যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ একটি পারমাণবিক গবেষণাগারে শীর্ষস্থানীয় পরমাণু বিজ্ঞানীদের সঙ্গে এক বিশেষ ও গোপনীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং দেশটির প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব স্টিভ উইটকফ। গত বৃহস্পতিবার টেনেসিতে অবস্থিত মার্কিন জাতীয় পারমাণবিক গবেষণাগারে এই উচ্চপর্যায়ের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এই চাঞ্চল্যকর বৈঠকের খবরটি বিশ্ববাসীর সামনে এনেছে। ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংকটময় এবং সংবেদনশীল এমন এক সময়ে এই বিশেষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনী নতুন করে জোরদার বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করছে।
বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মার্কিন প্রশাসন এখন ইরানের বিরুদ্ধে এক দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করছে। একদিকে যেমন মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে, ঠিক অন্যদিকে তেমনই যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ করার লক্ষ্যে তেহরানের সঙ্গে পর্দার আড়ালে গভীর কূটনৈতিক আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউজের এই দীর্ঘ আলোচনার সবচেয়ে প্রধান ও মূল লক্ষ্য হলো যেকোনো উপায়ে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচিকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বেঁধে ফেলা এবং তাদের পরমাণু সক্ষমতা পুরোপুরি নস্যাৎ করা।
বিশ্বের পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের পরমাণু সামগ্রী সুরক্ষা কর্মসূচির ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কট রোকার এই বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম খুঁজে বের করা এবং তা সফলভাবে অপসারণ করার ক্ষেত্রে টেনেসির এই জাতীয় গবেষণাগারটির দীর্ঘ ও গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, যেকোনো স্থান থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অত্যন্ত নিরাপদ উপায়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, সেটির রূপান্তর ঘটানো এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অক্ষত অবস্থায় পরিবহনের জন্য এই গবেষণাগারের বিজ্ঞানীদের যেমন রয়েছে অগাধ দক্ষতা, তেমনই রয়েছে অত্যাধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা। তবে এর পাশাপাশি তিনি একটি বড় ঝুঁকির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। রোকার স্পষ্ট করে বলেছেন যে, মাটির গভীরে বা ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে পুঁতে রাখা বা চাপা পড়ে যাওয়া ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুত অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করার বাস্তব অভিজ্ঞতা এই মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিশেষজ্ঞ বা সংস্থারই নেই।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক যৌথ পর্যালোচনা এবং প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে মার্কিন সামরিক বাহিনী যে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছিল, তাতে দেশটির ইস্পাহানে অবস্থিত প্রধান পারমাণবিক কমপ্লেক্সটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই হামলায় তেহরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বিশাল মজুত মাটির নিচে ধসে পড়া স্তূপের নিচে চাপা পড়ে যায়। মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা, মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়াম চাপা পড়ে থাকলেও তা কিন্তু মোটেও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়নি, বরং এখনো তা উদ্ধার ও ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় রয়ে গেছে।
বাস্তবতার নিরিখে পারমাণবিক গবেষণাগারে ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের এই ঝটিকা সফরের অর্থ এই নয় যে, ইরানের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের কোনো শান্তি চুক্তি একেবারেই চূড়ান্ত বা আসন্ন। তবে পরমাণু বিশেষজ্ঞ স্কট রোকার এই পদক্ষেপটিকে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও উৎসাহব্যঞ্জক লক্ষণ হিসেবে অবিহিত করেছেন। কারণ তিনি মনে করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান এই জটিল পারমাণবিক আলোচনার কোনো এক পর্যায়ে মার্কিন সরকারের নিজস্ব পরমাণু বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করার অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল, যা এই সফরের মাধ্যমে শুরু হলো। অন্য দিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে এক বিবৃতিতে বলেছিলেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে চলমান এই আলোচনা অত্যন্ত জটিল ও চরম প্রযুক্তিগত একটি বিষয়। ফলে এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে এবং সফল হতে আরও বেশ কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। উল্লেখ্য, এর আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি যেকোনো মূল্যে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সম্পূর্ণ মজুত মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে চান। আর প্রেসিডেন্টের সেই ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতেই তার বিশ্বস্ত দূতেরা এখন পরমাণু বিজ্ঞানীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
সূত্র: সিএনএন ও এক্সিওস

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ একটি পারমাণবিক গবেষণাগারে শীর্ষস্থানীয় পরমাণু বিজ্ঞানীদের সঙ্গে এক বিশেষ ও গোপনীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং দেশটির প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব স্টিভ উইটকফ। গত বৃহস্পতিবার টেনেসিতে অবস্থিত মার্কিন জাতীয় পারমাণবিক গবেষণাগারে এই উচ্চপর্যায়ের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এই চাঞ্চল্যকর বৈঠকের খবরটি বিশ্ববাসীর সামনে এনেছে। ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংকটময় এবং সংবেদনশীল এমন এক সময়ে এই বিশেষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনী নতুন করে জোরদার বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করছে।
বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মার্কিন প্রশাসন এখন ইরানের বিরুদ্ধে এক দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করছে। একদিকে যেমন মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে, ঠিক অন্যদিকে তেমনই যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ করার লক্ষ্যে তেহরানের সঙ্গে পর্দার আড়ালে গভীর কূটনৈতিক আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউজের এই দীর্ঘ আলোচনার সবচেয়ে প্রধান ও মূল লক্ষ্য হলো যেকোনো উপায়ে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচিকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বেঁধে ফেলা এবং তাদের পরমাণু সক্ষমতা পুরোপুরি নস্যাৎ করা।
বিশ্বের পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের পরমাণু সামগ্রী সুরক্ষা কর্মসূচির ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কট রোকার এই বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম খুঁজে বের করা এবং তা সফলভাবে অপসারণ করার ক্ষেত্রে টেনেসির এই জাতীয় গবেষণাগারটির দীর্ঘ ও গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, যেকোনো স্থান থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অত্যন্ত নিরাপদ উপায়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, সেটির রূপান্তর ঘটানো এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অক্ষত অবস্থায় পরিবহনের জন্য এই গবেষণাগারের বিজ্ঞানীদের যেমন রয়েছে অগাধ দক্ষতা, তেমনই রয়েছে অত্যাধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা। তবে এর পাশাপাশি তিনি একটি বড় ঝুঁকির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। রোকার স্পষ্ট করে বলেছেন যে, মাটির গভীরে বা ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে পুঁতে রাখা বা চাপা পড়ে যাওয়া ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুত অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করার বাস্তব অভিজ্ঞতা এই মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিশেষজ্ঞ বা সংস্থারই নেই।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক যৌথ পর্যালোচনা এবং প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে মার্কিন সামরিক বাহিনী যে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছিল, তাতে দেশটির ইস্পাহানে অবস্থিত প্রধান পারমাণবিক কমপ্লেক্সটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই হামলায় তেহরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বিশাল মজুত মাটির নিচে ধসে পড়া স্তূপের নিচে চাপা পড়ে যায়। মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা, মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়াম চাপা পড়ে থাকলেও তা কিন্তু মোটেও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়নি, বরং এখনো তা উদ্ধার ও ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় রয়ে গেছে।
বাস্তবতার নিরিখে পারমাণবিক গবেষণাগারে ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের এই ঝটিকা সফরের অর্থ এই নয় যে, ইরানের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের কোনো শান্তি চুক্তি একেবারেই চূড়ান্ত বা আসন্ন। তবে পরমাণু বিশেষজ্ঞ স্কট রোকার এই পদক্ষেপটিকে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও উৎসাহব্যঞ্জক লক্ষণ হিসেবে অবিহিত করেছেন। কারণ তিনি মনে করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান এই জটিল পারমাণবিক আলোচনার কোনো এক পর্যায়ে মার্কিন সরকারের নিজস্ব পরমাণু বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করার অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল, যা এই সফরের মাধ্যমে শুরু হলো। অন্য দিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে এক বিবৃতিতে বলেছিলেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে চলমান এই আলোচনা অত্যন্ত জটিল ও চরম প্রযুক্তিগত একটি বিষয়। ফলে এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে এবং সফল হতে আরও বেশ কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। উল্লেখ্য, এর আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি যেকোনো মূল্যে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সম্পূর্ণ মজুত মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে চান। আর প্রেসিডেন্টের সেই ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতেই তার বিশ্বস্ত দূতেরা এখন পরমাণু বিজ্ঞানীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
সূত্র: সিএনএন ও এক্সিওস

আপনার মতামত লিখুন