সৌদি আরবজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির প্রশাসন। গত এক সপ্তাহে দেশটিতে আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের দায়ে সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্প্রতি সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই গণগ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা জোরদার এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার অংশ হিসেবে এই বিশেষ ও ব্যাপকভিত্তিক অভিযান চালানো হয় বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সরকারি বিবরণী অনুযায়ী, গত মে মাসের আটাশ তারিখ থেকে জুনের তিন তারিখ পর্যন্ত সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চল ও শহরে একযোগে এই চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাত্র এক সপ্তাহের এই অভিযানে মোট সাত হাজার সাতশত ষাটজন প্রবাসীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের অপরাধের ধরন বিশ্লেষণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের মধ্যে চার হাজার ষাটজনের বিরুদ্ধে বৈধ আবাসন বা বসবাসের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সীমান্ত নিরাপত্তা আইন অমান্য করায় দুই হাজার পাঁচশত চুয়াত্তর জন এবং দেশের প্রচলিত শ্রম আইন অমান্য করে অবৈধভাবে কাজ করার অপরাধে এক হাজার একশত ছাব্বিশ জনকে আটক করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং নিরাপত্তা বাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান সফল করে।
নথিপত্র ছাড়া বা অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পার হয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় আরও এক হাজার একশত চুরাশি জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে একটি বিশাল অংশ, অর্থাৎ প্রায় সত্তর শতাংশই ইথিওপিয়ার নাগরিক। এ ছাড়া আটাশ শতাংশ ইয়েমেনের এবং বাকি দুই শতাংশ অন্যান্য বিভিন্ন দেশের নাগরিক বলে জানা গেছে। একই সাথে, পরিচয় গোপন করে বা অবৈধ উপায়ে সৌদি আরব ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় আরও পঁচিশজন প্রবাসীকে আটক করা হয়। কেবল আইন লঙ্ঘনকারী প্রবাসীদেরই নয়, বরং এই অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া, যাতায়াতের সুবিধা করে দেওয়া এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার অপরাধে সৌদিতে বসবাসরত আরও ষোলোজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইতিমধ্যেই চার হাজার ছয়শত নব্বইজন অবৈধ প্রবাসীকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আরও চৌদ্দ হাজার চারশত পঁচানব্বইজন আইন লঙ্ঘনকারীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথিপত্র বা আউটপাস সংগ্রহের জন্য তাদের দেশের কূটনৈতিক মিশন তথা দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে চূড়ান্তভাবে দেশত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আরও সাড়ে আটশত প্রবাসীকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সব মিলিয়ে বিশ হাজার চারশত পঞ্চান্নজন পুরুষ এবং এক হাজার তিনশত উনিশজন নারীসহ মোট একুশ হাজার সাতশত চুয়াত্তরজন প্রবাসী আবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে সৌদির বিভিন্ন দপ্তরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি রয়েছেন। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এই কঠোর অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬
সৌদি আরবজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির প্রশাসন। গত এক সপ্তাহে দেশটিতে আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের দায়ে সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্প্রতি সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই গণগ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা জোরদার এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার অংশ হিসেবে এই বিশেষ ও ব্যাপকভিত্তিক অভিযান চালানো হয় বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সরকারি বিবরণী অনুযায়ী, গত মে মাসের আটাশ তারিখ থেকে জুনের তিন তারিখ পর্যন্ত সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চল ও শহরে একযোগে এই চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাত্র এক সপ্তাহের এই অভিযানে মোট সাত হাজার সাতশত ষাটজন প্রবাসীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের অপরাধের ধরন বিশ্লেষণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের মধ্যে চার হাজার ষাটজনের বিরুদ্ধে বৈধ আবাসন বা বসবাসের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সীমান্ত নিরাপত্তা আইন অমান্য করায় দুই হাজার পাঁচশত চুয়াত্তর জন এবং দেশের প্রচলিত শ্রম আইন অমান্য করে অবৈধভাবে কাজ করার অপরাধে এক হাজার একশত ছাব্বিশ জনকে আটক করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং নিরাপত্তা বাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান সফল করে।
নথিপত্র ছাড়া বা অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পার হয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় আরও এক হাজার একশত চুরাশি জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে একটি বিশাল অংশ, অর্থাৎ প্রায় সত্তর শতাংশই ইথিওপিয়ার নাগরিক। এ ছাড়া আটাশ শতাংশ ইয়েমেনের এবং বাকি দুই শতাংশ অন্যান্য বিভিন্ন দেশের নাগরিক বলে জানা গেছে। একই সাথে, পরিচয় গোপন করে বা অবৈধ উপায়ে সৌদি আরব ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় আরও পঁচিশজন প্রবাসীকে আটক করা হয়। কেবল আইন লঙ্ঘনকারী প্রবাসীদেরই নয়, বরং এই অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া, যাতায়াতের সুবিধা করে দেওয়া এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার অপরাধে সৌদিতে বসবাসরত আরও ষোলোজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইতিমধ্যেই চার হাজার ছয়শত নব্বইজন অবৈধ প্রবাসীকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আরও চৌদ্দ হাজার চারশত পঁচানব্বইজন আইন লঙ্ঘনকারীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথিপত্র বা আউটপাস সংগ্রহের জন্য তাদের দেশের কূটনৈতিক মিশন তথা দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে চূড়ান্তভাবে দেশত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আরও সাড়ে আটশত প্রবাসীকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সব মিলিয়ে বিশ হাজার চারশত পঞ্চান্নজন পুরুষ এবং এক হাজার তিনশত উনিশজন নারীসহ মোট একুশ হাজার সাতশত চুয়াত্তরজন প্রবাসী আবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে সৌদির বিভিন্ন দপ্তরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি রয়েছেন। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এই কঠোর অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন