাশের পরপরই এক চরম বিতর্কিত মন্তব্য করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া বাজারদরের এই ঊর্ধ্বগতির সময়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমি মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসি’। সদ্য সমাপ্ত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার এক লাফে ৪.২ শতাংশে পৌঁছানোর মতো এক উদ্বেগজনক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তিনি এমন অদ্ভুত ও স্পর্শকাতর মন্তব্য করেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চাঞ্চল্যকর অবস্থানের কথা বিস্তারিতভাবে জানা গেছে।


বুধবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প অত্যন্ত হালকা চালে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র আঞ্চলিক সংঘাত ও তার জেরে তৈরি হওয়া অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও তিনি দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতি বা বাজারদর নিয়ে বিন্দুমাত্র উদ্বিগ্ন নন। বরং নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে এই পরিস্থিতিকে ইতিবাচক দাবি করে তার ভাষায় বলেন, ‘না, আমি এটা ভালোবাসি। অর্থনৈতিক এই সংখ্যাগুলো আসলে দুর্দান্ত ছিল।’ দেশের সাধারণ মানুষ যখন নিত্যপণ্যের দামের চাপে দিশেহারা, তখন খোদ প্রেসিডেন্টের মুখ থেকে এমন মন্তব্য আসায় মার্কিন নাগরিক সমাজ ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।


এদিকে মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর পক্ষ থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৪.২ শতাংশের ঘর স্পর্শ করেছে। এটি মূলত দেশটিতে টানা তৃতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির একটি ধারাবাহিক চিত্র এবং যা বিগত প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগের মাসগুলোর পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, চলতি বছরের মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩.৩ শতাংশ এবং এপ্রিলে তা আরও কিছুটা বেড়ে ৩.৮ শতাংশে গিয়ে দাঁড়ায়। ফলে মে মাসের এই নতুন লাফ মার্কিন অর্থনীতি যে এক ধরনের বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট করে তোলে।


অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সরাসরি ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ওপর। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত সবকিছুর দাম এখন আকাশচুম্বী। তবে এই লাগামহীন দাম কমার বিষয়ে দেশবাসীকে এক ধরনের আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার সাথে সাথেই আন্তর্জাতিক বাজার শান্ত হবে এবং খুব দ্রুতই জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মাঝেই ট্রাম্পের বিস্ময়কর মন্তব্য

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে নতুন অর্থনৈতিক তথ্য ও পরিসংখ্যান প্রকাশের পরপরই এক চরম বিতর্কিত মন্তব্য করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া বাজারদরের এই ঊর্ধ্বগতির সময়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমি মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসি’। সদ্য সমাপ্ত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার এক লাফে ৪.২ শতাংশে পৌঁছানোর মতো এক উদ্বেগজনক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তিনি এমন অদ্ভুত ও স্পর্শকাতর মন্তব্য করেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চাঞ্চল্যকর অবস্থানের কথা বিস্তারিতভাবে জানা গেছে।


বুধবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প অত্যন্ত হালকা চালে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র আঞ্চলিক সংঘাত ও তার জেরে তৈরি হওয়া অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও তিনি দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতি বা বাজারদর নিয়ে বিন্দুমাত্র উদ্বিগ্ন নন। বরং নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে এই পরিস্থিতিকে ইতিবাচক দাবি করে তার ভাষায় বলেন, ‘না, আমি এটা ভালোবাসি। অর্থনৈতিক এই সংখ্যাগুলো আসলে দুর্দান্ত ছিল।’ দেশের সাধারণ মানুষ যখন নিত্যপণ্যের দামের চাপে দিশেহারা, তখন খোদ প্রেসিডেন্টের মুখ থেকে এমন মন্তব্য আসায় মার্কিন নাগরিক সমাজ ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।


এদিকে মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর পক্ষ থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৪.২ শতাংশের ঘর স্পর্শ করেছে। এটি মূলত দেশটিতে টানা তৃতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির একটি ধারাবাহিক চিত্র এবং যা বিগত প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগের মাসগুলোর পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, চলতি বছরের মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩.৩ শতাংশ এবং এপ্রিলে তা আরও কিছুটা বেড়ে ৩.৮ শতাংশে গিয়ে দাঁড়ায়। ফলে মে মাসের এই নতুন লাফ মার্কিন অর্থনীতি যে এক ধরনের বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট করে তোলে।


অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সরাসরি ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ওপর। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত সবকিছুর দাম এখন আকাশচুম্বী। তবে এই লাগামহীন দাম কমার বিষয়ে দেশবাসীকে এক ধরনের আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার সাথে সাথেই আন্তর্জাতিক বাজার শান্ত হবে এবং খুব দ্রুতই জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল