দিকপাল

সংবাদমাধ্যমকে ‘অসৎ’ আখ্যা দিয়ে এনবিসির সাক্ষাৎকার ছাড়লেন ট্রাম্প


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ | ০৪:৪৮ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

সংবাদমাধ্যমকে ‘অসৎ’ আখ্যা দিয়ে এনবিসির সাক্ষাৎকার ছাড়লেন ট্রাম্প

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গত ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কথিত কারচুপি এবং ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিলে সংগঠিত ৬ জানুয়ারির নজিরবিহীন সহিংস বিদ্রোহে অভিযুক্তদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে তীক্ষ্ণ ও কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম এনবিসি-র ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠান ‘মিট দ্য প্রেস’-এ অংশ নিয়ে একপর্যায়ে চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি। অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকার একের পর এক যুক্তিনির্ভর ও অনুসন্ধানী প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে না পেরে এবং নিজের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করতে ব্যর্থ হয়ে মাঝপথেই সাক্ষাৎকার বর্জন করে স্টুডিও থেকে বেরিয়ে যান সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে ধারণ করা এই বিশেষ সাক্ষাৎকারে এনবিসি-র খ্যাতনামা সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক চরম উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও তর্কাতর্কি হয়, যার একপর্যায়ে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে কথা বলা বন্ধ করে দেন। গত শুক্রবার ধারণ করা এই বহুল আলোচিত সাক্ষাৎকারটি রবিবার বিশ্বজুড়ে সম্প্রচারিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।


টানা প্রায় পঞ্চাশ মিনিট ধরে চলা এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে আলোচনার গতিপ্রকৃতি একপর্যায়ে বেশ সংবেদনশীল দিকে মোড় নেয়। ট্রাম্প অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করেন যে, শুধু ২০২০ সালের মার্কিন সাধারণ নির্বাচনই নয়, বরং ক্যালিফোর্নিয়ায় সম্প্রতি চলমান প্রাইমারি নির্বাচনেও ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে ব্যাপক কারচুপি ও জালিয়াতি আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী ভোট গণনার ধীরগতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প প্রশ্ন তোলেন যে, ভোট গ্রহণের পর চার দিন পার হয়ে গেলেও কেন এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হচ্ছে না। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, ব্যালট বাক্স ও গণনার আড়ালে তারা আসলে জনগণের ভোটের সাথে বড় ধরনের প্রতারণা করছে। তবে অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা ক্রিস্টেন ওয়েলকার যখন এই গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর কারচুপির দাবির পক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ দেখতে চান, তখন তিনি কোনো তথ্য বা দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। উল্টো নিজের দাবির সপক্ষে এক অদ্ভুত যুক্তি দিয়ে ট্রাম্প বলেন যে, চারপাশের পরিস্থিতির দিকে তাকালেই এবং মানুষের কথা শুনলেই এটি পরিষ্কার বোঝা যায়।


উপস্থাপিকা তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত মন্তব্যকে নাকচ করে দিয়ে বলেন যে, স্রেফ নিজের অনুমান বা জনশ্রুতি কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় বা আইনি পর্যায়ে নির্বাচনের কারচুপির প্রমাণ হতে পারে না। ক্রিস্টেন ওয়েলকার ট্রাম্পকে প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন যে, ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ব্যালটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডাকযোগে বা চিঠির মাধ্যমে ভোটের ব্যাপক ব্যবহার করা হয় এবং প্রতিটি ভোট অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই-বাছাই করে গণনা করা হয়। আর এই কারণেই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করতে প্রশাসনের কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগা খুবই স্বাভাবিক ও আইনসম্মত একটি প্রক্রিয়া। উপস্থাপিকার এই যুক্তিপূর্ণ ও স্পষ্ট জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বেশি ক্ষিপ্ত ও উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি মেজাজ হারিয়ে সরাসরি উপস্থাপিকাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতেও দ্বিধাবোধ করেননি। ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় ক্রিস্টেনকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, বর্তমান নির্বাচন পরিচালনাকারীরা অত্যন্ত অসৎ এবং ঠিক তার মতোই পক্ষপাতদুষ্ট। তিনি আরও যোগ করেন যে, উপস্থাপিকা হয়তো নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালনে চরম অসততার আশ্রয় নিচ্ছেন, আর না হয় তিনি একজন আস্ত বোকা, যিনি বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে পারছেন না।


