দিকপাল

ইসরাইলি গুলিতে প্রাণ গেল ৭ মাসের ফিলিস্তিনি শিশুর


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ | ১১:১১ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ইসরাইলি গুলিতে প্রাণ গেল ৭ মাসের ফিলিস্তিনি শিশুর

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নির্মম বুলেটের আঘাত থেকে রেহাই পায়নি মাত্র সাত মাস বয়সী এক ফিলিস্তিনি অবুজ শিশু। শুক্রবার হেবরন শহরের তেল রুমেইদা এলাকায় এক নৃশংস ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে স্যাম ফাহদ আবু হাইকাল নামের এই শিশুটি। ইসরাইলি সেনাদের নির্বিচার গুলিবর্ষণে শিশুটি প্রাণ হারানোর পাশাপাশি তার মা ও বাবাও গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। জন্মের পর জীবনের মাত্র সাতটি মাস পূর্ণ করার দিনটিতেই শিশু স্যামকে পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে বিদায় নিতে হলো। এমন এক সময়ে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটল, যখন বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা সহিংসতার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় হেবরনের তেল রুমেইদা এলাকা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন বেথলেহেম বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার ফাহদ আবু হাইকাল ও তার পরিবার। গাড়িতে তার স্ত্রী এবং ১১ বছর বয়সী বড় ছেলেও ছিল। ওই সময় চারপাশ যথেষ্ট আলোকময় ছিল এবং চেকপোস্টে দায়িত্বরত সেনা সদস্যরা খুব স্পষ্টভাবেই দেখতে পাচ্ছিলেন যে গাড়ির ভেতরে একটি সাধারণ পরিবার রয়েছে। ইসরাইলি সেনারা থামার সংকেত দেওয়ার সাথে সাথেই চালকের আসনে থাকা ফাহদ গাড়িটি সম্পূর্ণ স্থির করেন এবং নিজের হাত দুটি স্টিয়ারিং হুইলের ওপর তুলে ধরেন, যাতে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ না থাকে। কিন্তু কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আকস্মিকভাবে গাড়িটি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে সেনারা।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে বুকফাটা আর্তনাদে ফেটে পড়েন শিশুটির পিতা ফাহদ আবু হাইকাল। তিনি জানান, একটি বুলেট তার হাত ভেদ করে পেছনের সিটে মায়ের কোলে থাকা শিশু সন্তান স্যামের শরীরে গিয়ে আঘাত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি, চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শনিবার শিশুটির দাফন অনুষ্ঠানে ফাহদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গাড়িটি সম্পূর্ণ থেমে থাকার পরও একটি সাত মাসের শিশুকে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং দায়ী সেনা সদস্যের কঠোর জবাবদিহিতা দাবি করেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি আরও জানান যে, তার স্ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং তার হৃৎপিণ্ডের ঠিক কাছাকাছি বুলেটের স্প্লিন্টার আটকে রয়েছে। দাফন প্রার্থনার ঠিক আগ মুহূর্তে পরিবার থেকে এই শোকার্ত মাকে তার প্রিয় সন্তানের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। ফিলিস্তিনি পতাকায় মোড়ানো অবুজ শিশুর লাশটি যখন তার বাবা নিজ কাঁধে বহন করছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত সবার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে। এই নৃশংস ঘটনায় জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট গভীর শোক প্রকাশ করে অবিলম্বে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছে।

এদিকে বরাবরের মতোই নিজেদের অপরাধ আড়াল করার চেনা অজুহাত দিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। আইডিএফ বা ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, তাদের দিকে একটি গাড়ি দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসছে ভেবে আত্মরক্ষার্থে সেনারা গুলি চালিয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তের নাটক সাজিয়ে তারা স্বীকার করেছে যে, আহত ও নিহতরা প্রত্যেকেই সম্পূর্ণ নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক ছিলেন। এই ঘটনায় তারা গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ধরনের আশ্বাসের কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে। ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থা 'ইয়েশ দিন'-এর একটি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া ২ হাজার ৪২৭টি মামলার মধ্যে ১ শতাংশেরও কম ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, যা অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেয়।

ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি সেনাদের এমন বর্বরোচিত আচরণের নজির এটাই প্রথম নয়। এর আগে গত ১৫ মার্চ উত্তর জর্ডান উপত্যকার তামোনে একইভাবে একটি চলন্ত গাড়িতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে আলী বানি ওদেহ, তার স্ত্রী ওয়াদ বানি ওদেহ এবং তাদের দুই শিশু সন্তান ওসমান ও মোহাম্মদকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থা বি'ৎসেলেম সে সময় জানিয়েছিল, গাড়ি থেকে বেঁচে যাওয়া অপর দুই শিশু খালেদ ও মুস্তফাকে নামিয়ে এনে স্প্লিন্টারে আহত ১১ বছরের শিশু খালেদকে ঘটনাস্থলেই অমানবিক ও সহিংস জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সেনারা, এমনকি আহতদের বাঁচাতে অ্যাম্বুলেন্স আসতেও বাধা দেওয়া হয়েছিল। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে কেবল পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমেই এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ২৪০ জনই নিষ্পাপ শিশু।

পশ্চিম তীরের এই রক্তপাতের পাশাপাশি শনিবার গাজা উপত্যকাতেও বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়ে নতুন করে নয়জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। গাজা শহরের জাওয়াজাত বাস্তুচ্যুত শিবিরে চালানো একটি ড্রোন হামলায় সাতজন নিহত এবং ১৫ জন গুরুতর আহত হন। আল-শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ছয়টি লাশ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এছাড়া গাজা শহরের দক্ষিণ-পূর্বে এবং দক্ষিণ গাজার একটি শরণার্থী তাঁবুতে পৃথক দুটি হামলায় আরও দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। দক্ষিণ গাজায় নিহত ২৫ বছর বয়সী যুবক মুহান্নাদ ওসমান ফারওয়ানাকে ইসরাইলি বাহিনী হামাসের সামরিক শাখার একজন কমান্ডার বলে দাবি করলেও তার পরিবার এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। নিহতের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ ফারওয়ানা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান, ঠিক ওই দিনই মুহান্নাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। পুরো পরিবার যেখানে আনন্দের সাথে বিয়ের উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, এখন তারা সব আয়োজন ফেলে রেখে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে বাধ্য হচ্ছে। এই অন্তহীন সহিংসতা ও প্রাণহানি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে দিন দিন আরও বেশি মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


ইসরাইলি গুলিতে প্রাণ গেল ৭ মাসের ফিলিস্তিনি শিশুর

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬

featured Image

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নির্মম বুলেটের আঘাত থেকে রেহাই পায়নি মাত্র সাত মাস বয়সী এক ফিলিস্তিনি অবুজ শিশু। শুক্রবার হেবরন শহরের তেল রুমেইদা এলাকায় এক নৃশংস ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে স্যাম ফাহদ আবু হাইকাল নামের এই শিশুটি। ইসরাইলি সেনাদের নির্বিচার গুলিবর্ষণে শিশুটি প্রাণ হারানোর পাশাপাশি তার মা ও বাবাও গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। জন্মের পর জীবনের মাত্র সাতটি মাস পূর্ণ করার দিনটিতেই শিশু স্যামকে পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে বিদায় নিতে হলো। এমন এক সময়ে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটল, যখন বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা সহিংসতার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় হেবরনের তেল রুমেইদা এলাকা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন বেথলেহেম বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার ফাহদ আবু হাইকাল ও তার পরিবার। গাড়িতে তার স্ত্রী এবং ১১ বছর বয়সী বড় ছেলেও ছিল। ওই সময় চারপাশ যথেষ্ট আলোকময় ছিল এবং চেকপোস্টে দায়িত্বরত সেনা সদস্যরা খুব স্পষ্টভাবেই দেখতে পাচ্ছিলেন যে গাড়ির ভেতরে একটি সাধারণ পরিবার রয়েছে। ইসরাইলি সেনারা থামার সংকেত দেওয়ার সাথে সাথেই চালকের আসনে থাকা ফাহদ গাড়িটি সম্পূর্ণ স্থির করেন এবং নিজের হাত দুটি স্টিয়ারিং হুইলের ওপর তুলে ধরেন, যাতে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ না থাকে। কিন্তু কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আকস্মিকভাবে গাড়িটি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে সেনারা।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে বুকফাটা আর্তনাদে ফেটে পড়েন শিশুটির পিতা ফাহদ আবু হাইকাল। তিনি জানান, একটি বুলেট তার হাত ভেদ করে পেছনের সিটে মায়ের কোলে থাকা শিশু সন্তান স্যামের শরীরে গিয়ে আঘাত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি, চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শনিবার শিশুটির দাফন অনুষ্ঠানে ফাহদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গাড়িটি সম্পূর্ণ থেমে থাকার পরও একটি সাত মাসের শিশুকে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং দায়ী সেনা সদস্যের কঠোর জবাবদিহিতা দাবি করেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি আরও জানান যে, তার স্ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং তার হৃৎপিণ্ডের ঠিক কাছাকাছি বুলেটের স্প্লিন্টার আটকে রয়েছে। দাফন প্রার্থনার ঠিক আগ মুহূর্তে পরিবার থেকে এই শোকার্ত মাকে তার প্রিয় সন্তানের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। ফিলিস্তিনি পতাকায় মোড়ানো অবুজ শিশুর লাশটি যখন তার বাবা নিজ কাঁধে বহন করছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত সবার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে। এই নৃশংস ঘটনায় জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট গভীর শোক প্রকাশ করে অবিলম্বে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছে।

এদিকে বরাবরের মতোই নিজেদের অপরাধ আড়াল করার চেনা অজুহাত দিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। আইডিএফ বা ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, তাদের দিকে একটি গাড়ি দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসছে ভেবে আত্মরক্ষার্থে সেনারা গুলি চালিয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তের নাটক সাজিয়ে তারা স্বীকার করেছে যে, আহত ও নিহতরা প্রত্যেকেই সম্পূর্ণ নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক ছিলেন। এই ঘটনায় তারা গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ধরনের আশ্বাসের কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে। ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থা 'ইয়েশ দিন'-এর একটি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া ২ হাজার ৪২৭টি মামলার মধ্যে ১ শতাংশেরও কম ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, যা অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেয়।

ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি সেনাদের এমন বর্বরোচিত আচরণের নজির এটাই প্রথম নয়। এর আগে গত ১৫ মার্চ উত্তর জর্ডান উপত্যকার তামোনে একইভাবে একটি চলন্ত গাড়িতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে আলী বানি ওদেহ, তার স্ত্রী ওয়াদ বানি ওদেহ এবং তাদের দুই শিশু সন্তান ওসমান ও মোহাম্মদকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থা বি'ৎসেলেম সে সময় জানিয়েছিল, গাড়ি থেকে বেঁচে যাওয়া অপর দুই শিশু খালেদ ও মুস্তফাকে নামিয়ে এনে স্প্লিন্টারে আহত ১১ বছরের শিশু খালেদকে ঘটনাস্থলেই অমানবিক ও সহিংস জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সেনারা, এমনকি আহতদের বাঁচাতে অ্যাম্বুলেন্স আসতেও বাধা দেওয়া হয়েছিল। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে কেবল পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমেই এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ২৪০ জনই নিষ্পাপ শিশু।

পশ্চিম তীরের এই রক্তপাতের পাশাপাশি শনিবার গাজা উপত্যকাতেও বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়ে নতুন করে নয়জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। গাজা শহরের জাওয়াজাত বাস্তুচ্যুত শিবিরে চালানো একটি ড্রোন হামলায় সাতজন নিহত এবং ১৫ জন গুরুতর আহত হন। আল-শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ছয়টি লাশ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এছাড়া গাজা শহরের দক্ষিণ-পূর্বে এবং দক্ষিণ গাজার একটি শরণার্থী তাঁবুতে পৃথক দুটি হামলায় আরও দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। দক্ষিণ গাজায় নিহত ২৫ বছর বয়সী যুবক মুহান্নাদ ওসমান ফারওয়ানাকে ইসরাইলি বাহিনী হামাসের সামরিক শাখার একজন কমান্ডার বলে দাবি করলেও তার পরিবার এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। নিহতের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ ফারওয়ানা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান, ঠিক ওই দিনই মুহান্নাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। পুরো পরিবার যেখানে আনন্দের সাথে বিয়ের উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, এখন তারা সব আয়োজন ফেলে রেখে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে বাধ্য হচ্ছে। এই অন্তহীন সহিংসতা ও প্রাণহানি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে দিন দিন আরও বেশি মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল