দিকপাল

আলিবাবা-বিওয়াইডিসহ শতাধিক চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ | ১২:৪৬ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

আলিবাবা-বিওয়াইডিসহ শতাধিক চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

চীনা প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাব রুখতে এবার এক অত্যন্ত বড় ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয় অনলাইন কেনাকাটার মাধ্যম ‘আলিবাবা’, পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘বিওয়াইডি’ এবং চীনের নিজস্ব ও সর্ববৃহৎ সার্চ ইঞ্জিন ‘বাইডু’-সহ দেশটির বেশ কয়েকটি প্রথম সারির বাঘা বাঘা বাণিজ্যিক কোম্পানিকে সরাসরি নিজেদের সামরিক কালো তালিকায় যুক্ত করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে তালিকাভুক্ত এই চীনা কোম্পানিগুলো মার্কিন সরকারের কোনো ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সামরিক কেনাকাটার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে না এবং কোনো সরকারি বরাদ্দ পাবে না। সোমবার পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এই বিতর্কিত ও সংবেদনশীল তালিকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করা হয়েছে। মূলত ২০২১ সালে মার্কিন কংগ্রেসের দেওয়া বিশেষ নির্দেশ ও আইনি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছিল পেন্টাগন। এই দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য হলো চীনের এমন সব প্রভাবশালী বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তি সংস্থাকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা, যারা সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে বেইজিংয়ের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে।


প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, গত বছর পেন্টাগনের এই বিশেষ সামরিক তালিকায় চীনের প্রায়১৩০টি প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও, বৈশ্বিক ভূরাজনীতির উত্তেজনার পারদ চড়ায় এই বছর তা এক লাফে বাড়িয়ে ১৮৮টিতে উন্নীত করা হয়েছে। বিশ্বখ্যাত ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ডিজেআই’ অবশ্য আগে থেকেই মার্কিন প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় বন্দি ছিল। তবে এবার নতুন করে তালিকায় নাম উঠেছে ‘ইউনিট্রি’ নামের একটি আধুনিক রোবট উৎপাদনকারী কোম্পানির, যাদের বিশেষভাবে তৈরি নাচতে পারা রোবটগুলো কিছুদিন আগে আমেরিকার অত্যন্ত জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘আমেরিকা'স গট ট্যালেন্ট’-এর মঞ্চে পারফর্ম করে সাধারণ মার্কিন দর্শকদের মাঝে বেশ বড় ধরনের সাড়া ফেলেছিল। পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দাবি, আলিবাবা, বিওয়াইডি ও বাইডুর মতো বিশ্বখ্যাত জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলো চীনের ‘শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়’-এর সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে যুক্ত থেকে দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তিকে ভেতর থেকে মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পেন্টাগন আরও অভিযোগ করেছে যে, এই কোম্পানিগুলো বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সম্পূর্ণ বেসরকারি ও বেসামরিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করলেও, মূলত চীনা সামরিক বাহিনী বা পিপলস লিবারেশন আর্মি নিজেদের যুদ্ধক্ষমতা বাড়াতে এদের তৈরি উন্নত প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কারিগরি দক্ষতা গোপনে হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।


পেন্টাগনের এই নতুন ও বর্ধিত তালিকা প্রকাশের পর মার্কিন আইনপ্রণেতা ও রাজনীতিকদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটনের প্রভাবশালী আইনপ্রণেতারা এখন সরকারের কাছে জোরালো দাবি তুলেছেন যে, এই সামরিক তালিকায় নাম থাকা যেসব চীনা কোম্পানির শেয়ার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে নিয়মিত লেনদেন হচ্ছে, সেগুলোকে যেন অবিলম্বে মার্কিন পুঁজিবাজার থেকে পুরোপুরি বহিষ্কার বা বাদ দেওয়া হয়। একই সাথে কোনো মার্কিন দেশীয় কোম্পানি যেন এই নিষিদ্ধ চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক লেনদেন বা যৌথ অংশীদারিত্ব বজায় না রাখে, সে বিষয়েও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি উঠেছে।


পেন্টাগনের এই একপাক্ষিক ও চরম সিদ্ধান্তের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস থেকে অত্যন্ত তীব্র ও কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে চীনা দূতাবাস মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত তুলে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণ করার তীব্র অভিযোগ এনেছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তাদের দেশের প্রতিটি কোম্পানি আন্তর্জাতিক সব আইন ও বাণিজ্যিক নীতিমালা মেনেই বিশ্বজুড়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তাই আমেরিকার উচিত নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে এই ধরনের অন্যায্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তালিকা তৈরি অবিলম্বে বন্ধ করা এবং বিশ্ববাজারে চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও বৈষম্যহীন বাণিজ্যিক পরিবেশ নিশ্চিত করা। তবে আকস্মিকভাবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া আলিবাবা, বিওয়াইডি কিংবা বাইডুর মতো শীর্ষ চীনা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


আলিবাবা-বিওয়াইডিসহ শতাধিক চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬

featured Image

চীনা প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাব রুখতে এবার এক অত্যন্ত বড় ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয় অনলাইন কেনাকাটার মাধ্যম ‘আলিবাবা’, পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘বিওয়াইডি’ এবং চীনের নিজস্ব ও সর্ববৃহৎ সার্চ ইঞ্জিন ‘বাইডু’-সহ দেশটির বেশ কয়েকটি প্রথম সারির বাঘা বাঘা বাণিজ্যিক কোম্পানিকে সরাসরি নিজেদের সামরিক কালো তালিকায় যুক্ত করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে তালিকাভুক্ত এই চীনা কোম্পানিগুলো মার্কিন সরকারের কোনো ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সামরিক কেনাকাটার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে না এবং কোনো সরকারি বরাদ্দ পাবে না। সোমবার পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এই বিতর্কিত ও সংবেদনশীল তালিকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করা হয়েছে। মূলত ২০২১ সালে মার্কিন কংগ্রেসের দেওয়া বিশেষ নির্দেশ ও আইনি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছিল পেন্টাগন। এই দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য হলো চীনের এমন সব প্রভাবশালী বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তি সংস্থাকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা, যারা সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে বেইজিংয়ের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে।


প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, গত বছর পেন্টাগনের এই বিশেষ সামরিক তালিকায় চীনের প্রায়১৩০টি প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও, বৈশ্বিক ভূরাজনীতির উত্তেজনার পারদ চড়ায় এই বছর তা এক লাফে বাড়িয়ে ১৮৮টিতে উন্নীত করা হয়েছে। বিশ্বখ্যাত ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ডিজেআই’ অবশ্য আগে থেকেই মার্কিন প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় বন্দি ছিল। তবে এবার নতুন করে তালিকায় নাম উঠেছে ‘ইউনিট্রি’ নামের একটি আধুনিক রোবট উৎপাদনকারী কোম্পানির, যাদের বিশেষভাবে তৈরি নাচতে পারা রোবটগুলো কিছুদিন আগে আমেরিকার অত্যন্ত জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘আমেরিকা'স গট ট্যালেন্ট’-এর মঞ্চে পারফর্ম করে সাধারণ মার্কিন দর্শকদের মাঝে বেশ বড় ধরনের সাড়া ফেলেছিল। পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দাবি, আলিবাবা, বিওয়াইডি ও বাইডুর মতো বিশ্বখ্যাত জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলো চীনের ‘শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়’-এর সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে যুক্ত থেকে দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তিকে ভেতর থেকে মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পেন্টাগন আরও অভিযোগ করেছে যে, এই কোম্পানিগুলো বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সম্পূর্ণ বেসরকারি ও বেসামরিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করলেও, মূলত চীনা সামরিক বাহিনী বা পিপলস লিবারেশন আর্মি নিজেদের যুদ্ধক্ষমতা বাড়াতে এদের তৈরি উন্নত প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কারিগরি দক্ষতা গোপনে হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।


পেন্টাগনের এই নতুন ও বর্ধিত তালিকা প্রকাশের পর মার্কিন আইনপ্রণেতা ও রাজনীতিকদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটনের প্রভাবশালী আইনপ্রণেতারা এখন সরকারের কাছে জোরালো দাবি তুলেছেন যে, এই সামরিক তালিকায় নাম থাকা যেসব চীনা কোম্পানির শেয়ার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে নিয়মিত লেনদেন হচ্ছে, সেগুলোকে যেন অবিলম্বে মার্কিন পুঁজিবাজার থেকে পুরোপুরি বহিষ্কার বা বাদ দেওয়া হয়। একই সাথে কোনো মার্কিন দেশীয় কোম্পানি যেন এই নিষিদ্ধ চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক লেনদেন বা যৌথ অংশীদারিত্ব বজায় না রাখে, সে বিষয়েও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি উঠেছে।


পেন্টাগনের এই একপাক্ষিক ও চরম সিদ্ধান্তের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস থেকে অত্যন্ত তীব্র ও কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে চীনা দূতাবাস মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত তুলে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণ করার তীব্র অভিযোগ এনেছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তাদের দেশের প্রতিটি কোম্পানি আন্তর্জাতিক সব আইন ও বাণিজ্যিক নীতিমালা মেনেই বিশ্বজুড়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তাই আমেরিকার উচিত নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে এই ধরনের অন্যায্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তালিকা তৈরি অবিলম্বে বন্ধ করা এবং বিশ্ববাজারে চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও বৈষম্যহীন বাণিজ্যিক পরিবেশ নিশ্চিত করা। তবে আকস্মিকভাবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া আলিবাবা, বিওয়াইডি কিংবা বাইডুর মতো শীর্ষ চীনা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল