মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে ভয়াবহতার মাত্রা যোগ করে দক্ষিণ লেবাননজুড়ে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। গতকাল শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক ও নৃশংস হামলায় অন্তত ১২ জন ফিলিস্তিনি ও লেবাননীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, নিহতদের মধ্যে লেবাননের জাতীয় সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ ও জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাও রয়েছেন। এই ঘটনার ফলে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা এখন এক চরম ও অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।
লেবাননের সামরিক সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক জরুরি বিবৃতিতে এই কাপুরুষোচিত হামলার বিবরণ দিয়ে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারদালি থেকে নাবাতিয়া সংযোগকারী প্রধান সড়কের ওপর দিয়ে একটি নিয়মিত সামরিক যান যাওয়ার সময় ইসরাইলি যুদ্ধবিমান বা ড্রোন থেকে সেটিকে লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এই আকস্মিক ও সরাসরি হামলায় গাড়ির ভেতরে থাকা লেবানন সেনাবাহিনীর একজন সম্মানিত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, একজন ক্যাপ্টেন এবং একজন সাধারণ সেনাসদস্য ঘটনাস্থলেই অত্যন্ত নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ বা মৃত্যুবরণ করেন। আন্তর্জাতিক বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থল থেকে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে।
এই চরম উসকানিমূলক হামলার বিষয়ে তেল আবিবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এক সাফাই গেয়ে বলা হয়েছে, শনিবারের এই বিশেষ সামরিক অভিযানটি মূলত একটি অত্যন্ত সক্রিয় ও সচল যুদ্ধক্ষেত্রের ভেতরে পরিচালনা করা হয়েছিল। ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সের দাবি, ওই যুদ্ধকবলিত সংবেদনশীল এলাকায় যেকোনো ধরনের সামরিক বা আধা-সামরিক যান চলাচলের ক্ষেত্রে আগে থেকেই ইসরাইলি বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সমন্বয় বা যোগাযোগ করার প্রয়োজন ছিল, যা এই ক্ষেত্রে করা হয়নি। তবে উদ্ভূত উদ্দাম পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও তারা এক দায়সারা বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে। বিশ্বজুড়ে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনি ফুটবলারদের স্মরণে স্কটল্যান্ডে বিশেষ স্মরণসভার আয়োজন করার মতো বৈশ্বিক সংহতির মাঝেই লেবানন সীমান্তে এই নতুন রক্তপাত ঘটল।
তবে ইসরাইলি বাহিনীর এই খোঁড়া যুক্তি ও দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে লেবাননের জাতীয় সেনাবাহিনী। তাদের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, লেবাননের সার্বভৌমত্বকে পদদলিত করে ইসরাইল যেভাবে ইচ্ছাকৃত, পরিকল্পিত এবং বারবার এই নৃশংস সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে, তার একমাত্র মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার এবং একটি স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চলমান সব ধরনের সৎ প্রচেষ্টা ও সমঝোতাকে পুরোপুরি নস্যাৎ ও ব্যর্থ করে দেওয়া।
এই নজিরবিহীন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এক জরুরি বার্তায় একে লেবাননের ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও রীতিনীতির চরম ও প্রকাশ্য লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বিশ্বনেতাদের এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সাথে লেবাননের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এই বর্বরোচিত ঘটনাকে একটি অত্যন্ত জঘন্য, ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ এবং সরাসরি সমগ্র লেবানন রাষ্ট্র ও সব লেবাননীয় জনগণের আত্মমর্যাদার ওপর এক নগ্ন ও কাপুরুষোচিত হামলা বলে বর্ণনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এক শোকবার্তায় এই হামলায় নিহত দেশের বীর সেনানি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওয়াসাম সাবরা, বিচক্ষণ ক্যাপ্টেন এলি খৌরি এবং নিবেদিতপ্রাণ সেনাসদস্য হুসেইন ঘাজলের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবার, তাদের সহকর্মী এবং পুরো লেবানন সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি জ্ঞাপন করে বলেন, দেশের প্রতিরক্ষায় তাদের এই মহান আত্মত্যাগ লেবাননের ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার পথ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে ভয়াবহতার মাত্রা যোগ করে দক্ষিণ লেবাননজুড়ে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। গতকাল শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক ও নৃশংস হামলায় অন্তত ১২ জন ফিলিস্তিনি ও লেবাননীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, নিহতদের মধ্যে লেবাননের জাতীয় সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ ও জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাও রয়েছেন। এই ঘটনার ফলে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা এখন এক চরম ও অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।
লেবাননের সামরিক সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক জরুরি বিবৃতিতে এই কাপুরুষোচিত হামলার বিবরণ দিয়ে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারদালি থেকে নাবাতিয়া সংযোগকারী প্রধান সড়কের ওপর দিয়ে একটি নিয়মিত সামরিক যান যাওয়ার সময় ইসরাইলি যুদ্ধবিমান বা ড্রোন থেকে সেটিকে লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এই আকস্মিক ও সরাসরি হামলায় গাড়ির ভেতরে থাকা লেবানন সেনাবাহিনীর একজন সম্মানিত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, একজন ক্যাপ্টেন এবং একজন সাধারণ সেনাসদস্য ঘটনাস্থলেই অত্যন্ত নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ বা মৃত্যুবরণ করেন। আন্তর্জাতিক বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থল থেকে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে।
এই চরম উসকানিমূলক হামলার বিষয়ে তেল আবিবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এক সাফাই গেয়ে বলা হয়েছে, শনিবারের এই বিশেষ সামরিক অভিযানটি মূলত একটি অত্যন্ত সক্রিয় ও সচল যুদ্ধক্ষেত্রের ভেতরে পরিচালনা করা হয়েছিল। ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সের দাবি, ওই যুদ্ধকবলিত সংবেদনশীল এলাকায় যেকোনো ধরনের সামরিক বা আধা-সামরিক যান চলাচলের ক্ষেত্রে আগে থেকেই ইসরাইলি বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সমন্বয় বা যোগাযোগ করার প্রয়োজন ছিল, যা এই ক্ষেত্রে করা হয়নি। তবে উদ্ভূত উদ্দাম পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও তারা এক দায়সারা বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে। বিশ্বজুড়ে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনি ফুটবলারদের স্মরণে স্কটল্যান্ডে বিশেষ স্মরণসভার আয়োজন করার মতো বৈশ্বিক সংহতির মাঝেই লেবানন সীমান্তে এই নতুন রক্তপাত ঘটল।
তবে ইসরাইলি বাহিনীর এই খোঁড়া যুক্তি ও দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে লেবাননের জাতীয় সেনাবাহিনী। তাদের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, লেবাননের সার্বভৌমত্বকে পদদলিত করে ইসরাইল যেভাবে ইচ্ছাকৃত, পরিকল্পিত এবং বারবার এই নৃশংস সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে, তার একমাত্র মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার এবং একটি স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চলমান সব ধরনের সৎ প্রচেষ্টা ও সমঝোতাকে পুরোপুরি নস্যাৎ ও ব্যর্থ করে দেওয়া।
এই নজিরবিহীন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এক জরুরি বার্তায় একে লেবাননের ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও রীতিনীতির চরম ও প্রকাশ্য লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বিশ্বনেতাদের এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সাথে লেবাননের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এই বর্বরোচিত ঘটনাকে একটি অত্যন্ত জঘন্য, ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ এবং সরাসরি সমগ্র লেবানন রাষ্ট্র ও সব লেবাননীয় জনগণের আত্মমর্যাদার ওপর এক নগ্ন ও কাপুরুষোচিত হামলা বলে বর্ণনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এক শোকবার্তায় এই হামলায় নিহত দেশের বীর সেনানি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওয়াসাম সাবরা, বিচক্ষণ ক্যাপ্টেন এলি খৌরি এবং নিবেদিতপ্রাণ সেনাসদস্য হুসেইন ঘাজলের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবার, তাদের সহকর্মী এবং পুরো লেবানন সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি জ্ঞাপন করে বলেন, দেশের প্রতিরক্ষায় তাদের এই মহান আত্মত্যাগ লেবাননের ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার পথ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন