দিকপাল

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে ৫ শর্ত দিল যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-জার্মানি


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ | ০৩:১৫ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে ৫ শর্ত দিল যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-জার্মানি

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে একটি ন্যায়সংগত, টেকসই এবং স্থায়ী শান্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে নতুন এক কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে ইউক্রেন। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ইউক্রেনের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তার প্রধান তিন ইউরোপীয় মিত্র দেশ—যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানি। সম্প্রতি লন্ডনে অনুষ্ঠিত অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর চার দেশের পক্ষ থেকে একটি যৌথ ঘোষণা জারি করা হয়েছে, যেখানে যুদ্ধ বন্ধের জন্য সুনির্দিষ্ট পাঁচটি কঠিন শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপের এই প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো যেকোনো পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশটির পাশে দৃঢ়ভাবে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


লন্ডনের বিখ্যাত ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ শীর্ষ বৈঠকে সশরীরে অংশ নেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর সঙ্গে আলোচনায় যোগ দেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউরোপের এই তিন প্রধান শক্তিকে একত্রে 'ই-৩ গ্রুপ' নামে অভিহিত করা হয়। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে যুদ্ধ অবসানের জন্য যে পাঁচটি শর্তের কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তার প্রথমটি হলো—রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে এবং সামরিক তৎপরতা বন্ধে সম্মত হতে হবে। দ্বিতীয় শর্তে বলা হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান অবস্থান বা ফ্রন্টলাইনকে আলোচনার শুরুর বিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে, তবে বলপ্রয়োগ বা সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে কোনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত পরিবর্তন করা যাবে না।


শর্তগুলোর মধ্যে তৃতীয় এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো—যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক এবং অত্যন্ত শক্তিশালী নিরাপত্তা গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। এই নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে একটি বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েন করার কথাও বলা হয়েছে। চতুর্থ শর্তে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার কৌশল হিসেবে জানানো হয়েছে, ক্রেমলিন যতক্ষণ না পর্যন্ত ইউক্রেনের ওপর তাদের এই অন্যায় আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধ করছে এবং যুদ্ধের কারণে হওয়া সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত পশ্চিমা বিশ্বে রাশিয়ার জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও অর্থ অবরুদ্ধ বা অবরুদ্ধই থাকবে, তা কোনোভাবেই অবমুক্ত করা হবে না। সর্বশেষ এবং পঞ্চম শর্ত অনুযায়ী, ভবিষ্যতের যেকোনো শান্তি চুক্তিতে অবশ্যই ইউক্রেনের পাশাপাশি সমগ্র ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা স্বার্থ ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।


এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে পাঠানো ভলোদিমির জেলেনস্কির একটি বিশেষ খোলা চিঠির ভূয়সী প্রশংসা করেন। ওই চিঠিতে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট চলমান রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞের অবসান ঘটাতে পুতিনকে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন জেলেনস্কির সেই সরাসরি আলোচনার শান্তি প্রস্তাবটি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে পুতিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইউক্রেনকে নিয়ে রাশিয়ার যে সুনির্দিষ্ট সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্য রয়েছে, তা সম্পূর্ণরূপে অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ কোনোভাবেই শেষ হবে না। ইউরোপীয় নেতারা জেলেনস্কির এই শান্তিকামী অবস্থানকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, এই শান্তি প্রক্রিয়ায় শুধু ইউরোপ নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং মধ্যস্থতা অত্যন্ত জরুরি।


বৈঠকে নেতারা বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোযোগ যখন মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের দিকে বেশি স্থানান্তরিত হয়েছে, তখন ইউক্রেন সংকটে আমেরিকার সম্পৃক্ততা ও মনোযোগ ধরে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। তারা মনে করেন, ওয়াশিংটনের সহযোগিতা ছাড়া ইউরোপের এই অংশে স্থায়ী শান্তি আনা কঠিন হবে। একই সঙ্গে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা ন্যাটো জোটে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ইউক্রেনের নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে অধিকার রয়েছে, তাকে পূর্ণ সম্মান জানানোর দাবি করা হয়। ইউরোপীয় নেতারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো তৃতীয় দেশের হুমকিতে ইউক্রেনের এই অধিকার খর্ব করা যাবে না।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে ৫ শর্ত দিল যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-জার্মানি

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে একটি ন্যায়সংগত, টেকসই এবং স্থায়ী শান্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে নতুন এক কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে ইউক্রেন। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ইউক্রেনের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তার প্রধান তিন ইউরোপীয় মিত্র দেশ—যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানি। সম্প্রতি লন্ডনে অনুষ্ঠিত অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর চার দেশের পক্ষ থেকে একটি যৌথ ঘোষণা জারি করা হয়েছে, যেখানে যুদ্ধ বন্ধের জন্য সুনির্দিষ্ট পাঁচটি কঠিন শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপের এই প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো যেকোনো পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশটির পাশে দৃঢ়ভাবে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


লন্ডনের বিখ্যাত ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ শীর্ষ বৈঠকে সশরীরে অংশ নেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর সঙ্গে আলোচনায় যোগ দেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউরোপের এই তিন প্রধান শক্তিকে একত্রে 'ই-৩ গ্রুপ' নামে অভিহিত করা হয়। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে যুদ্ধ অবসানের জন্য যে পাঁচটি শর্তের কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তার প্রথমটি হলো—রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে এবং সামরিক তৎপরতা বন্ধে সম্মত হতে হবে। দ্বিতীয় শর্তে বলা হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান অবস্থান বা ফ্রন্টলাইনকে আলোচনার শুরুর বিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে, তবে বলপ্রয়োগ বা সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে কোনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত পরিবর্তন করা যাবে না।


শর্তগুলোর মধ্যে তৃতীয় এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো—যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক এবং অত্যন্ত শক্তিশালী নিরাপত্তা গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। এই নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে একটি বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েন করার কথাও বলা হয়েছে। চতুর্থ শর্তে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার কৌশল হিসেবে জানানো হয়েছে, ক্রেমলিন যতক্ষণ না পর্যন্ত ইউক্রেনের ওপর তাদের এই অন্যায় আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধ করছে এবং যুদ্ধের কারণে হওয়া সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত পশ্চিমা বিশ্বে রাশিয়ার জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও অর্থ অবরুদ্ধ বা অবরুদ্ধই থাকবে, তা কোনোভাবেই অবমুক্ত করা হবে না। সর্বশেষ এবং পঞ্চম শর্ত অনুযায়ী, ভবিষ্যতের যেকোনো শান্তি চুক্তিতে অবশ্যই ইউক্রেনের পাশাপাশি সমগ্র ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা স্বার্থ ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।


এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে পাঠানো ভলোদিমির জেলেনস্কির একটি বিশেষ খোলা চিঠির ভূয়সী প্রশংসা করেন। ওই চিঠিতে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট চলমান রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞের অবসান ঘটাতে পুতিনকে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন জেলেনস্কির সেই সরাসরি আলোচনার শান্তি প্রস্তাবটি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে পুতিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইউক্রেনকে নিয়ে রাশিয়ার যে সুনির্দিষ্ট সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্য রয়েছে, তা সম্পূর্ণরূপে অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ কোনোভাবেই শেষ হবে না। ইউরোপীয় নেতারা জেলেনস্কির এই শান্তিকামী অবস্থানকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, এই শান্তি প্রক্রিয়ায় শুধু ইউরোপ নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং মধ্যস্থতা অত্যন্ত জরুরি।


বৈঠকে নেতারা বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোযোগ যখন মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের দিকে বেশি স্থানান্তরিত হয়েছে, তখন ইউক্রেন সংকটে আমেরিকার সম্পৃক্ততা ও মনোযোগ ধরে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। তারা মনে করেন, ওয়াশিংটনের সহযোগিতা ছাড়া ইউরোপের এই অংশে স্থায়ী শান্তি আনা কঠিন হবে। একই সঙ্গে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা ন্যাটো জোটে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ইউক্রেনের নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে অধিকার রয়েছে, তাকে পূর্ণ সম্মান জানানোর দাবি করা হয়। ইউরোপীয় নেতারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো তৃতীয় দেশের হুমকিতে ইউক্রেনের এই অধিকার খর্ব করা যাবে না।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল