দক্ষিণ চীন সাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জের জলসীমায় চীন প্রথমবারের মতো একটি সমন্বিত সামরিক ও আধা-সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে বলে তীব্র ক্ষোভ ও দাবি উত্থাপন করেছে তাইওয়ান। স্বশাসিত দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানের উপকূলরক্ষী বাহিনী শনিবার (৬ জুন) অত্যন্ত কড়া ভাষায় দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, তাইওয়ানকে সরাসরি উসকানি দেওয়ার এবং ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে একটি চীনা উপকূলরক্ষী জাহাজ ও একটি আধুনিক জরিপ জাহাজ যৌথভাবে এই বিতর্কিত তৎপরতা চালিয়েছে। বেইজিংয়ের এমন আগ্রাসী নীতি এই অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
তাইওয়ানের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জটি মূলত দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চল। সমগ্র তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করা বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে এই দ্বীপটি এখন চীন ও তাইওয়ানের মধ্যকার সামরিক ও আধা-সামরিক দ্বন্দ্বের এক নতুন ও বিপজ্জনক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে মূল তাইওয়ান দ্বীপ থেকে এই প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জের দূরত্ব প্রায় চারশত কিলোমিটারেরও বেশি। ফলে এত দূরবর্তী এবং বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই অঞ্চলটিকে যেকোনো সময় চীনা সামরিক বাহিনীর আকস্মিক আক্রমণের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং অরক্ষিত বলে মনে করছেন। তাইওয়ানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৫ জুন) প্রথম একটি বিশালাকার চীনা উপকূলরক্ষী জাহাজ এবং পরবর্তী দিন শনিবার (৬ জুন) একটি বিশেষ চীনা জরিপ জাহাজ প্রাতাস দ্বীপের অত্যন্ত সংবেদনশীল জলসীমার ভেতরে অনধিকার প্রবেশ করে।
এই অনুপ্রবেশ ও যৌথ অভিযানের সময় চীনা উপকূলরক্ষী জাহাজটির পক্ষ থেকে বেতার বার্তার মাধ্যমে অত্যন্ত জোরালোভাবে জানানো হয় যে, তারা তাদের নিজস্ব জলসীমায় সম্পূর্ণ বৈধ ও নিয়মিত আইন প্রয়োগকারী অভিযান পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে তারা বেতার তরঙ্গে রাজনৈতিক প্রচার চালিয়ে বলতে থাকে যে, তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ কেবল এবং কেবলমাত্র চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে জাতীয় পুনর্মিলনের মধ্যেই নিহিত রয়েছে, অন্যথায় তাদের পরিণতি ভালো হবে না। এই উসকানিমূলক বার্তার জবাবে তাইওয়ান কর্তৃপক্ষও কালবিলম্ব না করে নিজেদের শক্তিশালী টহল জাহাজ দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠায়। তাইওয়ানিজ যুদ্ধজাহাজ থেকে চীনা বাহিনীকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত কড়া ভাষায় পাল্টা বার্তায় বলা হয়, আপনারা এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করা অবিলম্বে বন্ধ করুন। আপনাদের বরং নিজেদের দেশে ফিরে গিয়ে সেখানে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা উচিত—এটাই হবে আপনাদের নিজেদের দেশের সেবা করার সবচেয়ে সঠিক ও উপযুক্ত পথ।
এদিকে দুই দেশের সমুদ্রসীমার এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝেই তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রভাবশালী মহাসচিব জোসেফ উ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনা জাহাজ দুটির অনধিকার প্রবেশের সুনির্দিষ্ট গতিপথের মানচিত্র বা ম্যাপ প্রকাশ করে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বেইজিংয়ের এই আগ্রাসী মনোভাবের কঠোর সমালোচনা করে চীনকে একটি অসুস্থ গুণ্ডা হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। জোসেফ উ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, বেইজিং সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই পুরো শান্ত অঞ্চলে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক নানা অজুহাতে চীন এই প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জকে সবসময়ই নিজেদের মূল ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসলেও, তাইওয়ানের গণতান্ত্রিক সরকার বেইজিংয়ের সেই একতরফা ও সাম্রাজ্যবাদী দাবিকে বরাবরই অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে আসছে, যার ধারাবাহিকতায় সমুদ্রের বুকে দুই দেশের এই নতুন মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক দ্বৈরথ বিশ্ববাসীর নজর কাড়ছে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
দক্ষিণ চীন সাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জের জলসীমায় চীন প্রথমবারের মতো একটি সমন্বিত সামরিক ও আধা-সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে বলে তীব্র ক্ষোভ ও দাবি উত্থাপন করেছে তাইওয়ান। স্বশাসিত দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানের উপকূলরক্ষী বাহিনী শনিবার (৬ জুন) অত্যন্ত কড়া ভাষায় দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, তাইওয়ানকে সরাসরি উসকানি দেওয়ার এবং ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে একটি চীনা উপকূলরক্ষী জাহাজ ও একটি আধুনিক জরিপ জাহাজ যৌথভাবে এই বিতর্কিত তৎপরতা চালিয়েছে। বেইজিংয়ের এমন আগ্রাসী নীতি এই অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
তাইওয়ানের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জটি মূলত দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চল। সমগ্র তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করা বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে এই দ্বীপটি এখন চীন ও তাইওয়ানের মধ্যকার সামরিক ও আধা-সামরিক দ্বন্দ্বের এক নতুন ও বিপজ্জনক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে মূল তাইওয়ান দ্বীপ থেকে এই প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জের দূরত্ব প্রায় চারশত কিলোমিটারেরও বেশি। ফলে এত দূরবর্তী এবং বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই অঞ্চলটিকে যেকোনো সময় চীনা সামরিক বাহিনীর আকস্মিক আক্রমণের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং অরক্ষিত বলে মনে করছেন। তাইওয়ানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৫ জুন) প্রথম একটি বিশালাকার চীনা উপকূলরক্ষী জাহাজ এবং পরবর্তী দিন শনিবার (৬ জুন) একটি বিশেষ চীনা জরিপ জাহাজ প্রাতাস দ্বীপের অত্যন্ত সংবেদনশীল জলসীমার ভেতরে অনধিকার প্রবেশ করে।
এই অনুপ্রবেশ ও যৌথ অভিযানের সময় চীনা উপকূলরক্ষী জাহাজটির পক্ষ থেকে বেতার বার্তার মাধ্যমে অত্যন্ত জোরালোভাবে জানানো হয় যে, তারা তাদের নিজস্ব জলসীমায় সম্পূর্ণ বৈধ ও নিয়মিত আইন প্রয়োগকারী অভিযান পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে তারা বেতার তরঙ্গে রাজনৈতিক প্রচার চালিয়ে বলতে থাকে যে, তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ কেবল এবং কেবলমাত্র চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে জাতীয় পুনর্মিলনের মধ্যেই নিহিত রয়েছে, অন্যথায় তাদের পরিণতি ভালো হবে না। এই উসকানিমূলক বার্তার জবাবে তাইওয়ান কর্তৃপক্ষও কালবিলম্ব না করে নিজেদের শক্তিশালী টহল জাহাজ দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠায়। তাইওয়ানিজ যুদ্ধজাহাজ থেকে চীনা বাহিনীকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত কড়া ভাষায় পাল্টা বার্তায় বলা হয়, আপনারা এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করা অবিলম্বে বন্ধ করুন। আপনাদের বরং নিজেদের দেশে ফিরে গিয়ে সেখানে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা উচিত—এটাই হবে আপনাদের নিজেদের দেশের সেবা করার সবচেয়ে সঠিক ও উপযুক্ত পথ।
এদিকে দুই দেশের সমুদ্রসীমার এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝেই তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রভাবশালী মহাসচিব জোসেফ উ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনা জাহাজ দুটির অনধিকার প্রবেশের সুনির্দিষ্ট গতিপথের মানচিত্র বা ম্যাপ প্রকাশ করে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বেইজিংয়ের এই আগ্রাসী মনোভাবের কঠোর সমালোচনা করে চীনকে একটি অসুস্থ গুণ্ডা হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। জোসেফ উ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, বেইজিং সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই পুরো শান্ত অঞ্চলে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক নানা অজুহাতে চীন এই প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জকে সবসময়ই নিজেদের মূল ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসলেও, তাইওয়ানের গণতান্ত্রিক সরকার বেইজিংয়ের সেই একতরফা ও সাম্রাজ্যবাদী দাবিকে বরাবরই অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে আসছে, যার ধারাবাহিকতায় সমুদ্রের বুকে দুই দেশের এই নতুন মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক দ্বৈরথ বিশ্ববাসীর নজর কাড়ছে।

আপনার মতামত লিখুন