উত্তপ্ত এই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ও পরিকল্পিত এক দশমিক আট বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তহবিল নিয়েও দীর্ঘ কথা হয়, যা রাজনৈতিক মহলে ‘অস্ত্রায়ন-বিরোধী’ তহবিল নামে পরিচিত। সরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এককালীন বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও আইনি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শুরুতে এই বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যা নানামুখী সমালোচনার মুখে পড়ে বর্তমানে সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এই তহবিলটি নিয়ে ডেমোক্র্যাট দলের পাশাপাশি খোদ রিপাবলিকান পার্টির অনেক শীর্ষ নেতার মনেও গভীর সংশয় ও আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাদের ধারণা ছিল, এই বিশাল অর্থ মূলত ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ওয়াশিংটন ক্যাপিটল দাঙ্গায় সরাসরি অংশ নেওয়া এবং ভাঙচুর ও দেশদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত কট্টরপন্থীদের আইনি লড়াই ও পুনর্বাসনের জন্য গোপনে ব্যবহার করা হতে পারত। এই সহিংস দাঙ্গা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক সংঘাতের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ভূ-রাজনৈতিক প্রসঙ্গগুলো নিয়েও সাক্ষাৎকারে দীর্ঘ ও চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়।


ইন্টারভিউ চলাকালীন একের পর এক তীক্ষ্ণ ও অপ্রীতিকর প্রশ্নের বাণে জর্জরিত এবং কোণঠাসা হয়ে ট্রাম্প একপর্যায়ে চরম বিরক্ত ও ধৈর্যহারা হয়ে পড়েন। তিনি ক্যামেরার সামনেই অত্যন্ত রুক্ষ সুরে বলেন যে, তিনি আর এই বিষয়ে কোনো কথা বলতে চান না এবং সাক্ষাৎকারের এখানেই ইতি টানা উচিত, কারণ এই সমস্ত আজেবাজে প্রশ্ন শোনার মতো যথেষ্ট ধৈর্য তাঁর আর নেই। এরপরই তিনি ক্যামেরার পেছনে থাকা নিজের ব্যক্তিগত কর্মী ও নিরাপত্তা দলের সদস্যদের দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে বলেন যে, তারা যেন এখনই সেখান থেকে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। রেকর্ডিং সেট ও স্টুডিও ত্যাগ করার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করে এবং নিজের চিরচেনা ক্ষোভ উগরে দিয়ে যোগ করেন যে, একটি চরম অসৎ ও পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদমাধ্যমকে সাথে নিয়ে কোনো রাষ্ট্র বা দেশ কখনো বিশ্বমঞ্চে মহান বা শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে না।


সাক্ষাৎকারটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারিত হওয়ার পর উপস্থাপিকা ক্রিস্টেন ওয়েলকার এই বিষয়ে গণমাধ্যমে আরও কিছু পর্দার আড়ালের তথ্য শেয়ার করেছেন। তিনি জানান যে, সাক্ষাৎকারটি ধারণ করার সময় স্থানীয় এলাকায় অত্যন্ত প্রতিকূল আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত চলছিল, যার কারণে রেকর্ডিংয়ের সময় বেশ কিছু যান্ত্রিক ও কারিগরি গোলযোগের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে স্টুডিওতে ট্রাম্পের এমন আকস্মিক ক্ষোভ প্রকাশ এবং মাঝপথে সাক্ষাৎকার বন্ধ করে চলে যাওয়ার ঘটনাটি নিয়ে পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আবারও যোগাযোগ ও কথা হয়েছে। ক্রিস্টেন আশ্বস্ত করে বলেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তাঁর ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটেছে এবং সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট খুব শীঘ্রই ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দর্শকদের মুখোমুখি হতে এবং আরেকটি পূর্ণাঙ্গ ও বিশেষ সাক্ষাৎকার দিতে নীতিগতভাবে রাজি হয়েছেন।


সূত্র: বিবিসি  ।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


সংবাদমাধ্যমকে ‘অসৎ’ আখ্যা দিয়ে এনবিসির সাক্ষাৎকার ছাড়লেন ট্রাম্প

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গত ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কথিত কারচুপি এবং ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিলে সংগঠিত ৬ জানুয়ারির নজিরবিহীন সহিংস বিদ্রোহে অভিযুক্তদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে তীক্ষ্ণ ও কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম এনবিসি-র ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠান ‘মিট দ্য প্রেস’-এ অংশ নিয়ে একপর্যায়ে চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি। অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকার একের পর এক যুক্তিনির্ভর ও অনুসন্ধানী প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে না পেরে এবং নিজের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করতে ব্যর্থ হয়ে মাঝপথেই সাক্ষাৎকার বর্জন করে স্টুডিও থেকে বেরিয়ে যান সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে ধারণ করা এই বিশেষ সাক্ষাৎকারে এনবিসি-র খ্যাতনামা সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক চরম উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও তর্কাতর্কি হয়, যার একপর্যায়ে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে কথা বলা বন্ধ করে দেন। গত শুক্রবার ধারণ করা এই বহুল আলোচিত সাক্ষাৎকারটি রবিবার বিশ্বজুড়ে সম্প্রচারিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।


টানা প্রায় পঞ্চাশ মিনিট ধরে চলা এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে আলোচনার গতিপ্রকৃতি একপর্যায়ে বেশ সংবেদনশীল দিকে মোড় নেয়। ট্রাম্প অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করেন যে, শুধু ২০২০ সালের মার্কিন সাধারণ নির্বাচনই নয়, বরং ক্যালিফোর্নিয়ায় সম্প্রতি চলমান প্রাইমারি নির্বাচনেও ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে ব্যাপক কারচুপি ও জালিয়াতি আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী ভোট গণনার ধীরগতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প প্রশ্ন তোলেন যে, ভোট গ্রহণের পর চার দিন পার হয়ে গেলেও কেন এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হচ্ছে না। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, ব্যালট বাক্স ও গণনার আড়ালে তারা আসলে জনগণের ভোটের সাথে বড় ধরনের প্রতারণা করছে। তবে অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা ক্রিস্টেন ওয়েলকার যখন এই গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর কারচুপির দাবির পক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ দেখতে চান, তখন তিনি কোনো তথ্য বা দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। উল্টো নিজের দাবির সপক্ষে এক অদ্ভুত যুক্তি দিয়ে ট্রাম্প বলেন যে, চারপাশের পরিস্থিতির দিকে তাকালেই এবং মানুষের কথা শুনলেই এটি পরিষ্কার বোঝা যায়।


উপস্থাপিকা তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত মন্তব্যকে নাকচ করে দিয়ে বলেন যে, স্রেফ নিজের অনুমান বা জনশ্রুতি কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় বা আইনি পর্যায়ে নির্বাচনের কারচুপির প্রমাণ হতে পারে না। ক্রিস্টেন ওয়েলকার ট্রাম্পকে প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন যে, ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ব্যালটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডাকযোগে বা চিঠির মাধ্যমে ভোটের ব্যাপক ব্যবহার করা হয় এবং প্রতিটি ভোট অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই-বাছাই করে গণনা করা হয়। আর এই কারণেই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করতে প্রশাসনের কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগা খুবই স্বাভাবিক ও আইনসম্মত একটি প্রক্রিয়া। উপস্থাপিকার এই যুক্তিপূর্ণ ও স্পষ্ট জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বেশি ক্ষিপ্ত ও উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি মেজাজ হারিয়ে সরাসরি উপস্থাপিকাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতেও দ্বিধাবোধ করেননি। ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় ক্রিস্টেনকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, বর্তমান নির্বাচন পরিচালনাকারীরা অত্যন্ত অসৎ এবং ঠিক তার মতোই পক্ষপাতদুষ্ট। তিনি আরও যোগ করেন যে, উপস্থাপিকা হয়তো নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালনে চরম অসততার আশ্রয় নিচ্ছেন, আর না হয় তিনি একজন আস্ত বোকা, যিনি বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে পারছেন না।


উত্তপ্ত এই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ও পরিকল্পিত এক দশমিক আট বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তহবিল নিয়েও দীর্ঘ কথা হয়, যা রাজনৈতিক মহলে ‘অস্ত্রায়ন-বিরোধী’ তহবিল নামে পরিচিত। সরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এককালীন বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও আইনি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শুরুতে এই বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যা নানামুখী সমালোচনার মুখে পড়ে বর্তমানে সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এই তহবিলটি নিয়ে ডেমোক্র্যাট দলের পাশাপাশি খোদ রিপাবলিকান পার্টির অনেক শীর্ষ নেতার মনেও গভীর সংশয় ও আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাদের ধারণা ছিল, এই বিশাল অর্থ মূলত ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ওয়াশিংটন ক্যাপিটল দাঙ্গায় সরাসরি অংশ নেওয়া এবং ভাঙচুর ও দেশদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত কট্টরপন্থীদের আইনি লড়াই ও পুনর্বাসনের জন্য গোপনে ব্যবহার করা হতে পারত। এই সহিংস দাঙ্গা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক সংঘাতের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ভূ-রাজনৈতিক প্রসঙ্গগুলো নিয়েও সাক্ষাৎকারে দীর্ঘ ও চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়।


ইন্টারভিউ চলাকালীন একের পর এক তীক্ষ্ণ ও অপ্রীতিকর প্রশ্নের বাণে জর্জরিত এবং কোণঠাসা হয়ে ট্রাম্প একপর্যায়ে চরম বিরক্ত ও ধৈর্যহারা হয়ে পড়েন। তিনি ক্যামেরার সামনেই অত্যন্ত রুক্ষ সুরে বলেন যে, তিনি আর এই বিষয়ে কোনো কথা বলতে চান না এবং সাক্ষাৎকারের এখানেই ইতি টানা উচিত, কারণ এই সমস্ত আজেবাজে প্রশ্ন শোনার মতো যথেষ্ট ধৈর্য তাঁর আর নেই। এরপরই তিনি ক্যামেরার পেছনে থাকা নিজের ব্যক্তিগত কর্মী ও নিরাপত্তা দলের সদস্যদের দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে বলেন যে, তারা যেন এখনই সেখান থেকে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। রেকর্ডিং সেট ও স্টুডিও ত্যাগ করার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করে এবং নিজের চিরচেনা ক্ষোভ উগরে দিয়ে যোগ করেন যে, একটি চরম অসৎ ও পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদমাধ্যমকে সাথে নিয়ে কোনো রাষ্ট্র বা দেশ কখনো বিশ্বমঞ্চে মহান বা শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে না।


সাক্ষাৎকারটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারিত হওয়ার পর উপস্থাপিকা ক্রিস্টেন ওয়েলকার এই বিষয়ে গণমাধ্যমে আরও কিছু পর্দার আড়ালের তথ্য শেয়ার করেছেন। তিনি জানান যে, সাক্ষাৎকারটি ধারণ করার সময় স্থানীয় এলাকায় অত্যন্ত প্রতিকূল আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত চলছিল, যার কারণে রেকর্ডিংয়ের সময় বেশ কিছু যান্ত্রিক ও কারিগরি গোলযোগের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে স্টুডিওতে ট্রাম্পের এমন আকস্মিক ক্ষোভ প্রকাশ এবং মাঝপথে সাক্ষাৎকার বন্ধ করে চলে যাওয়ার ঘটনাটি নিয়ে পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আবারও যোগাযোগ ও কথা হয়েছে। ক্রিস্টেন আশ্বস্ত করে বলেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তাঁর ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটেছে এবং সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট খুব শীঘ্রই ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দর্শকদের মুখোমুখি হতে এবং আরেকটি পূর্ণাঙ্গ ও বিশেষ সাক্ষাৎকার দিতে নীতিগতভাবে রাজি হয়েছেন।


সূত্র: বিবিসি  ।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল