মার্কিন যুদ্ধবিমানের সাম্প্রতিক জোরদার সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম পরাশক্তি ইরানের সামগ্রিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বড় জোর মাত্র এক-পঞ্চমাংশ বা ২১ থেকে ২২ শতাংশ অবশিষ্ট রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যাপক ধ্বংসাত্মক আক্রমণের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তাদের চৌকস বাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানের প্রধান প্রধান সামরিক অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষাব্যুহকে প্রায় সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ ও একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের বর্তমান সামরিক সক্ষমতা নিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। ওয়াশিংটনের নেওয়া পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, যদি শতাংশের হিসাবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করতে বলা হয়, তবে আমি বলব এই মুহূর্তে ইরানের কাছে তাদের মোট ক্ষেপণাস্ত্রের বড় জোর ২১ কিংবা ২২ শতাংশ অক্ষত রয়েছে। অবশ্য যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের জন্য এটিও অনেক বড় ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী যখন প্রথম দফায় তাদের ওপর বিমান হামলা পরিচালনা করেছিল, তখন তাদের যে বিপুল সামরিক শক্তি ও সক্ষমতা ছিল, বর্তমান সময়ে আর তার কিছুই অবশিষ্ট নেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে এমন জোরালো দাবি করলেও তার এই বক্তব্য কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত মার্কিন নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি সাম্প্রতিক যৌথ মূল্যায়ন ও প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের এই তথ্যের বড় ধরনের অমিল ও বৈপরীত্য লক্ষ্য করা গেছে। মার্কিন গোয়েন্দাদের ওই গোপন প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল যে, ইরান অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বরাবর অবস্থিত তাদের মোট ৩৩টি প্রধান দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে অন্তত ৩০টিতে পুনরায় নিজেদের পূর্ণ কার্যক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। শুধু তা-ই নয়, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে আরও দাবি করা হয় যে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ইরানের অস্ত্রাগারে যে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ছিল, মার্কিন বাহিনীর দফায় দফায় হামলার পরও তেহরান তার প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফলে ট্রাম্পের দাবি এবং মার্কিন গোয়েন্দাদের এই মাঠপর্যায়ের রিপোর্টের মধ্যকার বিশাল ব্যবধান এখন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের বেশ ভাবিয়ে তুলছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
মার্কিন যুদ্ধবিমানের সাম্প্রতিক জোরদার সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম পরাশক্তি ইরানের সামগ্রিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বড় জোর মাত্র এক-পঞ্চমাংশ বা ২১ থেকে ২২ শতাংশ অবশিষ্ট রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যাপক ধ্বংসাত্মক আক্রমণের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তাদের চৌকস বাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানের প্রধান প্রধান সামরিক অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষাব্যুহকে প্রায় সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ ও একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের বর্তমান সামরিক সক্ষমতা নিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। ওয়াশিংটনের নেওয়া পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, যদি শতাংশের হিসাবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করতে বলা হয়, তবে আমি বলব এই মুহূর্তে ইরানের কাছে তাদের মোট ক্ষেপণাস্ত্রের বড় জোর ২১ কিংবা ২২ শতাংশ অক্ষত রয়েছে। অবশ্য যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের জন্য এটিও অনেক বড় ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী যখন প্রথম দফায় তাদের ওপর বিমান হামলা পরিচালনা করেছিল, তখন তাদের যে বিপুল সামরিক শক্তি ও সক্ষমতা ছিল, বর্তমান সময়ে আর তার কিছুই অবশিষ্ট নেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে এমন জোরালো দাবি করলেও তার এই বক্তব্য কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত মার্কিন নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি সাম্প্রতিক যৌথ মূল্যায়ন ও প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের এই তথ্যের বড় ধরনের অমিল ও বৈপরীত্য লক্ষ্য করা গেছে। মার্কিন গোয়েন্দাদের ওই গোপন প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল যে, ইরান অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বরাবর অবস্থিত তাদের মোট ৩৩টি প্রধান দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে অন্তত ৩০টিতে পুনরায় নিজেদের পূর্ণ কার্যক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। শুধু তা-ই নয়, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে আরও দাবি করা হয় যে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ইরানের অস্ত্রাগারে যে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ছিল, মার্কিন বাহিনীর দফায় দফায় হামলার পরও তেহরান তার প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফলে ট্রাম্পের দাবি এবং মার্কিন গোয়েন্দাদের এই মাঠপর্যায়ের রিপোর্টের মধ্যকার বিশাল ব্যবধান এখন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের বেশ ভাবিয়ে তুলছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আপনার মতামত লিখুন