ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথভাবে শুরু করা সামরিক আগ্রাসনের আজ রবিবার (৭ জুন) একশত দিন পূর্ণ হলো। তবে দীর্ঘ একশো দিন পার হওয়ার পরও এই যুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের কাছে চরমভাবে অজনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্যতাহীন রয়ে গেছে। রণক্ষেত্রের লড়াই এবং যুদ্ধবিরতির আলোচনার টানাপোড়েনের মাঝে চলমান এই সংঘাত এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার দল রিপাবলিকান পার্টির জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক দায় ও বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সংঘাতের শুরু থেকেই মার্কিন জনমত ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিল না। যুদ্ধ শুরুর অনেক আগে বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল যে, বেশিরভাগ আমেরিকান নাগরিকই ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের বোমাবর্ষণ বা সামরিক হামলার তীব্র বিরোধী ছিলেন। যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পরও জনমতের এই নেতিবাচক অবস্থানের কোনো পরিবর্তন বা উন্নতি হয়নি। বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিংহভাগ ভোটার ও সাধারণ নাগরিক এই যুদ্ধকে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এবং দেশের অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক স্বার্থের জন্য চরম ক্ষতিকর বলে মনে করছেন।
এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মার্কিন জনগণের মনস্তত্ত্ব ও জনমত বুঝতে একটি বিশেষ জরিপ পরিচালনা করেছে মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির শান্তি ও উন্নয়ন বিভাগের নামী অধ্যাপক শিবলি তেলহামি এই সমীক্ষার নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি জানান, এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে খুব কম সংখ্যক আমেরিকানই বিশ্বাস করেন যে ইরানের সাথে এই যুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করছে বা দেশের কোনো উপকারে আসছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের অভ্যন্তরে এই যুদ্ধের প্রতি এমন গণসমর্থনের অভাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ এই জনরোষ দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানকে মারাত্মকভাবে দুর্বল ও নড়বড়ে করে দিতে পারে। বিশেষ করে আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা এই জনঅসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ফিরিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে। যদি ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পায়, তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের সমস্ত রাজনৈতিক এজেন্ডা ও প্রশাসনিক কর্মসূচি বড় ধরনের বাধার মুখে পড়বে।
একই সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের আরও দুটি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস বা ভূপাতিত করার দাবি করেছে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের সক্রিয়তা প্রমাণ করলেও দেশের মানুষের মন গলাতে পারছে না। মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই গুরুত্বপূর্ণ জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৬ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করেন যে যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জয়লাভ করেছে কিংবা বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই ফলাফল প্রমাণ করে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধক্ষেত্রে দফায় দফায় নিজেদের অভাবনীয় সাফল্যের দাবি করলেও সচেতন মার্কিন সমাজ সেই ফাঁকা বচন বা বিজয়ের দাবিতে মোটেও সন্তুষ্ট হতে পারছে না।
সমীক্ষার বিস্তারিত তথ্যে আরও উঠে এসেছে যে, দেশটির মূল ধারার সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি ৩৩ শতাংশ কট্টর রিপাবলিকান সমর্থকও মনে করেন, এই যুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলার চেয়ে নেতিবাচক বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাবই বেশি ফেলেছে। এর বিপরীতে মাত্র ১২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন যে এই যুদ্ধের প্রভাব নেতিবাচক দিকের চেয়ে ইতিবাচক বেশি হয়েছে।
নিজের করা জরিপের এমন ফলাফলকে অভূতপূর্ব ও বিস্ময়কর বলে অভিহিত করেছেন অধ্যাপক শিবলি তেলহামি। তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, স্বয়ং রিপাবলিকান পার্টির সমর্থকেরা যখন নিজেদের সরকারের শুরু করা যুদ্ধকে দেশের স্বার্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে, তখন বুঝতে হবে এটি মার্কিন রাজনীতিতে এক বিশাল বড় মোড় বা পরিবর্তন। এই মনোভাব তরুণ এবং প্রবীণ উভয় মার্কিন রিপাবলিকানদের মধ্যেই সমানভাবে সত্য। তিনি মনে করেন, জনমতের এই বড় ধাক্কা আগামী দিনগুলোতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ও বিপদ ডেকে আনবে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথভাবে শুরু করা সামরিক আগ্রাসনের আজ রবিবার (৭ জুন) একশত দিন পূর্ণ হলো। তবে দীর্ঘ একশো দিন পার হওয়ার পরও এই যুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের কাছে চরমভাবে অজনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্যতাহীন রয়ে গেছে। রণক্ষেত্রের লড়াই এবং যুদ্ধবিরতির আলোচনার টানাপোড়েনের মাঝে চলমান এই সংঘাত এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার দল রিপাবলিকান পার্টির জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক দায় ও বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সংঘাতের শুরু থেকেই মার্কিন জনমত ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিল না। যুদ্ধ শুরুর অনেক আগে বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল যে, বেশিরভাগ আমেরিকান নাগরিকই ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের বোমাবর্ষণ বা সামরিক হামলার তীব্র বিরোধী ছিলেন। যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পরও জনমতের এই নেতিবাচক অবস্থানের কোনো পরিবর্তন বা উন্নতি হয়নি। বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিংহভাগ ভোটার ও সাধারণ নাগরিক এই যুদ্ধকে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এবং দেশের অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক স্বার্থের জন্য চরম ক্ষতিকর বলে মনে করছেন।
এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মার্কিন জনগণের মনস্তত্ত্ব ও জনমত বুঝতে একটি বিশেষ জরিপ পরিচালনা করেছে মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির শান্তি ও উন্নয়ন বিভাগের নামী অধ্যাপক শিবলি তেলহামি এই সমীক্ষার নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি জানান, এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে খুব কম সংখ্যক আমেরিকানই বিশ্বাস করেন যে ইরানের সাথে এই যুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করছে বা দেশের কোনো উপকারে আসছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের অভ্যন্তরে এই যুদ্ধের প্রতি এমন গণসমর্থনের অভাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ এই জনরোষ দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানকে মারাত্মকভাবে দুর্বল ও নড়বড়ে করে দিতে পারে। বিশেষ করে আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা এই জনঅসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ফিরিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে। যদি ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পায়, তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের সমস্ত রাজনৈতিক এজেন্ডা ও প্রশাসনিক কর্মসূচি বড় ধরনের বাধার মুখে পড়বে।
একই সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের আরও দুটি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস বা ভূপাতিত করার দাবি করেছে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের সক্রিয়তা প্রমাণ করলেও দেশের মানুষের মন গলাতে পারছে না। মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই গুরুত্বপূর্ণ জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৬ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করেন যে যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জয়লাভ করেছে কিংবা বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই ফলাফল প্রমাণ করে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধক্ষেত্রে দফায় দফায় নিজেদের অভাবনীয় সাফল্যের দাবি করলেও সচেতন মার্কিন সমাজ সেই ফাঁকা বচন বা বিজয়ের দাবিতে মোটেও সন্তুষ্ট হতে পারছে না।
সমীক্ষার বিস্তারিত তথ্যে আরও উঠে এসেছে যে, দেশটির মূল ধারার সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি ৩৩ শতাংশ কট্টর রিপাবলিকান সমর্থকও মনে করেন, এই যুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলার চেয়ে নেতিবাচক বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাবই বেশি ফেলেছে। এর বিপরীতে মাত্র ১২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন যে এই যুদ্ধের প্রভাব নেতিবাচক দিকের চেয়ে ইতিবাচক বেশি হয়েছে।
নিজের করা জরিপের এমন ফলাফলকে অভূতপূর্ব ও বিস্ময়কর বলে অভিহিত করেছেন অধ্যাপক শিবলি তেলহামি। তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, স্বয়ং রিপাবলিকান পার্টির সমর্থকেরা যখন নিজেদের সরকারের শুরু করা যুদ্ধকে দেশের স্বার্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে, তখন বুঝতে হবে এটি মার্কিন রাজনীতিতে এক বিশাল বড় মোড় বা পরিবর্তন। এই মনোভাব তরুণ এবং প্রবীণ উভয় মার্কিন রিপাবলিকানদের মধ্যেই সমানভাবে সত্য। তিনি মনে করেন, জনমতের এই বড় ধাক্কা আগামী দিনগুলোতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ও বিপদ ডেকে আনবে।

আপনার মতামত লিখুন