দিকপাল

কঙ্গোতে ইবোলার নতুন প্রাদুর্ভাব জরুরি মহাপরিকল্পনা ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ | ০৫:১৭ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

কঙ্গোতে ইবোলার নতুন প্রাদুর্ভাব জরুরি মহাপরিকল্পনা ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ ইবোলা মহামারি নিয়ন্ত্রণে এক বিশাল ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এই প্রাদুর্ভাবকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রায় পাঁচশত আঠারো মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশাল বাজেট ও কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেউসাস। এই বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় তিনি কেবল আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং সংশ্লিষ্ট দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, উন্নত দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে স্থানীয় সাধারণ জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই নিউজ এক বিশেষ প্রতিবেদনে কঙ্গোর এই উদীয়মান স্বাস্থ্য সংকটের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছে।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান যে, ২০২৬ সালের জুন মাস থেকে শুরু করে আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত আগামী ছয় মাসের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘মহাদেশীয় প্রস্তুতি ও সাড়াদান পরিকল্পনা’ গ্রহণ করা হয়েছে। আফ্রিকা মহাদেশের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌথভাবে এই সময়োপযোগী পরিকল্পনাটি প্রণয়ন করেছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় পাঁচশত আঠারো মিলিয়ন ডলার। এই বিশাল ও জটিল মানবিক কর্মসূচিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাশাপাশি অংশীদার হিসেবে একযোগে কাজ করবে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক তহবিল, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং রোগ নির্ণয় বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ফাইন্ডডিএক্স। এই সমন্বিত উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো কঙ্গোর প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইবোলার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করা এবং আক্রান্তদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসা।


মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেউসাস আরও জানান যে, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে বুন্দিবুজিও ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট এই মারাত্মক ইবোলা প্রাদুর্ভাব নিয়ে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদির সঙ্গে তাঁর একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে তিনি কঙ্গোর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রদেশ বুনিয়াতে নিজের সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ের সফরের অভিজ্ঞতা এবং সেখানকার বাস্তব চিত্র প্রেসিডেন্টকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। একই সাথে কঙ্গোতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এবং পরবর্তীতে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা একটি আধুনিক ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্রের বর্তমান কার্যক্রম নিয়েও তাদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। রোগ নির্ণয় ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং চিকিৎসার পরিধি দ্রুত বাড়ানোর ক্ষেত্রে কঙ্গো সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান।


ইবোলার মতো একটি মারাত্মক ছোঁয়াচে ও প্রাণঘাতী মহামারি নিয়ন্ত্রণে কেবল সরকারি বা আন্তর্জাতিক সংস্থাই যথেষ্ট নয়, বরং স্থানীয় সাধারণ মানুষকে সচেতন ও সংগঠিত করার বিষয়ে কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান উভয় নেতাই একমত পোষণ করেছেন। তেদরোস আধানোম গেব্রেউসাস অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, এই ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের বিস্তার রোধ করতে হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেই সবার আগে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এর বাস্তব অর্থ হলো—গ্রাম ও শহরের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক নেটওয়ার্কগুলোকে অবিলম্বে সক্রিয় করে তোলা, আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ দাফন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, সাধারণ মানুষের মাঝে সংক্রমণ প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করা এবং শরীরে রোগের কোনো সামান্য লক্ষণ দেখা দিলেই রোগীকে লুকিয়ে না রেখে দ্রুততম সময়ে বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে আসা। তিনি অত্যন্ত আশার বাণী শুনিয়ে বলেন যে, ইতিমধ্যে অনেক আক্রান্ত রোগী সঠিক সময়ে চিকিৎসা পেয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে নিজেদের বাড়ি ফিরে গেছেন, যা প্রমাণ করে যে প্রাথমিক অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা প্রদান করা কতটা কার্যকর।


তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, ইবোলার বিরুদ্ধে এই কঠিন লড়াইয়ের পাশাপাশি কঙ্গোতে চলমান অন্যান্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এবং সাধারণ মানবিক সহায়তাগুলোকে কোনোভাবেই অবহেলা বা পেছনে ফেলে রাখা যাবে না। কঙ্গোর প্রত্যন্ত অঞ্চলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সম্মুখসারির বীর স্বাস্থ্যকর্মীদের অসীম সাহস ও নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন যে, এই সংকটময় মুহূর্তে তাদের নিরাপত্তা এবং যথাযথ লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তিনি বিশ্বের ধনী রাষ্ট্র ও দাতা সংস্থাগুলোকে কঙ্গোর এই চরম বিপদের দিনে পাশে দাঁড়িয়ে সুসমন্বিত উপায়ে প্রয়োজনীয় অর্থ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি কঙ্গোর ওপর এমন কোনো অন্যায্য আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার জন্য বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি জোরালো অনুরোধ জানান, যা এই মহামারি প্রতিরোধের লড়াইকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কঙ্গো থেকে এই প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তারা দেশটির পাশে থাকবে এবং এই জরুরি অবস্থাকে একটি সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে কঙ্গোর সামগ্রিক ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাতকে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করতে কাজ করে যাবে।


চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, ইবোলা মূলত একটি অত্যন্ত মারাত্মক ভাইরাল হেমোরেজিক ফিভার বা সহজ ভাষায় রক্তক্ষরণকারী জ্বর, যা মূলত বুন্দিবুজিও ভাইরাস স্ট্রেনের সংক্রমণের কারণে মানুষের শরীরে বাসা বাঁধে। এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর ও ভয়ানক রোগ এবং এতে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর হার অন্য যেকোনো সাধারণ রোগের তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বুন্দিবুজিও স্ট্রেনজনিত ইবোলা রোগ প্রতিরোধ করার জন্য এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত কোনো কার্যকর ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি এবং এই ভাইরাসের সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসাপদ্ধতি বা ওষুধও বিজ্ঞানীদের হাতে নেই। ফলে একমাত্র সচেতনতা, কোয়ারেন্টাইন এবং লক্ষণভিত্তিক জরুরি চিকিৎসাই এই রোগ থেকে বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


কঙ্গোতে ইবোলার নতুন প্রাদুর্ভাব জরুরি মহাপরিকল্পনা ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ ইবোলা মহামারি নিয়ন্ত্রণে এক বিশাল ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এই প্রাদুর্ভাবকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রায় পাঁচশত আঠারো মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশাল বাজেট ও কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেউসাস। এই বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় তিনি কেবল আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং সংশ্লিষ্ট দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, উন্নত দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে স্থানীয় সাধারণ জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই নিউজ এক বিশেষ প্রতিবেদনে কঙ্গোর এই উদীয়মান স্বাস্থ্য সংকটের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছে।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান যে, ২০২৬ সালের জুন মাস থেকে শুরু করে আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত আগামী ছয় মাসের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘মহাদেশীয় প্রস্তুতি ও সাড়াদান পরিকল্পনা’ গ্রহণ করা হয়েছে। আফ্রিকা মহাদেশের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌথভাবে এই সময়োপযোগী পরিকল্পনাটি প্রণয়ন করেছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় পাঁচশত আঠারো মিলিয়ন ডলার। এই বিশাল ও জটিল মানবিক কর্মসূচিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাশাপাশি অংশীদার হিসেবে একযোগে কাজ করবে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক তহবিল, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং রোগ নির্ণয় বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ফাইন্ডডিএক্স। এই সমন্বিত উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো কঙ্গোর প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইবোলার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করা এবং আক্রান্তদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসা।


মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেউসাস আরও জানান যে, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে বুন্দিবুজিও ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট এই মারাত্মক ইবোলা প্রাদুর্ভাব নিয়ে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদির সঙ্গে তাঁর একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে তিনি কঙ্গোর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রদেশ বুনিয়াতে নিজের সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ের সফরের অভিজ্ঞতা এবং সেখানকার বাস্তব চিত্র প্রেসিডেন্টকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। একই সাথে কঙ্গোতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এবং পরবর্তীতে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা একটি আধুনিক ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্রের বর্তমান কার্যক্রম নিয়েও তাদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। রোগ নির্ণয় ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং চিকিৎসার পরিধি দ্রুত বাড়ানোর ক্ষেত্রে কঙ্গো সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান।


ইবোলার মতো একটি মারাত্মক ছোঁয়াচে ও প্রাণঘাতী মহামারি নিয়ন্ত্রণে কেবল সরকারি বা আন্তর্জাতিক সংস্থাই যথেষ্ট নয়, বরং স্থানীয় সাধারণ মানুষকে সচেতন ও সংগঠিত করার বিষয়ে কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান উভয় নেতাই একমত পোষণ করেছেন। তেদরোস আধানোম গেব্রেউসাস অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, এই ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের বিস্তার রোধ করতে হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেই সবার আগে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এর বাস্তব অর্থ হলো—গ্রাম ও শহরের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক নেটওয়ার্কগুলোকে অবিলম্বে সক্রিয় করে তোলা, আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ দাফন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, সাধারণ মানুষের মাঝে সংক্রমণ প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করা এবং শরীরে রোগের কোনো সামান্য লক্ষণ দেখা দিলেই রোগীকে লুকিয়ে না রেখে দ্রুততম সময়ে বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে আসা। তিনি অত্যন্ত আশার বাণী শুনিয়ে বলেন যে, ইতিমধ্যে অনেক আক্রান্ত রোগী সঠিক সময়ে চিকিৎসা পেয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে নিজেদের বাড়ি ফিরে গেছেন, যা প্রমাণ করে যে প্রাথমিক অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা প্রদান করা কতটা কার্যকর।


তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, ইবোলার বিরুদ্ধে এই কঠিন লড়াইয়ের পাশাপাশি কঙ্গোতে চলমান অন্যান্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এবং সাধারণ মানবিক সহায়তাগুলোকে কোনোভাবেই অবহেলা বা পেছনে ফেলে রাখা যাবে না। কঙ্গোর প্রত্যন্ত অঞ্চলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সম্মুখসারির বীর স্বাস্থ্যকর্মীদের অসীম সাহস ও নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন যে, এই সংকটময় মুহূর্তে তাদের নিরাপত্তা এবং যথাযথ লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তিনি বিশ্বের ধনী রাষ্ট্র ও দাতা সংস্থাগুলোকে কঙ্গোর এই চরম বিপদের দিনে পাশে দাঁড়িয়ে সুসমন্বিত উপায়ে প্রয়োজনীয় অর্থ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি কঙ্গোর ওপর এমন কোনো অন্যায্য আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার জন্য বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি জোরালো অনুরোধ জানান, যা এই মহামারি প্রতিরোধের লড়াইকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কঙ্গো থেকে এই প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তারা দেশটির পাশে থাকবে এবং এই জরুরি অবস্থাকে একটি সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে কঙ্গোর সামগ্রিক ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাতকে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করতে কাজ করে যাবে।


চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, ইবোলা মূলত একটি অত্যন্ত মারাত্মক ভাইরাল হেমোরেজিক ফিভার বা সহজ ভাষায় রক্তক্ষরণকারী জ্বর, যা মূলত বুন্দিবুজিও ভাইরাস স্ট্রেনের সংক্রমণের কারণে মানুষের শরীরে বাসা বাঁধে। এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর ও ভয়ানক রোগ এবং এতে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর হার অন্য যেকোনো সাধারণ রোগের তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বুন্দিবুজিও স্ট্রেনজনিত ইবোলা রোগ প্রতিরোধ করার জন্য এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত কোনো কার্যকর ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি এবং এই ভাইরাসের সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসাপদ্ধতি বা ওষুধও বিজ্ঞানীদের হাতে নেই। ফলে একমাত্র সচেতনতা, কোয়ারেন্টাইন এবং লক্ষণভিত্তিক জরুরি চিকিৎসাই এই রোগ থেকে বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল