দিকপাল

মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইন ও জর্ডানে ইরানের পাল্টা আঘাত


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ | ১২:০৭ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইন ও জর্ডানে ইরানের পাল্টা আঘাত

দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো আকস্মিক সামরিক হামলার তীব্র ও সরাসরি পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই পাল্টা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চম নৌবহরের প্রধান ঘাঁটি এবং জর্ডানের একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে একযোগে চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে।


অন্যদিকে এই সংঘাতের সূত্রপাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা কেন্দ্রীয় কমান্ডের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে গত সোমবার ইরানি বাহিনীর ছোঁড়া গুলিতে একটি মার্কিন আক্রমণাত্মক যুদ্ধ হেলিকপ্টার ধ্বংস ও ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার সরাসরি প্রতিক্রিয়া ও নিজেদের সুরক্ষায় তারা দক্ষিণ ইরানে এই ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ পরিচালনা করেছিল। তবে এই বিশেষ অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপাতত তা সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।


এই সামরিক উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক কড়া বিবৃতিতে পশ্চিমাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শক্ত অবস্থান এবং সামরিক সংকল্পকে পরীক্ষা করার একটি অত্যন্ত ভুল ও বিপজ্জনক পথ বেছে নিয়েছে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দেন যে, ইরানের সার্বভৌমত্ব বা সশস্ত্র বাহিনীর ওপর যেকোনো ধরনের হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে তাদের সেনারা কোনোভাবেই ছেড়ে দেবে না। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি আমেরিকানরা নিজেদের নিরাপদ ও অক্ষত রাখতে চায়, তবে তাদের অনতিবিলম্বে এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত।


যদিও এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঠিক আগের মুহূর্তে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করার একটি কূটনৈতিক চেষ্টা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হেলিকপ্টারটির ওপর যে গুলি চালানো হয়েছিল, তা কোনো পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা ছিল না এবং সেটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তুও করা হয়নি। কিন্তু সেই ব্যাখ্যার পরও মার্কিন হামলা এবং পরবর্তীতে ইরানের এই পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ফলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।



আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইন ও জর্ডানে ইরানের পাল্টা আঘাত

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো আকস্মিক সামরিক হামলার তীব্র ও সরাসরি পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই পাল্টা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চম নৌবহরের প্রধান ঘাঁটি এবং জর্ডানের একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে একযোগে চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে।


অন্যদিকে এই সংঘাতের সূত্রপাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা কেন্দ্রীয় কমান্ডের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে গত সোমবার ইরানি বাহিনীর ছোঁড়া গুলিতে একটি মার্কিন আক্রমণাত্মক যুদ্ধ হেলিকপ্টার ধ্বংস ও ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার সরাসরি প্রতিক্রিয়া ও নিজেদের সুরক্ষায় তারা দক্ষিণ ইরানে এই ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ পরিচালনা করেছিল। তবে এই বিশেষ অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপাতত তা সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।


এই সামরিক উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক কড়া বিবৃতিতে পশ্চিমাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শক্ত অবস্থান এবং সামরিক সংকল্পকে পরীক্ষা করার একটি অত্যন্ত ভুল ও বিপজ্জনক পথ বেছে নিয়েছে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দেন যে, ইরানের সার্বভৌমত্ব বা সশস্ত্র বাহিনীর ওপর যেকোনো ধরনের হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে তাদের সেনারা কোনোভাবেই ছেড়ে দেবে না। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি আমেরিকানরা নিজেদের নিরাপদ ও অক্ষত রাখতে চায়, তবে তাদের অনতিবিলম্বে এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত।


যদিও এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঠিক আগের মুহূর্তে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করার একটি কূটনৈতিক চেষ্টা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হেলিকপ্টারটির ওপর যে গুলি চালানো হয়েছিল, তা কোনো পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা ছিল না এবং সেটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তুও করা হয়নি। কিন্তু সেই ব্যাখ্যার পরও মার্কিন হামলা এবং পরবর্তীতে ইরানের এই পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ফলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।




দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল