যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেটের একটি বিশেষ ধারা নিয়ে এবার তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তাঁর মতে, বিতর্কিত এই ধারাটি পাস হলে কোনো ধরনের জবাবদিহিতা বা তদারকি ছাড়াই মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মধ্যকার সম্পর্ক এক নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছাবে, যা প্রকারান্তরে দুই দেশের সামরিক শক্তিকে পুরোপুরি একীভূত করে ফেলবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া একটি বিবৃতিতে স্যান্ডার্স অভিযোগ করেন যে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর সরকার এই বিশেষ ধারাটির পক্ষে ব্যাপকভাবে তদবির চালাচ্ছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিলের এই অংশটি মূলত ‘ধারা ২২৪’ নামে পরিচিত। স্যান্ডার্সের দাবি, এই ধারার আড়ালে অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও নীরবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা এবং নতুন নতুন মারাত্মক অস্ত্র তৈরির কর্মসূচিকে বহুদূর এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে মার্কিন কংগ্রেস বা জনগণের কোনো প্রকার বড় ধরনের নজরদারি ছাড়াই।
এই ধারার ভেতরে থাকা মূল পরিকল্পনাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি কার্যকর হলে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে একজন বিশেষ কর্মকর্তা বা নির্বাহী প্রতিনিধি নিয়োগ করতে হবে। সেই কর্মকর্তার একমাত্র কাজই হবে এককভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার সব ধরনের সামরিক আদান-প্রদান এবং সহযোগিতার বিষয়গুলো দেখাশোনা ও সমন্বয় করা।
এই সমন্বয়ের পরিধি কেবল সাধারণ সামরিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর আওতায় দুই দেশ যৌথভাবে সামরিক গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাবে, একে অপরের কারখানায় যৌথভাবে মারাত্মক সব যুদ্ধাস্ত্র উৎপাদন করবে এবং সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—উভয় দেশের সামরিক বাহিনীর মূল পরিচালনা ব্যবস্থা ও সংবেদনশীল তথ্যভাণ্ডারকে একে অপরের সাথে সরাসরি যুক্ত করে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, আধুনিক যুগের যুদ্ধক্ষেত্রের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও অগ্রগামী প্রযুক্তি যেমন—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন প্রযুক্তি এবং সাইবার যুদ্ধ পরিচালনার মতো ক্ষেত্রগুলোতেও দুই দেশের যৌথ তৎপরতা ও অংশীদারিত্ব কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
বার্নি স্যান্ডার্স অত্যন্ত কড়া ভাষায় মার্কিন প্রশাসনের এই নীতির বিরোধিতা করে বলেছেন যে, আমেরিকার সাধারণ নাগরিকেরা আর কোনোভাবেই চান না যে তাদের ট্যাক্সের টাকা ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর পেছনে ব্যয় হোক কিংবা সেখানে আর কোনো মার্কিন সামরিক সাহায্য পাঠানো হোক। দেশের মানুষের এই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে যেকোনো মূল্যেই হোক এই বিতর্কিত ‘ধারা ২২৪’ বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেটের একটি বিশেষ ধারা নিয়ে এবার তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তাঁর মতে, বিতর্কিত এই ধারাটি পাস হলে কোনো ধরনের জবাবদিহিতা বা তদারকি ছাড়াই মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মধ্যকার সম্পর্ক এক নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছাবে, যা প্রকারান্তরে দুই দেশের সামরিক শক্তিকে পুরোপুরি একীভূত করে ফেলবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া একটি বিবৃতিতে স্যান্ডার্স অভিযোগ করেন যে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর সরকার এই বিশেষ ধারাটির পক্ষে ব্যাপকভাবে তদবির চালাচ্ছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিলের এই অংশটি মূলত ‘ধারা ২২৪’ নামে পরিচিত। স্যান্ডার্সের দাবি, এই ধারার আড়ালে অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও নীরবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা এবং নতুন নতুন মারাত্মক অস্ত্র তৈরির কর্মসূচিকে বহুদূর এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে মার্কিন কংগ্রেস বা জনগণের কোনো প্রকার বড় ধরনের নজরদারি ছাড়াই।
এই ধারার ভেতরে থাকা মূল পরিকল্পনাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি কার্যকর হলে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে একজন বিশেষ কর্মকর্তা বা নির্বাহী প্রতিনিধি নিয়োগ করতে হবে। সেই কর্মকর্তার একমাত্র কাজই হবে এককভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার সব ধরনের সামরিক আদান-প্রদান এবং সহযোগিতার বিষয়গুলো দেখাশোনা ও সমন্বয় করা।
এই সমন্বয়ের পরিধি কেবল সাধারণ সামরিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর আওতায় দুই দেশ যৌথভাবে সামরিক গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাবে, একে অপরের কারখানায় যৌথভাবে মারাত্মক সব যুদ্ধাস্ত্র উৎপাদন করবে এবং সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—উভয় দেশের সামরিক বাহিনীর মূল পরিচালনা ব্যবস্থা ও সংবেদনশীল তথ্যভাণ্ডারকে একে অপরের সাথে সরাসরি যুক্ত করে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, আধুনিক যুগের যুদ্ধক্ষেত্রের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও অগ্রগামী প্রযুক্তি যেমন—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন প্রযুক্তি এবং সাইবার যুদ্ধ পরিচালনার মতো ক্ষেত্রগুলোতেও দুই দেশের যৌথ তৎপরতা ও অংশীদারিত্ব কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
বার্নি স্যান্ডার্স অত্যন্ত কড়া ভাষায় মার্কিন প্রশাসনের এই নীতির বিরোধিতা করে বলেছেন যে, আমেরিকার সাধারণ নাগরিকেরা আর কোনোভাবেই চান না যে তাদের ট্যাক্সের টাকা ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর পেছনে ব্যয় হোক কিংবা সেখানে আর কোনো মার্কিন সামরিক সাহায্য পাঠানো হোক। দেশের মানুষের এই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে যেকোনো মূল্যেই হোক এই বিতর্কিত ‘ধারা ২২৪’ বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন