দিকপাল

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতায় লাগাম টানতে প্রতিনিধি পরিষদের প্রস্তাব পাস


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ | ১০:০৯ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতায় লাগাম টানতে প্রতিনিধি পরিষদের প্রস্তাব পাস

যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার নিম্নকক্ষ তথা প্রতিনিধি পরিষদে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতার ওপর লাগাম টানতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো, কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন বা সম্মতি ব্যতিরেকে ইরানে সামরিক হামলা চালানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতাকে সীমিত করা। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় অনুযায়ী বুধবার ডেমোক্র্যাট সদস্যদের উদ্যোগে আনা ‘যুদ্ধ ক্ষমতা’ বা ওয়ার পাওয়ারস সংক্রান্ত এই প্রস্তাবটি ২১৫-২০৮ ভোটের ব্যবধানে অনুমোদিত হয়। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ভোটাভুটিতে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে চারজন রিপাবলিকান সদস্যও ডেমোক্র্যাটদের আনা এই প্রস্তাবের পক্ষে নিজেদের ভোট দেন। বর্তমান সময়ে মার্কিন আইনসভার উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ—উভয় জায়গাতেই রিপাবলিকান দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার পরও এই ধরনের একটি প্রস্তাব পাস হওয়াকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা এবং অস্বস্তির কারণ হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকেরা।


পাস হওয়া এই নতুন প্রস্তাবটিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, মার্কিন আইনসভার পূর্ব অনুমতি ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যেকোনো ধরনের সামরিক তৎপরতা বা যুদ্ধাবস্থা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আইনি জটিলতার কারণে এই প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ। কারণ, প্রস্তাবটি পুরোপুরি কার্যকর হতে গেলে আইনসভার উচ্চকক্ষ তথা সিনেটেও এটি পাস করিয়ে আনতে হবে। এর পাশাপাশি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তাঁর বিশেষ ভেটো বা বাতিলকরণ ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, তবে সেই ভেটোকে অগ্রাহ্য করে প্রস্তাবটি টিকিয়ে রাখতে গেলে মার্কিন আইনসভার উভয় কক্ষেই অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের জোরালো সমর্থন বা ভোটের প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ কঠিন।


আইনি বাধ্যবাধকতা যা-ই হোক না কেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটাভুটির ফলাফল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে আইনপ্রণেতাদের এক ধরনের বড় মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরোধ। এর আগে প্রতিনিধি পরিষদে এই ধরনের আরও তিনটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল। তবে প্রতিবারই ভোটের ব্যবধান বা দুই পক্ষের ব্যবধান ক্রমান্বয়ে কমে আসছিল, যা এবার প্রস্তাবটি পাসের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ নিলো। মূলত ইরানে সামরিক অভিযান বা যুদ্ধ শুরু করার পূর্বে ট্রাম্প কংগ্রেসের কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন গ্রহণ করেননি। তিনি শুরু থেকেই এই যুদ্ধকে একটি বড় মাত্রার সংঘাত হিসেবে না দেখিয়ে বরং ‘ছোটখাটো কোন্দল’ বা ‘স্বল্পমেয়াদী বিশেষ সামরিক অভিযান’ হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা বা বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার একক ও চূড়ান্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে দেশের আইনসভা বা কংগ্রেসের হাতে। ফলশ্রুতিতে, প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে বারবার একক সিদ্ধান্তে সামরিক শক্তি প্রয়োগের এই প্রবণতা খোদ তাঁর নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির কিছু আইনপ্রণেতাকেও ক্ষুব্ধ ও হতাশ করে তুলেছে।


চলতি বছরে এটি ছিল চতুর্থবারের মতো ভোটগ্রহণের ঘটনা, যেখানে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ট্রাম্পকে কংগ্রেসের অনুমতি নিতে বাধ্য করার লক্ষ্যে এই যুদ্ধ ক্ষমতা আইনের ওপর ভোট দেন। প্রকৃতপক্ষে এই ভোটাভুটি আরও আগেই, অর্থাৎ গত মে মাসের ২১ তারিখে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যা ছিল কংগ্রেসের বার্ষিক ছুটির আগের দিন। সে সময় ধারণা করা হচ্ছিল যে, বেশ কিছু রিপাবলিকান সদস্যের সমর্থনে প্রস্তাবটি সহজেই পাস হয়ে যাবে। কিন্তু ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত প্রতিনিধি পরিষদের প্রধান বা স্পিকার মাইক জনসন সেই ইঙ্গিত পেয়ে কৌশলগতভাবে নির্ধারিত সময়ের আগেই অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন, যার ফলে শেষ মুহূর্তে সেই ভোট বাতিল হয়ে যায়।


উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক হামলা শুরু করে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থার সৃষ্টি হয়। আগামী শনিবার এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ১০০ দিন পূর্ণ হতে যাচ্ছে। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত এপ্রিল মাসের ৮ তারিখ থেকে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর রয়েছে, তবুও অঞ্চলটিতে পুরোপুরি শান্তি ফিরে আসেনি। এই যুদ্ধবিরতির মাঝেই উভয় পক্ষ একে অপরের সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত অবস্থান লক্ষ্য করে একাধিকবার মারাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একাংশ মনে করছেন, পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরও অবনতি হতে পারে, আর তাই প্রেসিডেন্টের একক যুদ্ধংদেহী মনোভাবকে নিয়ন্ত্রণ করতেই এই বিল পাসের মাধ্যমে একটি কঠোর বার্তা দেওয়া হলো।


সূত্র: আল জাজিরা  

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতায় লাগাম টানতে প্রতিনিধি পরিষদের প্রস্তাব পাস

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার নিম্নকক্ষ তথা প্রতিনিধি পরিষদে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতার ওপর লাগাম টানতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো, কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন বা সম্মতি ব্যতিরেকে ইরানে সামরিক হামলা চালানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতাকে সীমিত করা। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় অনুযায়ী বুধবার ডেমোক্র্যাট সদস্যদের উদ্যোগে আনা ‘যুদ্ধ ক্ষমতা’ বা ওয়ার পাওয়ারস সংক্রান্ত এই প্রস্তাবটি ২১৫-২০৮ ভোটের ব্যবধানে অনুমোদিত হয়। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ভোটাভুটিতে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে চারজন রিপাবলিকান সদস্যও ডেমোক্র্যাটদের আনা এই প্রস্তাবের পক্ষে নিজেদের ভোট দেন। বর্তমান সময়ে মার্কিন আইনসভার উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ—উভয় জায়গাতেই রিপাবলিকান দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার পরও এই ধরনের একটি প্রস্তাব পাস হওয়াকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা এবং অস্বস্তির কারণ হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকেরা।


পাস হওয়া এই নতুন প্রস্তাবটিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, মার্কিন আইনসভার পূর্ব অনুমতি ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যেকোনো ধরনের সামরিক তৎপরতা বা যুদ্ধাবস্থা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আইনি জটিলতার কারণে এই প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ। কারণ, প্রস্তাবটি পুরোপুরি কার্যকর হতে গেলে আইনসভার উচ্চকক্ষ তথা সিনেটেও এটি পাস করিয়ে আনতে হবে। এর পাশাপাশি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তাঁর বিশেষ ভেটো বা বাতিলকরণ ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, তবে সেই ভেটোকে অগ্রাহ্য করে প্রস্তাবটি টিকিয়ে রাখতে গেলে মার্কিন আইনসভার উভয় কক্ষেই অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের জোরালো সমর্থন বা ভোটের প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ কঠিন।


আইনি বাধ্যবাধকতা যা-ই হোক না কেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটাভুটির ফলাফল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে আইনপ্রণেতাদের এক ধরনের বড় মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরোধ। এর আগে প্রতিনিধি পরিষদে এই ধরনের আরও তিনটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল। তবে প্রতিবারই ভোটের ব্যবধান বা দুই পক্ষের ব্যবধান ক্রমান্বয়ে কমে আসছিল, যা এবার প্রস্তাবটি পাসের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ নিলো। মূলত ইরানে সামরিক অভিযান বা যুদ্ধ শুরু করার পূর্বে ট্রাম্প কংগ্রেসের কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন গ্রহণ করেননি। তিনি শুরু থেকেই এই যুদ্ধকে একটি বড় মাত্রার সংঘাত হিসেবে না দেখিয়ে বরং ‘ছোটখাটো কোন্দল’ বা ‘স্বল্পমেয়াদী বিশেষ সামরিক অভিযান’ হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা বা বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার একক ও চূড়ান্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে দেশের আইনসভা বা কংগ্রেসের হাতে। ফলশ্রুতিতে, প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে বারবার একক সিদ্ধান্তে সামরিক শক্তি প্রয়োগের এই প্রবণতা খোদ তাঁর নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির কিছু আইনপ্রণেতাকেও ক্ষুব্ধ ও হতাশ করে তুলেছে।


চলতি বছরে এটি ছিল চতুর্থবারের মতো ভোটগ্রহণের ঘটনা, যেখানে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ট্রাম্পকে কংগ্রেসের অনুমতি নিতে বাধ্য করার লক্ষ্যে এই যুদ্ধ ক্ষমতা আইনের ওপর ভোট দেন। প্রকৃতপক্ষে এই ভোটাভুটি আরও আগেই, অর্থাৎ গত মে মাসের ২১ তারিখে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যা ছিল কংগ্রেসের বার্ষিক ছুটির আগের দিন। সে সময় ধারণা করা হচ্ছিল যে, বেশ কিছু রিপাবলিকান সদস্যের সমর্থনে প্রস্তাবটি সহজেই পাস হয়ে যাবে। কিন্তু ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত প্রতিনিধি পরিষদের প্রধান বা স্পিকার মাইক জনসন সেই ইঙ্গিত পেয়ে কৌশলগতভাবে নির্ধারিত সময়ের আগেই অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন, যার ফলে শেষ মুহূর্তে সেই ভোট বাতিল হয়ে যায়।


উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক হামলা শুরু করে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থার সৃষ্টি হয়। আগামী শনিবার এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ১০০ দিন পূর্ণ হতে যাচ্ছে। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত এপ্রিল মাসের ৮ তারিখ থেকে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর রয়েছে, তবুও অঞ্চলটিতে পুরোপুরি শান্তি ফিরে আসেনি। এই যুদ্ধবিরতির মাঝেই উভয় পক্ষ একে অপরের সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত অবস্থান লক্ষ্য করে একাধিকবার মারাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একাংশ মনে করছেন, পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরও অবনতি হতে পারে, আর তাই প্রেসিডেন্টের একক যুদ্ধংদেহী মনোভাবকে নিয়ন্ত্রণ করতেই এই বিল পাসের মাধ্যমে একটি কঠোর বার্তা দেওয়া হলো।


সূত্র: আল জাজিরা  


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল