দিকপাল

ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞা ‘বুমেরাং’ হবে: মোদিকে ইঙ্গিত পুতিনের


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ | ০২:০২ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞা ‘বুমেরাং’ হবে: মোদিকে ইঙ্গিত পুতিনের

বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান অবস্থান এবং সার্বভৌমত্বের ওপর আলোকপাত করে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ কিংবা দেশটির সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করার যেকোনো ধরনের বাহ্যিক চেষ্টা বা তথাকথিত 'নিষেধাজ্ঞার হুমকি' প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শক্তিশালী নেতৃত্বের কারণে উল্টো হিতে বিপরীত বা 'বুমেরাং' হয়ে ধেয়ে আসবে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ রাষ্ট্রপ্রধান। ভারতকে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন, স্বনির্ভর এবং অদম্য সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করে তিনি এই মন্তব্য করেন। ভারতের শীর্ষস্থানীয় ও প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'দ্য হিন্দু' এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে।

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে আয়োজিত বার্ষিক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের এক উন্মুক্ত অধিবেশনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুতিন অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে এই বক্তব্য পেশ করেন। এর মাত্র এক দিন আগে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলোর প্রধানদের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভাতেও তিনি প্রায় একই ধরনের জোরালো মন্তব্য করেছিলেন। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ভারত তার দীর্ঘদিনের ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় সবসময় একটি সম্পূর্ণ সার্বভৌম দেশ হিসেবে নিজের যেকোনো কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিজেই গ্রহণ করে থাকে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বলিষ্ঠ ও আপসহীন নেতৃত্বে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য হুমকি বা চাপ সৃষ্টির চেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে বুমেরাং হয়ে যারা হুমকি দেবে তাদের দিকেই ফিরে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভ্লাদিমির পুতিন অতীতে নরেন্দ্র মোদির ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জারি করা বিতর্কিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও এই সময় খোলামেলাভাবে স্মরণ করিয়ে দেন। পুতিন বলেন, তিনি খুব ভালো করেই জানেন যে প্রধানমন্ত্রী মোদি কখনোই অতীতের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়টি ভুলে যাবেন না। তবে কালের পরিক্রমায় আজ তিনি বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং তার ওপর থেকে পূর্বের সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে পশ্চিমা বিশ্ব। তিনি আরও যোগ করেন যে, যতটুকু তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বোঝেন, সেই অনুযায়ী বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশ সফলভাবেই সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে।

ভবিষ্যতে ভারত যদি রাশিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সুখই-৫৭ কিংবা অত্যন্ত শক্তিশালী ও দুর্ভেদ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৫০০ ক্রয় করে, তবে দেশটির ওপর নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে কি না— সাংবাদিকদের এমন এক সুনির্দিষ্ট ও সংবেদনশীল প্রশ্নের জবাবে পুতিন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, নয়াদিল্লি কোনো অবস্থাতেই কোনো বাহ্যিক শক্তির হুমকিতে মাথা নত করবে না। পুতিন বলেন, ভারত একটি স্বাধীন ও মুক্ত রাষ্ট্র। সামরিক বা বেসামরিক ক্ষেত্রে যে পণ্যটি তাদের নিজেদের দেশের জন্য সবচেয়ে আধুনিক, উপযোগী, দীর্ঘমেয়াদি ও সাশ্রয়ী মনে হবে, সেটি মুক্তভাবে বেছে নেওয়ার পূর্ণ অধিকার ও স্বাধীনতা তাদের রয়েছে। বাইরের কোনো দেশ কে কী বলল বা কে কী ভাবল, তাতে ভারতের মতো পরাশক্তির কিছু যায় আসে না। তারা সবসময় নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে সবার ওপরে রেখে এভাবেই কাজ করে এসেছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার যে সহযোগিতাপূর্ণ ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে, তা সাময়িক কোনো বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর বা কোনো তৃতীয় পক্ষের বাধানিষেধের ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন যে, তাদের দুই দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বাইরে থেকে কেউ হুকুম চালাতে বা ডিক্টেশন দিতে পারে না, এমনকি কেউ তাদের ওপর হুকুম চালানোর ন্যূনতম সাহসও দেখাবে না। রাশিয়া ও ভারত যা সঠিক মনে করে, সবসময় তা-ই করবে। বিশেষ করে ভারতের মতো অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত অংশীদারদের দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি রাশিয়া সবসময় রক্ষা করবে।

ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের গভীর প্রতিরক্ষা সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পুতিন বলেন, এই অংশীদারিত্ব কেবল সাধারণ পণ্য কেনাবেচা বা বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাশিয়া ও ভারত শুধু সামরিক সরঞ্জাম আমদানি-রপ্তানি করে না, বরং দুই দেশের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে উন্নত গবেষণা ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করে থাকে। এর অন্যতম বড় উদাহরণ হিসেবে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি মাঝারি পাল্লার বিখ্যাত 'ব্রাহ্মোস' ক্ষেপণাস্ত্রের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সুখই-৫৭ প্রসঙ্গে পুতিন জানান, রাশিয়া প্রথমে যৌথভাবে এটি তৈরির প্রস্তাব দিলেও পরবর্তীতে কিছু জটিলতার কারণে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে রাশিয়া নিজস্ব প্রযুক্তিতেই এটি সফলভাবে তৈরি করেছে। পুতিন দাবি করেন যে, সুখই-৫৭ অত্যন্ত চমৎকার একটি যুদ্ধবিমান এবং সম্ভবত এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ও শক্তিশালী ফাইটার জেট, যা তারা ভারতের কাছে বিক্রি করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

বিগত কয়েক দশক ধরে রাশিয়াই ভারতের প্রধান সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে কিছুটা বিঘ্ন ঘটা এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে কিছুটা বিলম্ব হওয়ার কারণে নয়াদিল্লি বর্তমানে নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অভ্যন্তরীণভাবে জোরদারে এবং বিকল্প উৎসের সন্ধানে মনোযোগ দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ভারত তার নিজস্ব প্রযুক্তিতে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির জন্য একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসের বৃহত্তম দেশীয় মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তির এই যুদ্ধবিমান ২০৩৫ সালের আগে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের শূন্যতা পূরণ করতে এবং বিমানবাহিনীর আকাশসীমা প্রতিরক্ষার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে ভারত সরকার রাশিয়ার কাছ থেকে অন্তত দুই স্কোয়াড্রন অর্থাৎ প্রায় ৩৬টি অত্যাধুনিক সুখই-৫৭ যুদ্ধবিমান সরাসরি কেনার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে, যদি সেগুলো ভারতের সব কারিগরি ও কৌশলগত শর্ত পূরণ করতে সমর্থ হয়।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞা ‘বুমেরাং’ হবে: মোদিকে ইঙ্গিত পুতিনের

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬

featured Image

বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান অবস্থান এবং সার্বভৌমত্বের ওপর আলোকপাত করে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ কিংবা দেশটির সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করার যেকোনো ধরনের বাহ্যিক চেষ্টা বা তথাকথিত 'নিষেধাজ্ঞার হুমকি' প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শক্তিশালী নেতৃত্বের কারণে উল্টো হিতে বিপরীত বা 'বুমেরাং' হয়ে ধেয়ে আসবে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ রাষ্ট্রপ্রধান। ভারতকে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন, স্বনির্ভর এবং অদম্য সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করে তিনি এই মন্তব্য করেন। ভারতের শীর্ষস্থানীয় ও প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'দ্য হিন্দু' এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে।

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে আয়োজিত বার্ষিক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের এক উন্মুক্ত অধিবেশনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুতিন অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে এই বক্তব্য পেশ করেন। এর মাত্র এক দিন আগে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলোর প্রধানদের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভাতেও তিনি প্রায় একই ধরনের জোরালো মন্তব্য করেছিলেন। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ভারত তার দীর্ঘদিনের ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় সবসময় একটি সম্পূর্ণ সার্বভৌম দেশ হিসেবে নিজের যেকোনো কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিজেই গ্রহণ করে থাকে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বলিষ্ঠ ও আপসহীন নেতৃত্বে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য হুমকি বা চাপ সৃষ্টির চেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে বুমেরাং হয়ে যারা হুমকি দেবে তাদের দিকেই ফিরে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভ্লাদিমির পুতিন অতীতে নরেন্দ্র মোদির ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জারি করা বিতর্কিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও এই সময় খোলামেলাভাবে স্মরণ করিয়ে দেন। পুতিন বলেন, তিনি খুব ভালো করেই জানেন যে প্রধানমন্ত্রী মোদি কখনোই অতীতের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়টি ভুলে যাবেন না। তবে কালের পরিক্রমায় আজ তিনি বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং তার ওপর থেকে পূর্বের সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে পশ্চিমা বিশ্ব। তিনি আরও যোগ করেন যে, যতটুকু তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বোঝেন, সেই অনুযায়ী বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশ সফলভাবেই সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে।

ভবিষ্যতে ভারত যদি রাশিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সুখই-৫৭ কিংবা অত্যন্ত শক্তিশালী ও দুর্ভেদ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৫০০ ক্রয় করে, তবে দেশটির ওপর নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে কি না— সাংবাদিকদের এমন এক সুনির্দিষ্ট ও সংবেদনশীল প্রশ্নের জবাবে পুতিন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, নয়াদিল্লি কোনো অবস্থাতেই কোনো বাহ্যিক শক্তির হুমকিতে মাথা নত করবে না। পুতিন বলেন, ভারত একটি স্বাধীন ও মুক্ত রাষ্ট্র। সামরিক বা বেসামরিক ক্ষেত্রে যে পণ্যটি তাদের নিজেদের দেশের জন্য সবচেয়ে আধুনিক, উপযোগী, দীর্ঘমেয়াদি ও সাশ্রয়ী মনে হবে, সেটি মুক্তভাবে বেছে নেওয়ার পূর্ণ অধিকার ও স্বাধীনতা তাদের রয়েছে। বাইরের কোনো দেশ কে কী বলল বা কে কী ভাবল, তাতে ভারতের মতো পরাশক্তির কিছু যায় আসে না। তারা সবসময় নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে সবার ওপরে রেখে এভাবেই কাজ করে এসেছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার যে সহযোগিতাপূর্ণ ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে, তা সাময়িক কোনো বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর বা কোনো তৃতীয় পক্ষের বাধানিষেধের ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন যে, তাদের দুই দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বাইরে থেকে কেউ হুকুম চালাতে বা ডিক্টেশন দিতে পারে না, এমনকি কেউ তাদের ওপর হুকুম চালানোর ন্যূনতম সাহসও দেখাবে না। রাশিয়া ও ভারত যা সঠিক মনে করে, সবসময় তা-ই করবে। বিশেষ করে ভারতের মতো অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত অংশীদারদের দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি রাশিয়া সবসময় রক্ষা করবে।

ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের গভীর প্রতিরক্ষা সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পুতিন বলেন, এই অংশীদারিত্ব কেবল সাধারণ পণ্য কেনাবেচা বা বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাশিয়া ও ভারত শুধু সামরিক সরঞ্জাম আমদানি-রপ্তানি করে না, বরং দুই দেশের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে উন্নত গবেষণা ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করে থাকে। এর অন্যতম বড় উদাহরণ হিসেবে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি মাঝারি পাল্লার বিখ্যাত 'ব্রাহ্মোস' ক্ষেপণাস্ত্রের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সুখই-৫৭ প্রসঙ্গে পুতিন জানান, রাশিয়া প্রথমে যৌথভাবে এটি তৈরির প্রস্তাব দিলেও পরবর্তীতে কিছু জটিলতার কারণে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে রাশিয়া নিজস্ব প্রযুক্তিতেই এটি সফলভাবে তৈরি করেছে। পুতিন দাবি করেন যে, সুখই-৫৭ অত্যন্ত চমৎকার একটি যুদ্ধবিমান এবং সম্ভবত এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ও শক্তিশালী ফাইটার জেট, যা তারা ভারতের কাছে বিক্রি করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

বিগত কয়েক দশক ধরে রাশিয়াই ভারতের প্রধান সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে কিছুটা বিঘ্ন ঘটা এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে কিছুটা বিলম্ব হওয়ার কারণে নয়াদিল্লি বর্তমানে নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অভ্যন্তরীণভাবে জোরদারে এবং বিকল্প উৎসের সন্ধানে মনোযোগ দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ভারত তার নিজস্ব প্রযুক্তিতে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির জন্য একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসের বৃহত্তম দেশীয় মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তির এই যুদ্ধবিমান ২০৩৫ সালের আগে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের শূন্যতা পূরণ করতে এবং বিমানবাহিনীর আকাশসীমা প্রতিরক্ষার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে ভারত সরকার রাশিয়ার কাছ থেকে অন্তত দুই স্কোয়াড্রন অর্থাৎ প্রায় ৩৬টি অত্যাধুনিক সুখই-৫৭ যুদ্ধবিমান সরাসরি কেনার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে, যদি সেগুলো ভারতের সব কারিগরি ও কৌশলগত শর্ত পূরণ করতে সমর্থ হয়।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল