দিকপাল

আমাদের সম্পদ কারও যুদ্ধ তহবিল নয় : ইরান


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ | ০৪:২০ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

আমাদের সম্পদ কারও যুদ্ধ তহবিল নয় : ইরান

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্র দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতি পূরণের উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারের যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তার তীব্র ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ওই অঞ্চলের কোনো সরকারই ইরানের কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করার মতো আইনি বা রাজনৈতিক অবস্থানে নেই। রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক পোস্টে তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের নিজস্ব সম্পদ কোনোভাবেই ওয়াশিংটনের জন্য যুদ্ধের লুণ্ঠিত মালামাল নয়, কিংবা তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের বিলি করার কোনো তহবিলও নয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত অন্য এক কূটনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান স্কট বেসেন্ট একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দলকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক হামলায় ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণ করার জন্য বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। মূলত ভবিষ্যতের পুনর্গঠন কাজ এবং অতীতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য আমেরিকা তাদের দেশে জব্দ করে রাখা ইরানের কোটি কোটি ডলারের রাষ্ট্রীয় সম্পদ উপসাগরীয় মিত্রদের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইরান বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে তেহরানের দাবি, তারা কোনো স্বাধীন দেশের ওপর নয়, বরং ওই সমস্ত অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্বার্থ ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেই এই হামলাগুলো পরিচালনা করেছে। এমনকি গত শনিবারও কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানি বাহিনী।

মার্কিন সামরিক কমান্ডের দাবি অনুযায়ী, তারা ইরান থেকে ধেয়ে আসা সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টিকেই মাঝ আকাশে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। এই হামলায় কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির কিছু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে একটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি গবেষণা সংস্থার এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে কেবল জ্বালানি খাতের অবকাঠামো মেরামত ও সুরক্ষার পেছনেই এই অঞ্চলের দেশগুলোর প্রায় আটান্ন বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। এই বিপুল খরচের বোঝা ইরানের ওপর চাপানোর মার্কিন চেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরান সরকারের স্পষ্ট সম্মতি বা অনুমতি ছাড়া তাদের যেকোনো রাষ্ট্রীয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত, স্থানান্তর বা অন্য কোনো দেশের মধ্যে বণ্টন করা হলে তা হবে একটি নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক অপরাধ। ওয়াশিংটন যখন একদিকে তেহরানের সঙ্গে পর্দার আড়ালে আলোচনা ও সমঝোতার দাবি করছে, ঠিক তখনই এই ধরনের একতরফা পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল ও নিয়ন্ত্রণহীন করে তুলবে এবং ইরানও এর উপযুক্ত জবাব দেবে।

তিনি আরও যোগ করেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু দেশ নিজেদের ভৌগোলিক ভূখণ্ড, আকাশসীমা এবং কৌশলগত সামরিক সুবিধাগুলো ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানোর জন্য মার্কিন বাহিনীকে ছেড়ে দিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তারা কোনো ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য নয়, বরং ইরানের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার অপরাধে তাদেরই উচিত ইরান সরকারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া। উল্লেখ্য, চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, তার অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থগিত থাকা নিজেদের শত কোটি ডলারের তহবিল ছাড় করার দীর্ঘদিনের দাবি জানিয়ে আসছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—আমেরিকায় আটকে থাকা বিলিয়ন ডলারের রাষ্ট্রীয় সম্পদ অবিলম্বে অবমুক্ত করা, মার্কিন ও আন্তর্জাতিক সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক কর্তৃত্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করা।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


আমাদের সম্পদ কারও যুদ্ধ তহবিল নয় : ইরান

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্র দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতি পূরণের উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারের যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তার তীব্র ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ওই অঞ্চলের কোনো সরকারই ইরানের কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করার মতো আইনি বা রাজনৈতিক অবস্থানে নেই। রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক পোস্টে তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের নিজস্ব সম্পদ কোনোভাবেই ওয়াশিংটনের জন্য যুদ্ধের লুণ্ঠিত মালামাল নয়, কিংবা তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের বিলি করার কোনো তহবিলও নয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত অন্য এক কূটনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান স্কট বেসেন্ট একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দলকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক হামলায় ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণ করার জন্য বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। মূলত ভবিষ্যতের পুনর্গঠন কাজ এবং অতীতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য আমেরিকা তাদের দেশে জব্দ করে রাখা ইরানের কোটি কোটি ডলারের রাষ্ট্রীয় সম্পদ উপসাগরীয় মিত্রদের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইরান বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে তেহরানের দাবি, তারা কোনো স্বাধীন দেশের ওপর নয়, বরং ওই সমস্ত অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্বার্থ ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেই এই হামলাগুলো পরিচালনা করেছে। এমনকি গত শনিবারও কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানি বাহিনী।

মার্কিন সামরিক কমান্ডের দাবি অনুযায়ী, তারা ইরান থেকে ধেয়ে আসা সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টিকেই মাঝ আকাশে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। এই হামলায় কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির কিছু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে একটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি গবেষণা সংস্থার এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে কেবল জ্বালানি খাতের অবকাঠামো মেরামত ও সুরক্ষার পেছনেই এই অঞ্চলের দেশগুলোর প্রায় আটান্ন বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। এই বিপুল খরচের বোঝা ইরানের ওপর চাপানোর মার্কিন চেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরান সরকারের স্পষ্ট সম্মতি বা অনুমতি ছাড়া তাদের যেকোনো রাষ্ট্রীয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত, স্থানান্তর বা অন্য কোনো দেশের মধ্যে বণ্টন করা হলে তা হবে একটি নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক অপরাধ। ওয়াশিংটন যখন একদিকে তেহরানের সঙ্গে পর্দার আড়ালে আলোচনা ও সমঝোতার দাবি করছে, ঠিক তখনই এই ধরনের একতরফা পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল ও নিয়ন্ত্রণহীন করে তুলবে এবং ইরানও এর উপযুক্ত জবাব দেবে।

তিনি আরও যোগ করেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু দেশ নিজেদের ভৌগোলিক ভূখণ্ড, আকাশসীমা এবং কৌশলগত সামরিক সুবিধাগুলো ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানোর জন্য মার্কিন বাহিনীকে ছেড়ে দিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তারা কোনো ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য নয়, বরং ইরানের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার অপরাধে তাদেরই উচিত ইরান সরকারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া। উল্লেখ্য, চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, তার অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থগিত থাকা নিজেদের শত কোটি ডলারের তহবিল ছাড় করার দীর্ঘদিনের দাবি জানিয়ে আসছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—আমেরিকায় আটকে থাকা বিলিয়ন ডলারের রাষ্ট্রীয় সম্পদ অবিলম্বে অবমুক্ত করা, মার্কিন ও আন্তর্জাতিক সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক কর্তৃত্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করা।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল