দিকপাল

যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থী গণবিক্ষোভ, উত্তাল পরিস্থিতি


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ | ০৪:২৫ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থী গণবিক্ষোভ, উত্তাল পরিস্থিতি

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দীর্ঘদিনের অবৈধ দখলদারিত্ব ও চলমান নৃশংসতার বিরুদ্ধে এবার ইউরোপের মাটিতে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার শহরে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষা এবং তাদের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিচার দাবিতে শত শত সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এক বিশাল ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। তীব্র শীত ও প্রতিকূল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানাতে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষ লাল-সবুজ-কালো রঙের ফিলিস্তিনি জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে এই অধিকার আদায়ের সমাবেশে যোগ দেন। বিক্ষোভকারীরা মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের চলমান সামরিক আগ্রাসন ও গণহত্যাকে অন্ধভাবে সমর্থন দেওয়া এবং অস্ত্র সরবরাহ করা অবিলম্বে বন্ধ করতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি জোর দাবি ও কড়া আহ্বান জানিয়েছেন।

গ্রেটার ম্যানচেস্টার অঞ্চলের ফিলিস্তিনপন্থী মানবাধিকার সংগঠন ‘ফ্রেন্ডস অব প্যালেস্টাইন’ কর্তৃক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্রে এই গণবিক্ষোভের এক অভূতপূর্ব চিত্র ফুটে উঠেছে। সেখানে দেখা যায়, হাজারো মানুষের সমাগমে মুখরিত বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনের পতাকা উঁচিয়ে এবং নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের সমর্থনে ও স্বাধীনতার পক্ষে উচ্চকণ্ঠে হরেক রকমের স্লোগান দিতে দিতে ম্যানচেস্টারের মূল সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করছেন। মিছিলের সম্মুখভাগে থাকা একদল আন্দোলনকারী ‘ইসরাইলি অবৈধ দখলদারিত্বের অবসান ঘটাও’ এবং ‘ফিলিস্তিনকে মুক্ত করো’—এমন সুনির্দিষ্ট দাবি সংবলিত একটি বিশাল ব্যানার বহন করছিলেন, যা পথচারী ও আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সমবেত বক্তারা অভিযোগ করেন যে, পশ্চিমা দেশগুলোর পরোক্ষ মদদ ও সমর্থনের কারণেই ইসরাইল দিনের পর দিন ফিলিস্তিনিদের ওপর আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে হামলা চালানোর সাহস পাচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতির এতসব প্রতিবাদের মাঝেও ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর ও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর অমানবিক ও রক্তক্ষয়ী আগ্রাসন নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়ে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত ১১ অক্টোবর কাগজে-কলমে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর করা হয়েছিল। তবে সেই যুদ্ধবিরতি চুক্তির তোয়াক্কা না করে ইসরাইলি বাহিনী তাদের চোরাগোপ্তা হামলা ও বোমাবর্ষণ চালিয়েই যাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত নতুন করে ৯৫১ জন ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২ হাজার ৯৮৪ জন নিরীহ মানুষ। এর বাইরেও এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলায় ধসে পড়া বহুতল ভবনের বিশাল ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অত্যন্ত সুচারুভাবে আরও ৭৮২ জনের গলিত ও ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছেন স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা। এই অন্তহীন সহিংসতা ও মানবিক বিপর্যয় পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে দিন দিন আরও বেশি অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার কারণে বিশ্বজুড়ে এমন যুদ্ধবিরোধী প্রতিবাদের তীব্রতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থী গণবিক্ষোভ, উত্তাল পরিস্থিতি

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬

featured Image

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দীর্ঘদিনের অবৈধ দখলদারিত্ব ও চলমান নৃশংসতার বিরুদ্ধে এবার ইউরোপের মাটিতে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার শহরে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষা এবং তাদের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিচার দাবিতে শত শত সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এক বিশাল ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। তীব্র শীত ও প্রতিকূল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানাতে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষ লাল-সবুজ-কালো রঙের ফিলিস্তিনি জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে এই অধিকার আদায়ের সমাবেশে যোগ দেন। বিক্ষোভকারীরা মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের চলমান সামরিক আগ্রাসন ও গণহত্যাকে অন্ধভাবে সমর্থন দেওয়া এবং অস্ত্র সরবরাহ করা অবিলম্বে বন্ধ করতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি জোর দাবি ও কড়া আহ্বান জানিয়েছেন।

গ্রেটার ম্যানচেস্টার অঞ্চলের ফিলিস্তিনপন্থী মানবাধিকার সংগঠন ‘ফ্রেন্ডস অব প্যালেস্টাইন’ কর্তৃক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্রে এই গণবিক্ষোভের এক অভূতপূর্ব চিত্র ফুটে উঠেছে। সেখানে দেখা যায়, হাজারো মানুষের সমাগমে মুখরিত বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনের পতাকা উঁচিয়ে এবং নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের সমর্থনে ও স্বাধীনতার পক্ষে উচ্চকণ্ঠে হরেক রকমের স্লোগান দিতে দিতে ম্যানচেস্টারের মূল সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করছেন। মিছিলের সম্মুখভাগে থাকা একদল আন্দোলনকারী ‘ইসরাইলি অবৈধ দখলদারিত্বের অবসান ঘটাও’ এবং ‘ফিলিস্তিনকে মুক্ত করো’—এমন সুনির্দিষ্ট দাবি সংবলিত একটি বিশাল ব্যানার বহন করছিলেন, যা পথচারী ও আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সমবেত বক্তারা অভিযোগ করেন যে, পশ্চিমা দেশগুলোর পরোক্ষ মদদ ও সমর্থনের কারণেই ইসরাইল দিনের পর দিন ফিলিস্তিনিদের ওপর আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে হামলা চালানোর সাহস পাচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতির এতসব প্রতিবাদের মাঝেও ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর ও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর অমানবিক ও রক্তক্ষয়ী আগ্রাসন নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়ে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত ১১ অক্টোবর কাগজে-কলমে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর করা হয়েছিল। তবে সেই যুদ্ধবিরতি চুক্তির তোয়াক্কা না করে ইসরাইলি বাহিনী তাদের চোরাগোপ্তা হামলা ও বোমাবর্ষণ চালিয়েই যাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত নতুন করে ৯৫১ জন ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২ হাজার ৯৮৪ জন নিরীহ মানুষ। এর বাইরেও এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলায় ধসে পড়া বহুতল ভবনের বিশাল ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অত্যন্ত সুচারুভাবে আরও ৭৮২ জনের গলিত ও ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছেন স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা। এই অন্তহীন সহিংসতা ও মানবিক বিপর্যয় পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে দিন দিন আরও বেশি অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার কারণে বিশ্বজুড়ে এমন যুদ্ধবিরোধী প্রতিবাদের তীব্রতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল