ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার রাতভর চালানো এক ভয়াবহ ও ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলায় অন্তত ২৩ জন সাধারণ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে সংঘটিত এই আকস্মিক ও তীব্র হামলায় দেশটির বহু আবাসিক ভবন এবং বাণিজ্যিক স্থাপনা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে বলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই হামলার ঠিক আগেই রাজধানী কিয়েভের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, মস্কো বড় ধরনের কোনো সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রায় চার বছর ধরে চলমান এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ার সাম্প্রতিক এই আক্রমণ রণক্ষেত্রের পরিস্থিতিকে নতুন করে আরও উত্তপ্ত ও জটিল করে তুলেছে, যা চলমান সংকটের সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎকেও বড় ধরনের শঙ্কার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর দেওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্য ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রুশ বাহিনী দেশটির আকাশসীমা লক্ষ্য করে একযোগে মোট ৭৩টি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬৫৬টি মারাত্মক ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। যদিও ইউক্রেনীয় বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত তৎপরতার সাথে এই বিশাল আক্রমণভাগের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশে থাকা অবস্থাতেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়, তার পরেও সামরিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে অন্তত ৫৪টি ড্রোন এবং ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই বিধ্বংসী হামলার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এবারের হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পপ্রধান শহর দনিপ্রোতে। সেখানে একটি চারতলা আবাসিক ভবনের ওপর সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে পুরো ভবনটি ধসে পড়ে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে অন্তত ১৬ জন বাসিন্দা প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে দুটি অবুঝ শিশুও রয়েছে। এই একটি এলাকাতেই আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪২ জন নাগরিক, যাদের অনেকেরই অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে রাজধানী কিয়েভেও রুশ হামলার তীব্রতা ছিল চোখে পড়ার মতো। কিয়েভের নগর পিতা ভিতালি ক্লিচকো গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, রাজধানীতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত সাতজন নিহত এবং প্রায় ৫০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
কিয়েভে কর্মরত আন্তর্জাতিক সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন যে, শহরজুড়ে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠার পরপরই রাতভর একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। প্রাণভয়ে আতঙ্কিত হাজার হাজার স্থানীয় বাসিন্দা নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও জরুরি নথিপত্র সাথে নিয়ে মেট্রো স্টেশন এবং মাটির নিচে তৈরি অন্যান্য নিরাপদ বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ার জন্য ছুটে যান। রাশিয়ার এই সাম্প্রতিক ও সুপরিকল্পিত হামলা ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের পারদকে এক ধাক্কায় অনেক উঁচুতে তুলে দিয়েছে এবং যুদ্ধের দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ অবসানের যে ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তাকে আরও অনিশ্চিত ও সুদূরপরাহত করে তুলেছে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার রাতভর চালানো এক ভয়াবহ ও ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলায় অন্তত ২৩ জন সাধারণ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে সংঘটিত এই আকস্মিক ও তীব্র হামলায় দেশটির বহু আবাসিক ভবন এবং বাণিজ্যিক স্থাপনা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে বলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই হামলার ঠিক আগেই রাজধানী কিয়েভের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, মস্কো বড় ধরনের কোনো সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রায় চার বছর ধরে চলমান এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ার সাম্প্রতিক এই আক্রমণ রণক্ষেত্রের পরিস্থিতিকে নতুন করে আরও উত্তপ্ত ও জটিল করে তুলেছে, যা চলমান সংকটের সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎকেও বড় ধরনের শঙ্কার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর দেওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্য ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রুশ বাহিনী দেশটির আকাশসীমা লক্ষ্য করে একযোগে মোট ৭৩টি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬৫৬টি মারাত্মক ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। যদিও ইউক্রেনীয় বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত তৎপরতার সাথে এই বিশাল আক্রমণভাগের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশে থাকা অবস্থাতেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়, তার পরেও সামরিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে অন্তত ৫৪টি ড্রোন এবং ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই বিধ্বংসী হামলার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এবারের হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পপ্রধান শহর দনিপ্রোতে। সেখানে একটি চারতলা আবাসিক ভবনের ওপর সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে পুরো ভবনটি ধসে পড়ে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে অন্তত ১৬ জন বাসিন্দা প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে দুটি অবুঝ শিশুও রয়েছে। এই একটি এলাকাতেই আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪২ জন নাগরিক, যাদের অনেকেরই অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে রাজধানী কিয়েভেও রুশ হামলার তীব্রতা ছিল চোখে পড়ার মতো। কিয়েভের নগর পিতা ভিতালি ক্লিচকো গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, রাজধানীতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত সাতজন নিহত এবং প্রায় ৫০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
কিয়েভে কর্মরত আন্তর্জাতিক সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন যে, শহরজুড়ে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠার পরপরই রাতভর একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। প্রাণভয়ে আতঙ্কিত হাজার হাজার স্থানীয় বাসিন্দা নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও জরুরি নথিপত্র সাথে নিয়ে মেট্রো স্টেশন এবং মাটির নিচে তৈরি অন্যান্য নিরাপদ বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ার জন্য ছুটে যান। রাশিয়ার এই সাম্প্রতিক ও সুপরিকল্পিত হামলা ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের পারদকে এক ধাক্কায় অনেক উঁচুতে তুলে দিয়েছে এবং যুদ্ধের দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ অবসানের যে ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তাকে আরও অনিশ্চিত ও সুদূরপরাহত করে তুলেছে।

আপনার মতামত লিখুন