দিকপাল

হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের ‘ঝিমুনি’, কটাক্ষ ডেমোক্র্যাটদের


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ | ০২:০৩ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের ‘ঝিমুনি’, কটাক্ষ ডেমোক্র্যাটদের

হোয়াইট হাউসের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ওভাল অফিসে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চোখ বন্ধ করে গভীর ঘুমে মগ্ন হয়ে পড়েছিলেন বলে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে মূলধারার রাজনীতিতে এই ঘটনাটি এখন টক অব দ্য টাউন বা আলোচনার প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্পের এই আকস্মিক অসচেতন অবস্থাকে পুঁজি করে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা তাকে ‘দ্য কমান্ডার-ইন-স্লিপ’ বা ঘুমন্ত সেনাপতি উপাধিতে ভূষিত করে তীব্র উপহাস ও রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু করেছে।


ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হোয়াইট হাউসে পরিবেশবান্ধব কয়লা সংক্রান্ত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে যখন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার প্রশাসক লি জেলডিন এবং ইন্টেরিয়র সেক্রেটারি ডগ বারগাম দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ক্যামেরায় ধরা পড়ে এক অদ্ভুত দৃশ্য। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার জন্য নির্ধারিত রাজকীয় চেয়ারে বেশ আরাম করে হেলান দিয়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে চোখ বন্ধ করে থাকতে দেখা যায়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ বিশ্লেষণ করে বিরোধীরা দাবি তুলেছেন যে, প্রেসিডেন্ট সেখানে স্রেফ চোখ বন্ধ করেই ছিলেন না, বরং তিনি রীতিমতো তন্দ্রাচ্ছন্ন বা গভীর ঘুমে তলিয়ে গিয়েছিলেন।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য ঝিমুনির মোক্ষম সুযোগটি লুফে নিতে বিন্দুমাত্র দেরি করেনি ডেমোক্র্যাট শিবির ও লিবারেল ঘরানার রাজনৈতিক দলগুলো। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে এই ঘটনাকে তীব্র ব্যঙ্গ করে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়, যেখানে লেখা ছিল যে তাদের ঘুমন্ত সেনাপতি অবশেষে ডিউটিতে যোগ দিয়েছেন। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হচুলের প্রেস অফিস থেকেও এই বিষয়ে বেশ রসাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, লি জেলডিনের মতো একজন মানুষের বিরক্তিকর কথা শোনার চেয়ে ওভাল অফিসে বসে শান্তিতে ঘুমানো অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ। অন্য দিকে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের প্রচারণামূলক দল ট্রাম্পের পুরনো একটি উপাধিকে ফিরিয়ে এনে উপহাস করে লিখেছে যে, ঝিমুনি ডন আবার তার পুরনো রূপে ফিরে এসেছেন।


এই রাজনৈতিক বিতর্কের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলে দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অতীতে নির্বাচনী প্রচারণাকালে জো বাইডেনকে প্রায়শই ‘স্লিপি জো’ বা ঘুমন্ত জো বলে তীব্র কটাক্ষ ও উপহাস করতেন। সেই পুরনো ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই যেন হান্টার বাইডেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন যে, তিনি তো অনেক আগেই দেশবাসীকে সতর্ক করেছিলেন যে বর্তমান ট্রাম্প আসলে আসল মানুষ নন, বরং ওটা একটা ক্লোন বা কৃত্রিম প্রতিরূপ। আর আজ হোয়াইট হাউসের কর্মচারীরা মনে হয় সেই ক্লোনের ব্যাটারি চার্জ দিতে পুরোপুরি ভুলে গেছে, যার কারণে তিনি অনুষ্ঠান চলাকালেই অচল হয়ে পড়েছেন।


অবশ্য ডেমোক্র্যাটদের এই তীব্র সমালোচনা ও অভিযোগকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউসের গণমাধ্যম শাখা। হোয়াইট হাউসের দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য নির্ধারিত অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে বিরোধীদের একটি পোস্টের জবাবে সরাসরি পাল্টা দাবি করা হয় যে, তোমরা যারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এসব ভিত্তিহীন কথা রটাচ্ছ, তোমাদের নিজেদের পোস্ট করা ভিডিও ক্লিপটিই ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে সেখানে প্রেসিডেন্টের চোখ পুরোপুরি খোলাই ছিল। এর আগেও অবশ্য গত এগারোই মে ট্রাম্পের এমন চোখ বন্ধ করা একটি স্থিরচিত্র নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময়েও হোয়াইট হাউস একই ভঙ্গিতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে দাবি করেছিল যে, প্রেসিডেন্ট আসলে ঘুমাচ্ছিলেন না, তিনি কেবল অনবরত চোখ পিটপিট করছিলেন। এবারও ‘হেডকোয়ার্টার্স’ নামক একটি প্রভাবশালী অ্যাকাউন্ট থেকে ট্রাম্পের ঘুমিয়ে পড়ার বিষয়টি বড় করে প্রচার করা হলে হোয়াইট হাউস সেটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেয়।


তবে রাজনৈতিক উপহাসের পাশাপাশি এই ঘটনাটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সার্বিক স্বাস্থ্য ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির ব্যক্তিগত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর জোনাথন রেইনার প্রেসিডেন্টের এই হঠাৎ ঝিমিয়ে পড়াকে মোটেও স্বাভাবিক বিষয় নয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে বলেন, প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার যে সরকারি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে তার ঘুমের ব্যাঘাতের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি রহস্যজনকভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য একটি বড় বিপদের সংকেত হতে পারে।


ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক রিপ্রেজেন্টেটিভ টেড লিউ আরও এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি দাবি করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শারীরিকভাবে মোটেও সুস্থ নন। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন রাষ্ট্রপ্রধান যদি দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং ক্যাবিনেট মিটিংয়েও নিজেকে জাগিয়ে রাখতে না পারেন, তবে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। হোয়াইট হাউসের এখন মার্কিন জনগণের সামনে পরিষ্কার করা উচিত যে কেন ট্রাম্পকে প্রতি মাসে বারবার হাসপাতালে যেতে হয় এবং ডাক্তাররা কেন তাকে বারবার কগনিটিভ বা মানসিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জটিল পরীক্ষাগুলো দিচ্ছেন। লিউ আরও যোগ করেন যে, কোনো সাধারণ বাণিজ্যিক কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও যদি তাদের গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড মিটিংয়ে এভাবে ঘুমিয়ে পড়তেন, তবে পরিচালনা পর্ষদ তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করত।


গত বুধবার মার্কিন কংগ্রেসের একটি শুনানিতে টেড লিউ সরাসরি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে এই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি জানতে চান যে, রুবিও নিজে কাজ করার সময় ট্রাম্পকে কখনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বা নীতি নির্ধারণী আলোচনায় এভাবে ঘুমিয়ে পড়তে দেখেছেন কি না। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও প্রেসিডেন্টের পক্ষ নিয়ে বলেন, তিনি তার পুরো কর্মজীবনে ট্রাম্পকে কখনোই কোনো বৈঠকে ঘুমাতে বা ঝিমাতে দেখেননি। বরং তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশের কাজে এতটাই মগ্ন থাকেন যে তিনি রাতে একদমই ঘুমান না। এর পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের প্রধান চিকিৎসক ডক্টর শন বারবাবেলা সম্প্রতি ট্রাম্পের একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর অফিশিয়াল মেডিকেল রিপোর্টে জানিয়েছেন যে, ট্রাম্প এই বয়সেও চমৎকার ও ঈর্ষণীয় স্বাস্থ্যের অধিকারী এবং তার হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও স্নায়বিক অবস্থা যেকোনো যুবকের মতোই অত্যন্ত শক্তিশালী ও সচল রয়েছে।


সূত্র:   এনবিসি নিউজ  ।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের ‘ঝিমুনি’, কটাক্ষ ডেমোক্র্যাটদের

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬

featured Image

হোয়াইট হাউসের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ওভাল অফিসে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চোখ বন্ধ করে গভীর ঘুমে মগ্ন হয়ে পড়েছিলেন বলে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে মূলধারার রাজনীতিতে এই ঘটনাটি এখন টক অব দ্য টাউন বা আলোচনার প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্পের এই আকস্মিক অসচেতন অবস্থাকে পুঁজি করে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা তাকে ‘দ্য কমান্ডার-ইন-স্লিপ’ বা ঘুমন্ত সেনাপতি উপাধিতে ভূষিত করে তীব্র উপহাস ও রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু করেছে।


ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হোয়াইট হাউসে পরিবেশবান্ধব কয়লা সংক্রান্ত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে যখন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার প্রশাসক লি জেলডিন এবং ইন্টেরিয়র সেক্রেটারি ডগ বারগাম দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ক্যামেরায় ধরা পড়ে এক অদ্ভুত দৃশ্য। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার জন্য নির্ধারিত রাজকীয় চেয়ারে বেশ আরাম করে হেলান দিয়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে চোখ বন্ধ করে থাকতে দেখা যায়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ বিশ্লেষণ করে বিরোধীরা দাবি তুলেছেন যে, প্রেসিডেন্ট সেখানে স্রেফ চোখ বন্ধ করেই ছিলেন না, বরং তিনি রীতিমতো তন্দ্রাচ্ছন্ন বা গভীর ঘুমে তলিয়ে গিয়েছিলেন।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য ঝিমুনির মোক্ষম সুযোগটি লুফে নিতে বিন্দুমাত্র দেরি করেনি ডেমোক্র্যাট শিবির ও লিবারেল ঘরানার রাজনৈতিক দলগুলো। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে এই ঘটনাকে তীব্র ব্যঙ্গ করে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়, যেখানে লেখা ছিল যে তাদের ঘুমন্ত সেনাপতি অবশেষে ডিউটিতে যোগ দিয়েছেন। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হচুলের প্রেস অফিস থেকেও এই বিষয়ে বেশ রসাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, লি জেলডিনের মতো একজন মানুষের বিরক্তিকর কথা শোনার চেয়ে ওভাল অফিসে বসে শান্তিতে ঘুমানো অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ। অন্য দিকে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের প্রচারণামূলক দল ট্রাম্পের পুরনো একটি উপাধিকে ফিরিয়ে এনে উপহাস করে লিখেছে যে, ঝিমুনি ডন আবার তার পুরনো রূপে ফিরে এসেছেন।


এই রাজনৈতিক বিতর্কের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলে দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অতীতে নির্বাচনী প্রচারণাকালে জো বাইডেনকে প্রায়শই ‘স্লিপি জো’ বা ঘুমন্ত জো বলে তীব্র কটাক্ষ ও উপহাস করতেন। সেই পুরনো ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই যেন হান্টার বাইডেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন যে, তিনি তো অনেক আগেই দেশবাসীকে সতর্ক করেছিলেন যে বর্তমান ট্রাম্প আসলে আসল মানুষ নন, বরং ওটা একটা ক্লোন বা কৃত্রিম প্রতিরূপ। আর আজ হোয়াইট হাউসের কর্মচারীরা মনে হয় সেই ক্লোনের ব্যাটারি চার্জ দিতে পুরোপুরি ভুলে গেছে, যার কারণে তিনি অনুষ্ঠান চলাকালেই অচল হয়ে পড়েছেন।


অবশ্য ডেমোক্র্যাটদের এই তীব্র সমালোচনা ও অভিযোগকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউসের গণমাধ্যম শাখা। হোয়াইট হাউসের দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য নির্ধারিত অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে বিরোধীদের একটি পোস্টের জবাবে সরাসরি পাল্টা দাবি করা হয় যে, তোমরা যারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এসব ভিত্তিহীন কথা রটাচ্ছ, তোমাদের নিজেদের পোস্ট করা ভিডিও ক্লিপটিই ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে সেখানে প্রেসিডেন্টের চোখ পুরোপুরি খোলাই ছিল। এর আগেও অবশ্য গত এগারোই মে ট্রাম্পের এমন চোখ বন্ধ করা একটি স্থিরচিত্র নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময়েও হোয়াইট হাউস একই ভঙ্গিতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে দাবি করেছিল যে, প্রেসিডেন্ট আসলে ঘুমাচ্ছিলেন না, তিনি কেবল অনবরত চোখ পিটপিট করছিলেন। এবারও ‘হেডকোয়ার্টার্স’ নামক একটি প্রভাবশালী অ্যাকাউন্ট থেকে ট্রাম্পের ঘুমিয়ে পড়ার বিষয়টি বড় করে প্রচার করা হলে হোয়াইট হাউস সেটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেয়।


তবে রাজনৈতিক উপহাসের পাশাপাশি এই ঘটনাটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সার্বিক স্বাস্থ্য ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির ব্যক্তিগত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর জোনাথন রেইনার প্রেসিডেন্টের এই হঠাৎ ঝিমিয়ে পড়াকে মোটেও স্বাভাবিক বিষয় নয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে বলেন, প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার যে সরকারি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে তার ঘুমের ব্যাঘাতের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি রহস্যজনকভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য একটি বড় বিপদের সংকেত হতে পারে।


ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক রিপ্রেজেন্টেটিভ টেড লিউ আরও এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি দাবি করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শারীরিকভাবে মোটেও সুস্থ নন। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন রাষ্ট্রপ্রধান যদি দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং ক্যাবিনেট মিটিংয়েও নিজেকে জাগিয়ে রাখতে না পারেন, তবে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। হোয়াইট হাউসের এখন মার্কিন জনগণের সামনে পরিষ্কার করা উচিত যে কেন ট্রাম্পকে প্রতি মাসে বারবার হাসপাতালে যেতে হয় এবং ডাক্তাররা কেন তাকে বারবার কগনিটিভ বা মানসিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জটিল পরীক্ষাগুলো দিচ্ছেন। লিউ আরও যোগ করেন যে, কোনো সাধারণ বাণিজ্যিক কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও যদি তাদের গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড মিটিংয়ে এভাবে ঘুমিয়ে পড়তেন, তবে পরিচালনা পর্ষদ তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করত।


গত বুধবার মার্কিন কংগ্রেসের একটি শুনানিতে টেড লিউ সরাসরি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে এই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি জানতে চান যে, রুবিও নিজে কাজ করার সময় ট্রাম্পকে কখনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বা নীতি নির্ধারণী আলোচনায় এভাবে ঘুমিয়ে পড়তে দেখেছেন কি না। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও প্রেসিডেন্টের পক্ষ নিয়ে বলেন, তিনি তার পুরো কর্মজীবনে ট্রাম্পকে কখনোই কোনো বৈঠকে ঘুমাতে বা ঝিমাতে দেখেননি। বরং তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশের কাজে এতটাই মগ্ন থাকেন যে তিনি রাতে একদমই ঘুমান না। এর পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের প্রধান চিকিৎসক ডক্টর শন বারবাবেলা সম্প্রতি ট্রাম্পের একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর অফিশিয়াল মেডিকেল রিপোর্টে জানিয়েছেন যে, ট্রাম্প এই বয়সেও চমৎকার ও ঈর্ষণীয় স্বাস্থ্যের অধিকারী এবং তার হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও স্নায়বিক অবস্থা যেকোনো যুবকের মতোই অত্যন্ত শক্তিশালী ও সচল রয়েছে।


সূত্র:   এনবিসি নিউজ  ।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল