দক্ষিণ ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকস্মিক বিমান হামলার পর থেকে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন এক চরম যুদ্ধাবস্থা এবং নজিরবিহীন উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওয়াশিংটনের এই অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক পদক্ষেপের জবাবে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘কঠোর ও নির্মম প্রতিশোধ’ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। একই সাথে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোকে তাদের মাটিতে থাকা সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, যুদ্ধাস্ত্র ও স্থাপনা থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করার জন্য বিশেষভাবে পরামর্শ দিয়েছে ইরান সরকার।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে বারবার পরাস্ত ও ব্যর্থ হয়েও যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় ইরানের অদম্য সংকল্প ও সামরিক শক্তিকে পরীক্ষা করার এক চরম দুঃসাহস দেখিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসসহ দেশের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো ধরনের বহিঃশত্রুর আক্রমণ বা হুমকির দাঁতভাঙা জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যদি মার্কিন সেনারা নিজেদের জীবন রক্ষা করতে চায় এবং নিরাপদ থাকতে চায়, তবে তাদের অনতিবিলম্বে এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। পারস্য উপসাগরের দীর্ঘ ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে যে, অতীতেও যারাই এখানে বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আধিপত্য বিস্তার করতে এসেছে, তাদের প্রত্যেককেই অত্যন্ত করুণ পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া এই রক্তক্ষয়ী উত্তেজনার মূল সূত্রপাত ঘটেছিল হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার ভূপাতিত ও ধ্বংস করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, ইরানি বাহিনীর গুলিতে তাদের সেই যুদ্ধ যানটি ধ্বংস হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন। হোয়াইট হাউজের সেই চরম হুঁশিয়ারির পর পরই মার্কিন সামরিক বাহিনী দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে নতুন করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়, যা পরিস্থিতিকে পুরোপুরি যুদ্ধের মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়েছে।
অবশ্য এই চরম সামরিক ও কূটনৈতিক সংঘাতের মধ্যেই ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি দাবি করেন যে, হরমুজ প্রণালিতে ভেঙে পড়া মার্কিন যুদ্ধ হেলিকপ্টারটিকে ইরান কোনো পূর্বপরিকল্পনা থেকে কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানায়নি, এটি একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা ছিল। কিন্তু তাঁর এই ব্যাখ্যার পরও ওয়াশিংটনের প্রতিশোধমূলক বিমান হামলা এবং পরবর্তীতে বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহর ও জর্ডানের বিমানঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ফলে দুই দেশের মধ্যে থাকা দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এই পাল্টাপাল্টি যুদ্ধংদেহী অবস্থানের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা এখন এক গভীর অন্ধকারের মুখে পতিত হয়েছে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
দক্ষিণ ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকস্মিক বিমান হামলার পর থেকে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন এক চরম যুদ্ধাবস্থা এবং নজিরবিহীন উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওয়াশিংটনের এই অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক পদক্ষেপের জবাবে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘কঠোর ও নির্মম প্রতিশোধ’ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। একই সাথে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোকে তাদের মাটিতে থাকা সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, যুদ্ধাস্ত্র ও স্থাপনা থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করার জন্য বিশেষভাবে পরামর্শ দিয়েছে ইরান সরকার।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে বারবার পরাস্ত ও ব্যর্থ হয়েও যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় ইরানের অদম্য সংকল্প ও সামরিক শক্তিকে পরীক্ষা করার এক চরম দুঃসাহস দেখিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসসহ দেশের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো ধরনের বহিঃশত্রুর আক্রমণ বা হুমকির দাঁতভাঙা জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যদি মার্কিন সেনারা নিজেদের জীবন রক্ষা করতে চায় এবং নিরাপদ থাকতে চায়, তবে তাদের অনতিবিলম্বে এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। পারস্য উপসাগরের দীর্ঘ ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে যে, অতীতেও যারাই এখানে বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আধিপত্য বিস্তার করতে এসেছে, তাদের প্রত্যেককেই অত্যন্ত করুণ পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া এই রক্তক্ষয়ী উত্তেজনার মূল সূত্রপাত ঘটেছিল হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার ভূপাতিত ও ধ্বংস করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, ইরানি বাহিনীর গুলিতে তাদের সেই যুদ্ধ যানটি ধ্বংস হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন। হোয়াইট হাউজের সেই চরম হুঁশিয়ারির পর পরই মার্কিন সামরিক বাহিনী দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে নতুন করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়, যা পরিস্থিতিকে পুরোপুরি যুদ্ধের মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়েছে।
অবশ্য এই চরম সামরিক ও কূটনৈতিক সংঘাতের মধ্যেই ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি দাবি করেন যে, হরমুজ প্রণালিতে ভেঙে পড়া মার্কিন যুদ্ধ হেলিকপ্টারটিকে ইরান কোনো পূর্বপরিকল্পনা থেকে কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানায়নি, এটি একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা ছিল। কিন্তু তাঁর এই ব্যাখ্যার পরও ওয়াশিংটনের প্রতিশোধমূলক বিমান হামলা এবং পরবর্তীতে বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহর ও জর্ডানের বিমানঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ফলে দুই দেশের মধ্যে থাকা দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এই পাল্টাপাল্টি যুদ্ধংদেহী অবস্থানের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা এখন এক গভীর অন্ধকারের মুখে পতিত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন