দিকপাল

শুভেন্দুর দাবি প্রত্যাখ্যান করল বিজিবি


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ | ০৮:০৩ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

শুভেন্দুর দাবি প্রত্যাখ্যান করল বিজিবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি তথা বিজেপি সরকার গঠন করার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ জন বাংলাদেশিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন রাজ্যটির নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে ভারতীয় রাজ্য সরকারের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ তথা বিজিবি। সোমবার জার্মানির আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক বিশেষ ও একান্ত সাক্ষাৎকারে বিজিবির উপ-মহাপরিচালক (মিডিয়া) কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভারত থেকে কোনো একজন মানুষকেও বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইন করা বা ঠেলে পাঠানো সম্ভব হয়নি। যদিও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের একাধিক চেষ্টা চালানো হয়েছিল, তবে বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে প্রতিবারই সেই অবৈধ প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। বর্তমানে কিছু কিছু আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পুশইনের বিষয়ে যে ধরনের মনগড়া খবর প্রচার করছে, তা পুরোপুরি গুজব এবং সত্যের অপলাপ মাত্র।

বিজিবির এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও জোর দিয়ে বলেন যে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক ও আলদা অবস্থায় রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই এবং কোনো আইনি ফাঁকফোকর গলে আমরা ভারত থেকে বাংলাদেশে কাউকে অবৈধভাবে পুশইন করতে দেব না। আমাদের জওয়ানেরা সীমান্তে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই কঠোর পাহারা দিচ্ছেন। শুধু আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীই নয়, বরং দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সীমান্ত এলাকার স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিকেরাও গভীর দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়ে বিজিবির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাত জেগে নিজ নিজ এলাকা পাহারা দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, গত মে মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও ঐতিহাসিক জয় লাভ করে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন হিন্দু-জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি। ১০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার এই পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাজ্যে নির্বাচনি প্রচারণার সময় থেকেই মোদি ও শুভেন্দু অধিকারীর দল রাজ্যে বসবাসকারী কথিত অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত ‘শনাক্তকরণ, ভোটার তালিকা থেকে বাদ এবং শেষ পর্যন্ত রাজ্য থেকে বহিষ্কার’ করার তীব্র রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় রাজ্যে এককভাবে ক্ষমতায় আসার পরপরই নথিপত্রহীন ও সন্দেহভাজন বাংলাদেশি এবং প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আটকে রাখার জন্য রাজ্যজুড়ে বিশেষ আটক কেন্দ্র বা ডিটেনশন সেন্টার স্থাপনের এক নির্বাহী নির্দেশ জারি করে নতুন বিজেপি সরকার। গত রবিবার তিলোত্তমা নগরী কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত গর্বের সাথে দাবি করেন যে, আমরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বা সিএএ-এর আওতায় না আসা সব কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভারতে থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক কাজ অত্যন্ত সফলতার সাথে শুরু করে দিয়েছি। তিনি আরও জানান যে, গত মে মাসের মধ্যেই রাজ্যের সবকটি জেলায় জরুরি ভিত্তিতে হোল্ডিং সেন্টার বা অস্থায়ী আটক কেন্দ্র স্থাপন করেছে রাজ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি অনুযায়ী, এই নবনির্মিত কেন্দ্রগুলো থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ৮০০ জন তথাকথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ওপারে ফেরত পাঠানো সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আরও প্রায় ৮৩৬ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তি এই আটককেন্দ্রগুলোতে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বন্দি রয়েছেন জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন যে, আমরা খুব দ্রুত এই আটক থাকা ৮৩৬ জনকেও বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। তার এই স্পর্শকাতর ও উসকানিমূলক বক্তব্য নিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করলে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। তবে এই বিষয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর উপ-মহাপরিচালক কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ পুনরায় জোরালো দাবি করেন যে, ভারত থেকে বাংলাদেশে কোনো মানুষ বা অনুপ্রবেশকারী পাঠানোর এই তথ্যের পেছনে বিন্দুমাত্র কোনো সত্যতা বা আইনি ভিত্তি নেই।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


শুভেন্দুর দাবি প্রত্যাখ্যান করল বিজিবি

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬

featured Image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি তথা বিজেপি সরকার গঠন করার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ জন বাংলাদেশিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন রাজ্যটির নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে ভারতীয় রাজ্য সরকারের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ তথা বিজিবি। সোমবার জার্মানির আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক বিশেষ ও একান্ত সাক্ষাৎকারে বিজিবির উপ-মহাপরিচালক (মিডিয়া) কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভারত থেকে কোনো একজন মানুষকেও বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইন করা বা ঠেলে পাঠানো সম্ভব হয়নি। যদিও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের একাধিক চেষ্টা চালানো হয়েছিল, তবে বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে প্রতিবারই সেই অবৈধ প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। বর্তমানে কিছু কিছু আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পুশইনের বিষয়ে যে ধরনের মনগড়া খবর প্রচার করছে, তা পুরোপুরি গুজব এবং সত্যের অপলাপ মাত্র।

বিজিবির এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও জোর দিয়ে বলেন যে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক ও আলদা অবস্থায় রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই এবং কোনো আইনি ফাঁকফোকর গলে আমরা ভারত থেকে বাংলাদেশে কাউকে অবৈধভাবে পুশইন করতে দেব না। আমাদের জওয়ানেরা সীমান্তে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই কঠোর পাহারা দিচ্ছেন। শুধু আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীই নয়, বরং দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সীমান্ত এলাকার স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিকেরাও গভীর দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়ে বিজিবির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাত জেগে নিজ নিজ এলাকা পাহারা দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, গত মে মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও ঐতিহাসিক জয় লাভ করে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন হিন্দু-জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি। ১০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার এই পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাজ্যে নির্বাচনি প্রচারণার সময় থেকেই মোদি ও শুভেন্দু অধিকারীর দল রাজ্যে বসবাসকারী কথিত অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত ‘শনাক্তকরণ, ভোটার তালিকা থেকে বাদ এবং শেষ পর্যন্ত রাজ্য থেকে বহিষ্কার’ করার তীব্র রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় রাজ্যে এককভাবে ক্ষমতায় আসার পরপরই নথিপত্রহীন ও সন্দেহভাজন বাংলাদেশি এবং প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আটকে রাখার জন্য রাজ্যজুড়ে বিশেষ আটক কেন্দ্র বা ডিটেনশন সেন্টার স্থাপনের এক নির্বাহী নির্দেশ জারি করে নতুন বিজেপি সরকার। গত রবিবার তিলোত্তমা নগরী কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত গর্বের সাথে দাবি করেন যে, আমরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বা সিএএ-এর আওতায় না আসা সব কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভারতে থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক কাজ অত্যন্ত সফলতার সাথে শুরু করে দিয়েছি। তিনি আরও জানান যে, গত মে মাসের মধ্যেই রাজ্যের সবকটি জেলায় জরুরি ভিত্তিতে হোল্ডিং সেন্টার বা অস্থায়ী আটক কেন্দ্র স্থাপন করেছে রাজ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি অনুযায়ী, এই নবনির্মিত কেন্দ্রগুলো থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ৮০০ জন তথাকথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ওপারে ফেরত পাঠানো সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আরও প্রায় ৮৩৬ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তি এই আটককেন্দ্রগুলোতে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বন্দি রয়েছেন জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন যে, আমরা খুব দ্রুত এই আটক থাকা ৮৩৬ জনকেও বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। তার এই স্পর্শকাতর ও উসকানিমূলক বক্তব্য নিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করলে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। তবে এই বিষয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর উপ-মহাপরিচালক কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ পুনরায় জোরালো দাবি করেন যে, ভারত থেকে বাংলাদেশে কোনো মানুষ বা অনুপ্রবেশকারী পাঠানোর এই তথ্যের পেছনে বিন্দুমাত্র কোনো সত্যতা বা আইনি ভিত্তি নেই।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল