দিকপাল

৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ৩ দেশে সুনামি আতঙ্ক


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ | ০৯:২১ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ৩ দেশে সুনামি আতঙ্ক

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের কাছাকাছি সমুদ্রতলে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এই ভূকম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৮। স্থানীয় সময় রবিবার সকাল পৌনে আটটার কিছু আগে এই তীব্র কম্পন অনুভূত হয় বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা। প্রচণ্ড শক্তির এই ভূমিকম্পের পর পরই এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ব্যাপক সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা নিয়ে ওই অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি থাকা ফিলিপাইনের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় তিন মিটার অর্থাৎ প্রায় দশ ফুট উচ্চতার ভয়াবহ সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। শুধু ফিলিপাইনই নয়, এই দুর্যোগের প্রভাব পড়তে পারে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও। ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার বেশ কিছু উপকূলীয় এলাকায় অন্তত এক মিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানার প্রবল আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে স্বস্তির খবর দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই শক্তিশালী ভূকম্পনের কারণে আমেরিকার কোনো উপকূলীয় অঞ্চলে সুনামি বা অন্য কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি নেই।

এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস পাওয়ার পরপরই ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এবং জাপানের সরকারি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে জীবন বাঁচাতে দ্রুত ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফিলিপাইনের আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, দেশের সারানগানি, ডাভাও অক্সিডেন্টাল, তাউই-তাউই এবং সুলুসহ মোট নয়টি প্রদেশের সমুদ্র উপকূলের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে কিংবা মূল ভূখণ্ডের অনেক ভেতরে চলে যেতে হবে। কোনো ধরনের অবহেলা না করে এই নির্দেশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই সাথে সমুদ্রে চলাচলকারী এবং নোঙর করে রাখা নৌযানগুলোর সুরক্ষায় বিশেষ এবং জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, যেসব নৌকা বা জাহাজ বর্তমানে বিভিন্ন বন্দর, নদীর মোহনা কিংবা অগভীর উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে, সেগুলোর মালিকদের দ্রুত তাদের নৌযান উপকূল থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিতে হবে। কারণ সুনামির ঢেউ অগভীর পানিতে সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। অন্যদিকে, যেসব নৌযান ইতিমধ্যেই গভীর সমুদ্রে অবস্থান করছে, সেগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্রের মাঝখানেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে, কারণ গভীর পানিতে সুনামির তীব্রতা তুলনামূলক কম অনুভূত হয়। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং উপকূলবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ৩ দেশে সুনামি আতঙ্ক

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের কাছাকাছি সমুদ্রতলে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এই ভূকম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৮। স্থানীয় সময় রবিবার সকাল পৌনে আটটার কিছু আগে এই তীব্র কম্পন অনুভূত হয় বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা। প্রচণ্ড শক্তির এই ভূমিকম্পের পর পরই এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ব্যাপক সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা নিয়ে ওই অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি থাকা ফিলিপাইনের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় তিন মিটার অর্থাৎ প্রায় দশ ফুট উচ্চতার ভয়াবহ সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। শুধু ফিলিপাইনই নয়, এই দুর্যোগের প্রভাব পড়তে পারে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও। ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার বেশ কিছু উপকূলীয় এলাকায় অন্তত এক মিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানার প্রবল আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে স্বস্তির খবর দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই শক্তিশালী ভূকম্পনের কারণে আমেরিকার কোনো উপকূলীয় অঞ্চলে সুনামি বা অন্য কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি নেই।

এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস পাওয়ার পরপরই ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এবং জাপানের সরকারি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে জীবন বাঁচাতে দ্রুত ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফিলিপাইনের আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, দেশের সারানগানি, ডাভাও অক্সিডেন্টাল, তাউই-তাউই এবং সুলুসহ মোট নয়টি প্রদেশের সমুদ্র উপকূলের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে কিংবা মূল ভূখণ্ডের অনেক ভেতরে চলে যেতে হবে। কোনো ধরনের অবহেলা না করে এই নির্দেশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই সাথে সমুদ্রে চলাচলকারী এবং নোঙর করে রাখা নৌযানগুলোর সুরক্ষায় বিশেষ এবং জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, যেসব নৌকা বা জাহাজ বর্তমানে বিভিন্ন বন্দর, নদীর মোহনা কিংবা অগভীর উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে, সেগুলোর মালিকদের দ্রুত তাদের নৌযান উপকূল থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিতে হবে। কারণ সুনামির ঢেউ অগভীর পানিতে সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। অন্যদিকে, যেসব নৌযান ইতিমধ্যেই গভীর সমুদ্রে অবস্থান করছে, সেগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্রের মাঝখানেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে, কারণ গভীর পানিতে সুনামির তীব্রতা তুলনামূলক কম অনুভূত হয়। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং উপকূলবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল