দিকপাল

শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের গৌরবময় অবদান, জাতিসংঘ দিবসে স্মরণ


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ | ০৫:২৬ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের গৌরবময় অবদান, জাতিসংঘ দিবসে স্মরণ

বিশ্বজুড়ে সংঘাত নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার মহান ব্রত নিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য এবং নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ বুধবার বাংলাদেশে পালিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। সাধারণত প্রতি বছরের ২৯ মে বিশ্বব্যাপী এই বিশেষ দিবসটি উদযাপিত হয়ে থাকলেও, এবার সেই সময়ে পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ সরকারি ছুটি থাকার কারণে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে আজ এই দিবসটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদযাপনের মধ্য দিয়ে বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের বীর সন্তানদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ও আত্মত্যাগকে নতুন করে স্মরণ করা হচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং চরম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রমে জাতিসংঘে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে জাতিসংঘের নীল হেলমেটধারী শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের অনন্য পেশাদারিত্ব, অসীম সাহসিকতা, মানবিক গুণাবলী ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সব সময়ই ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিভিন্ন সময়ে খোদ জাতিসংঘও আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের এই অসামান্য অবদানের কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করেছে।

বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ জাতিসংঘের অন্যতম শীর্ষ ও বৃহৎ শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় রেখেছে। আফ্রিকা মহাদেশের চরম সংঘাতময় অঞ্চল থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন নাজুক ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিন-রাত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তাদের কাজের পরিধি কেবল সশস্ত্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং যুদ্ধকবলিত এলাকার সাধারণ বেসামরিক জনগণকে চরম সহিংসতা থেকে সুরক্ষা দেওয়া, জরুরি মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত রাস্তাঘাট ও সামাজিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের মতো অত্যন্ত জটিল ও জনকল্যাণমূলক কাজেও তারা অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন।

তবে বিশ্বমঞ্চে শান্তি প্রতিষ্ঠার এই মহান ও গৌরবময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত অনেক বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিভিন্ন সময় অতর্কিত হামলা ও ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে নিজেদের মূল্যবান জীবন উৎসর্গ করেছেন। দেশের এই বীর সন্তানদের বীরোচিত আত্মত্যাগ একদিকে যেমন বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে এক অনন্য গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত করেছে, অন্যদিকে তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমগ্র বাংলাদেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তিকে করেছে আরও বেশি সমুন্নত।

বাংলাদেশের এই গৌরবময় শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রতি জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও ভূয়সী প্রশংসার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় উদাহরণ হিসেবে বারবার সামনে আসে বিগত ২০০৭ সালের একটি বিশেষ ঐতিহাসিক ঘটনা। ওই বছর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস অত্যন্ত সফল ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়েছিল। সেই সফল আয়োজনের পর জাতিসংঘের বাংলাদেশ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয় থেকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছিল।

বিগত ২০০৭ সালের ৩১ মে তারিখে পাঠানো সেই ঐতিহাসিক চিঠিতে তৎকালীন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী রেনাটা লক-দেসালিয়েন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুব হায়দার খানকে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আন্তরিক সাধুবাদ জানান। ওই চিঠিতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আনুষ্ঠানিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিশ্ব সংস্থাটি। একই সঙ্গে বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুব হায়দার খানকে, যিনি ওই সময়ে তৎকালীন সেনা সদর দপ্তরের ওভারসিজ অপারেশনস বা বহির্বিশ্ব কার্যক্রম অধিদপ্তরের অত্যন্ত দক্ষ পরিচালক এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপন কমিটির সম্মানিত চেয়ারম্যান হিসেবে পুরো আয়োজনটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবসে জাতিসংঘের এই ঐতিহাসিক স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন আমাদের দেশবাসীকে বারবার এটাই মনে করিয়ে দেয় যে—বিশ্বের বুকে শান্তি ও মানবতা প্রতিষ্ঠার বৈশ্বিক মহৎ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ কেবল একটি সাধারণ অংশগ্রহণকারী দেশই নয়, বরং বিশ্ববাসীর কাছে একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, বিশ্বস্ত এবং সম্মানিত অংশীদার। সচেতন মহল আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের এই অনন্য পেশাদারিত্ব, গভীর মানবিকতা ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ বিশ্ব দরবারে দেশের সুনাম ও গৌরবকে আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের গৌরবময় অবদান, জাতিসংঘ দিবসে স্মরণ

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

বিশ্বজুড়ে সংঘাত নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার মহান ব্রত নিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য এবং নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ বুধবার বাংলাদেশে পালিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। সাধারণত প্রতি বছরের ২৯ মে বিশ্বব্যাপী এই বিশেষ দিবসটি উদযাপিত হয়ে থাকলেও, এবার সেই সময়ে পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ সরকারি ছুটি থাকার কারণে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে আজ এই দিবসটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদযাপনের মধ্য দিয়ে বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের বীর সন্তানদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ও আত্মত্যাগকে নতুন করে স্মরণ করা হচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং চরম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রমে জাতিসংঘে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে জাতিসংঘের নীল হেলমেটধারী শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের অনন্য পেশাদারিত্ব, অসীম সাহসিকতা, মানবিক গুণাবলী ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সব সময়ই ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিভিন্ন সময়ে খোদ জাতিসংঘও আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের এই অসামান্য অবদানের কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করেছে।

বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ জাতিসংঘের অন্যতম শীর্ষ ও বৃহৎ শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় রেখেছে। আফ্রিকা মহাদেশের চরম সংঘাতময় অঞ্চল থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন নাজুক ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিন-রাত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তাদের কাজের পরিধি কেবল সশস্ত্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং যুদ্ধকবলিত এলাকার সাধারণ বেসামরিক জনগণকে চরম সহিংসতা থেকে সুরক্ষা দেওয়া, জরুরি মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত রাস্তাঘাট ও সামাজিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের মতো অত্যন্ত জটিল ও জনকল্যাণমূলক কাজেও তারা অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন।

তবে বিশ্বমঞ্চে শান্তি প্রতিষ্ঠার এই মহান ও গৌরবময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত অনেক বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিভিন্ন সময় অতর্কিত হামলা ও ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে নিজেদের মূল্যবান জীবন উৎসর্গ করেছেন। দেশের এই বীর সন্তানদের বীরোচিত আত্মত্যাগ একদিকে যেমন বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে এক অনন্য গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত করেছে, অন্যদিকে তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমগ্র বাংলাদেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তিকে করেছে আরও বেশি সমুন্নত।

বাংলাদেশের এই গৌরবময় শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রতি জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও ভূয়সী প্রশংসার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় উদাহরণ হিসেবে বারবার সামনে আসে বিগত ২০০৭ সালের একটি বিশেষ ঐতিহাসিক ঘটনা। ওই বছর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস অত্যন্ত সফল ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়েছিল। সেই সফল আয়োজনের পর জাতিসংঘের বাংলাদেশ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয় থেকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছিল।

বিগত ২০০৭ সালের ৩১ মে তারিখে পাঠানো সেই ঐতিহাসিক চিঠিতে তৎকালীন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী রেনাটা লক-দেসালিয়েন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুব হায়দার খানকে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আন্তরিক সাধুবাদ জানান। ওই চিঠিতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আনুষ্ঠানিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিশ্ব সংস্থাটি। একই সঙ্গে বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুব হায়দার খানকে, যিনি ওই সময়ে তৎকালীন সেনা সদর দপ্তরের ওভারসিজ অপারেশনস বা বহির্বিশ্ব কার্যক্রম অধিদপ্তরের অত্যন্ত দক্ষ পরিচালক এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপন কমিটির সম্মানিত চেয়ারম্যান হিসেবে পুরো আয়োজনটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবসে জাতিসংঘের এই ঐতিহাসিক স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন আমাদের দেশবাসীকে বারবার এটাই মনে করিয়ে দেয় যে—বিশ্বের বুকে শান্তি ও মানবতা প্রতিষ্ঠার বৈশ্বিক মহৎ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ কেবল একটি সাধারণ অংশগ্রহণকারী দেশই নয়, বরং বিশ্ববাসীর কাছে একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, বিশ্বস্ত এবং সম্মানিত অংশীদার। সচেতন মহল আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের এই অনন্য পেশাদারিত্ব, গভীর মানবিকতা ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ বিশ্ব দরবারে দেশের সুনাম ও গৌরবকে আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল