ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এই মুহূর্তে কোনো ধরনের মুখোমুখি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার কোনো যৌক্তিকতা বা অর্থ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দুই দেশের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চিরতরে শেষ করার লক্ষ্যে জেলেনস্কি সরাসরি আলোচনার একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার পরপরই পুতিনের কাছ থেকে এমন নেতিবাচক ও কঠোর প্রতিক্রিয়া এলো। গত বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্টকে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়ে সরাসরি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। চিঠিতে জেলেনস্কি বেশ বাস্তবসম্মত সুরেই উল্লেখ করেছিলেন যে, এই যুদ্ধ আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ মনোযোগ আকর্ষণ করবে—কেবল এই আশার ওপর ভরসা করে অলস বসে থাকাটা ইউক্রেনের জন্য মস্ত বড় ভুল হবে। তবে যুদ্ধবিরতির কড়া দাবির পাশাপাশি তার চিঠির ভাষা ও সুরে রুশ প্রেসিডেন্টের প্রতি কিছুটা আক্রমণাত্মক মনোভাব এবং স্পষ্ট উপহাসের ছাপ লক্ষ্য করা গেছে।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের পাঠানো ওই চিঠিটিকে অত্যন্ত অভদ্রোচিত ও শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে আখ্যা দিয়েছেন পুতিন এবং একই সঙ্গে তিনি জেলেনস্কির মুখোমুখি বসার সেই প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। জেলেনস্কির এই আলোচনার প্রস্তাবের বিষয়ে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে আয়োজিত বার্ষিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় পুতিন স্পষ্ট করে বলেন যে, তিনি আপাতত এই আলোচনার কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থ বা গুরুত্ব দেখছেন না। তিনি উল্টো প্রশ্ন তুলে বলেন, এটি কি আসলেই সামনাসামনি বসে একটি ফলপ্রসূ বৈঠকের পরিবেশ তৈরি করার কোনো আন্তরিক উপায় ছিল, নাকি বৈঠক এড়ানোর কোনো চতুর কৌশল? পুতিনের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এটি আসলে দ্বিতীয় কৌশলটিই ছিল, যার মাধ্যমে ইউক্রেন আলোচনার দায় এড়াতে চায়।
জেলেনস্কির চিঠির কঠোর জবাব দিতে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, এই মুহূর্তে কোনো ধরনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি দিলে ইউক্রেনীয় বাহিনী মূলত নিজেদের নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার এবং অস্ত্র মজুত করার একটি বাড়তি সুযোগ পাবে। অথচ কিয়েভের কাছে মস্কো শুরু থেকে যেসব সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়ে আসছে, সেগুলোর একটিও এখন পর্যন্ত পূরণ করা হয়নি। পুতিনের মতে, এই যুদ্ধবিরতির একমাত্র মূল উদ্দেশ্য হলো রুশ সশস্ত্র বাহিনীর চলমান অগ্রযাত্রাকে কোনোমতে থামিয়ে দেওয়া। কিন্তু রাশিয়ার এমন কোনো ক্ষণস্থায়ী চুক্তির দরকার নেই যা কেবল তিন বা ছয় মাসের জন্য শান্তি বজায় রাখবে, বরং মস্কো চায় একটি স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। তিনি প্রস্তাব করেন যে, শীর্ষ নেতারা বসার আগে দুই দেশের বিশেষজ্ঞ ও কূটনীতিকেরা প্রথমে টেবিলে বসুক, তারা কাজ শুরু করে কিছু যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাক, তার পরই কেবল শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠক হওয়া সম্ভব। রুশ প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে দেন যে, রাশিয়ার নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্যগুলো সম্পূর্ণরূপে অর্জিত হলেই কেবল তিনি এই যুদ্ধ শেষ করবেন, তার আগে নয়।
পুতিনের এমন অনড় ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও। তিনি দাবি করেছেন যে, রাশিয়া শান্তি আলোচনার পথ মাড়িয়ে আবারও যুদ্ধের পথই বেছে নিচ্ছে। নিজের অফিশিয়াল টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি লিখেছেন যে, পুতিন আসলে যুদ্ধ শেষ করতে চান না এবং তার এই অনমনীয় উত্তরের কারণে বিশ্বজুড়ে শান্তির আশা করা লাখ লাখ মানুষ আজ চরমভাবে হতাশ হয়েছেন। উল্লেখ্য, রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রধান দাবি হলো—ইউক্রেনকে তাদের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন এবং জাপোরিঝিয়া অঞ্চল থেকে নিজেদের সব সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিতে হবে এবং একই সঙ্গে পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার সব ধরনের চেষ্টা চিরতরে ত্যাগ করতে হবে। কিন্তু কিয়েভ প্রশাসন তাদের সার্বভৌম ভূখণ্ডের এক ইঞ্চি জমিও রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দিতে একেবারেই রাজি নয়। ইউক্রেনের যুক্তি হলো, মস্কোকে এখন কোনো ধরনের ছাড় দিলে ভবিষ্যতে তারা আবারও নতুন কোনো অঞ্চল আক্রমণের সাহস পাবে, কারণ এর আগেও ক্রিমিয়া দখলের মাত্র আট বছর পরেই রাশিয়া এই সর্বাত্মক আগ্রাসন চালিয়েছে।
জেলেনস্কি তার চিঠিতে মূলত পুতিনের ব্যক্তিগত বয়স ও দীর্ঘ শাসনকাল নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন যে, দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর ধরে রাশিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার কারণে পুতিনের শরীরে ও মনে এখন বয়সের স্পষ্ট ছাপ পড়তে শুরু করেছে। এ ছাড়া তিনি রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের ভেতরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর সাম্প্রতিক সফল হামলাগুলোর দিকেও ইঙ্গিত করেন। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে চালানো একটি বড় ধরনের ড্রোন হামলাকে তিনি পুতিনের সঙ্গে 'সাক্ষাৎ করতে যাওয়া'র একটি অগ্রিম বার্তা বলে উপহাস করেন। এই বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করেই পুতিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, ওই চিঠিতে তার ব্যক্তিত্বকে খাটো করে বেশ কিছু অত্যন্ত অভদ্র ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল। তবে জেলেনস্কির এই চিঠিটি হোয়াইট হাউসসহ আন্তর্জাতিক মহলের কিছু অংশে সাময়িক সময়ের জন্য হলেও একটি নতুন শান্তির আশা জাগিয়েছিল। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেছিলেন যে, এই দুই বিশ্ব নেতার মধ্যে একটি সরাসরি বৈঠক হলে তা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্যই খুব ভালো হতো।
কূটনৈতিক এই অচলাবস্থার মধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রের সর্বশেষ পরিস্থিতি আরও বেশি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আজভ সাগর এবং রাশিয়ার দখলে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধভাবে পণ্য ও রসদ পরিবহন করা পাঁচটি বড় জাহাজে তারা সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন কমান্ডের প্রধান রবার্ট ব্রভডি দাবি করেন, ওই জাহাজগুলো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল থেকে শস্য চুরির পাশাপাশি রুশ বাহিনীর জন্য জ্বালানি ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের কাজে সরাসরি জড়িত ছিল। এই হামলার বিষয়ে আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজভ সাগরে দুটি জাহাজে হামলার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন সাধারণ ক্রু নিহত হয়েছেন, তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে তা তারা নির্দিষ্ট করে জানায়নি এবং জাহাজগুলো আজারবাইজানের মালিকানাধীন নয় বলেও পরিষ্কার করেছে। অন্য দিকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় ইউক্রেনের বিভিন্ন বেসামরিক এলাকায় রাশিয়ার একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত তেরো জন নিরীহ নাগরিক নিহত এবং আরও সত্তর জনেরও বেশি মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কিয়েভের বাইরে অবস্থিত একটি দুগ্ধজাত পণ্য তৈরির কারখানায় রুশ হামলায় চারজন শ্রমিক প্রাণ হারান এবং খেরসন অঞ্চলে একটি জ্বালানি পাম্পে ড্রোন হামলায় পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী এক সাধারণ নারী নিহত হন।
সূত্র: রয়টার্স ।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এই মুহূর্তে কোনো ধরনের মুখোমুখি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার কোনো যৌক্তিকতা বা অর্থ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দুই দেশের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চিরতরে শেষ করার লক্ষ্যে জেলেনস্কি সরাসরি আলোচনার একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার পরপরই পুতিনের কাছ থেকে এমন নেতিবাচক ও কঠোর প্রতিক্রিয়া এলো। গত বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্টকে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়ে সরাসরি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। চিঠিতে জেলেনস্কি বেশ বাস্তবসম্মত সুরেই উল্লেখ করেছিলেন যে, এই যুদ্ধ আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ মনোযোগ আকর্ষণ করবে—কেবল এই আশার ওপর ভরসা করে অলস বসে থাকাটা ইউক্রেনের জন্য মস্ত বড় ভুল হবে। তবে যুদ্ধবিরতির কড়া দাবির পাশাপাশি তার চিঠির ভাষা ও সুরে রুশ প্রেসিডেন্টের প্রতি কিছুটা আক্রমণাত্মক মনোভাব এবং স্পষ্ট উপহাসের ছাপ লক্ষ্য করা গেছে।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের পাঠানো ওই চিঠিটিকে অত্যন্ত অভদ্রোচিত ও শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে আখ্যা দিয়েছেন পুতিন এবং একই সঙ্গে তিনি জেলেনস্কির মুখোমুখি বসার সেই প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। জেলেনস্কির এই আলোচনার প্রস্তাবের বিষয়ে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে আয়োজিত বার্ষিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় পুতিন স্পষ্ট করে বলেন যে, তিনি আপাতত এই আলোচনার কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থ বা গুরুত্ব দেখছেন না। তিনি উল্টো প্রশ্ন তুলে বলেন, এটি কি আসলেই সামনাসামনি বসে একটি ফলপ্রসূ বৈঠকের পরিবেশ তৈরি করার কোনো আন্তরিক উপায় ছিল, নাকি বৈঠক এড়ানোর কোনো চতুর কৌশল? পুতিনের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এটি আসলে দ্বিতীয় কৌশলটিই ছিল, যার মাধ্যমে ইউক্রেন আলোচনার দায় এড়াতে চায়।
জেলেনস্কির চিঠির কঠোর জবাব দিতে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, এই মুহূর্তে কোনো ধরনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি দিলে ইউক্রেনীয় বাহিনী মূলত নিজেদের নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার এবং অস্ত্র মজুত করার একটি বাড়তি সুযোগ পাবে। অথচ কিয়েভের কাছে মস্কো শুরু থেকে যেসব সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়ে আসছে, সেগুলোর একটিও এখন পর্যন্ত পূরণ করা হয়নি। পুতিনের মতে, এই যুদ্ধবিরতির একমাত্র মূল উদ্দেশ্য হলো রুশ সশস্ত্র বাহিনীর চলমান অগ্রযাত্রাকে কোনোমতে থামিয়ে দেওয়া। কিন্তু রাশিয়ার এমন কোনো ক্ষণস্থায়ী চুক্তির দরকার নেই যা কেবল তিন বা ছয় মাসের জন্য শান্তি বজায় রাখবে, বরং মস্কো চায় একটি স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। তিনি প্রস্তাব করেন যে, শীর্ষ নেতারা বসার আগে দুই দেশের বিশেষজ্ঞ ও কূটনীতিকেরা প্রথমে টেবিলে বসুক, তারা কাজ শুরু করে কিছু যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাক, তার পরই কেবল শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠক হওয়া সম্ভব। রুশ প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে দেন যে, রাশিয়ার নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্যগুলো সম্পূর্ণরূপে অর্জিত হলেই কেবল তিনি এই যুদ্ধ শেষ করবেন, তার আগে নয়।
পুতিনের এমন অনড় ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও। তিনি দাবি করেছেন যে, রাশিয়া শান্তি আলোচনার পথ মাড়িয়ে আবারও যুদ্ধের পথই বেছে নিচ্ছে। নিজের অফিশিয়াল টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি লিখেছেন যে, পুতিন আসলে যুদ্ধ শেষ করতে চান না এবং তার এই অনমনীয় উত্তরের কারণে বিশ্বজুড়ে শান্তির আশা করা লাখ লাখ মানুষ আজ চরমভাবে হতাশ হয়েছেন। উল্লেখ্য, রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রধান দাবি হলো—ইউক্রেনকে তাদের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন এবং জাপোরিঝিয়া অঞ্চল থেকে নিজেদের সব সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিতে হবে এবং একই সঙ্গে পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার সব ধরনের চেষ্টা চিরতরে ত্যাগ করতে হবে। কিন্তু কিয়েভ প্রশাসন তাদের সার্বভৌম ভূখণ্ডের এক ইঞ্চি জমিও রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দিতে একেবারেই রাজি নয়। ইউক্রেনের যুক্তি হলো, মস্কোকে এখন কোনো ধরনের ছাড় দিলে ভবিষ্যতে তারা আবারও নতুন কোনো অঞ্চল আক্রমণের সাহস পাবে, কারণ এর আগেও ক্রিমিয়া দখলের মাত্র আট বছর পরেই রাশিয়া এই সর্বাত্মক আগ্রাসন চালিয়েছে।
জেলেনস্কি তার চিঠিতে মূলত পুতিনের ব্যক্তিগত বয়স ও দীর্ঘ শাসনকাল নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন যে, দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর ধরে রাশিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার কারণে পুতিনের শরীরে ও মনে এখন বয়সের স্পষ্ট ছাপ পড়তে শুরু করেছে। এ ছাড়া তিনি রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের ভেতরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর সাম্প্রতিক সফল হামলাগুলোর দিকেও ইঙ্গিত করেন। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে চালানো একটি বড় ধরনের ড্রোন হামলাকে তিনি পুতিনের সঙ্গে 'সাক্ষাৎ করতে যাওয়া'র একটি অগ্রিম বার্তা বলে উপহাস করেন। এই বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করেই পুতিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, ওই চিঠিতে তার ব্যক্তিত্বকে খাটো করে বেশ কিছু অত্যন্ত অভদ্র ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল। তবে জেলেনস্কির এই চিঠিটি হোয়াইট হাউসসহ আন্তর্জাতিক মহলের কিছু অংশে সাময়িক সময়ের জন্য হলেও একটি নতুন শান্তির আশা জাগিয়েছিল। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেছিলেন যে, এই দুই বিশ্ব নেতার মধ্যে একটি সরাসরি বৈঠক হলে তা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্যই খুব ভালো হতো।
কূটনৈতিক এই অচলাবস্থার মধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রের সর্বশেষ পরিস্থিতি আরও বেশি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আজভ সাগর এবং রাশিয়ার দখলে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধভাবে পণ্য ও রসদ পরিবহন করা পাঁচটি বড় জাহাজে তারা সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন কমান্ডের প্রধান রবার্ট ব্রভডি দাবি করেন, ওই জাহাজগুলো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল থেকে শস্য চুরির পাশাপাশি রুশ বাহিনীর জন্য জ্বালানি ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের কাজে সরাসরি জড়িত ছিল। এই হামলার বিষয়ে আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজভ সাগরে দুটি জাহাজে হামলার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন সাধারণ ক্রু নিহত হয়েছেন, তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে তা তারা নির্দিষ্ট করে জানায়নি এবং জাহাজগুলো আজারবাইজানের মালিকানাধীন নয় বলেও পরিষ্কার করেছে। অন্য দিকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় ইউক্রেনের বিভিন্ন বেসামরিক এলাকায় রাশিয়ার একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত তেরো জন নিরীহ নাগরিক নিহত এবং আরও সত্তর জনেরও বেশি মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কিয়েভের বাইরে অবস্থিত একটি দুগ্ধজাত পণ্য তৈরির কারখানায় রুশ হামলায় চারজন শ্রমিক প্রাণ হারান এবং খেরসন অঞ্চলে একটি জ্বালানি পাম্পে ড্রোন হামলায় পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী এক সাধারণ নারী নিহত হন।
সূত্র: রয়টার্স ।

আপনার মতামত লিখুন