বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে এক জটিল ও সংকটাপন্ন সন্ধিক্ষণে রয়েছে। একদিকে দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অন্যদিকে চরম জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। এই বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে উত্তরণ, বৈশ্বিক নানামুখী চাপ মোকাবিলা এবং দেশের আর্থিক খাতকে একটি শক্তিশালী কাঠামোর ওপর দাঁড় করাতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল এবং উচ্চাভিলাষী বাজেট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন নির্বাচিত সরকারের প্রথম এই বাজেটে শুধু ব্যয়ের পরিধিই বাড়ানো হয়নি, সেই সাথে বিশাল আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, এবারের বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বিপুল অঙ্কের এই আয়ের লক্ষ্যমাত্রার পরও সামগ্রিক বাজেটে রেকর্ড পরিমাণ ঘাটতি থেকে যাচ্ছে, যার পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী, এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং বৈদেশিক ঋণ উৎসের ওপর গভীরভাবে নির্ভর করতে হবে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। সেই তুলনায় আগামী অর্থবছরের বাজেটের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। শতাংশের হিসাবে এটি চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি, যা দেশের বাজেট ঘোষণার ইতিহাসে একটি রেকর্ড বৃদ্ধি। অথচ এর আগে, দেশের পরিবর্তিত ও সংকটময় পরিস্থিতি বিবেচনা করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার আগের বছরের তুলনায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে একটি সংকুচিত বাজেট ঘোষণা করেছিল, যা বর্তমানে ধীরগতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তবে নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে খরচের খাতা বড় করার এই সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রতি অর্থ বিভাগ কর্তৃক প্রস্তুত করা বাজেটের এই সারসংক্ষেপ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণের পরই অর্থ বিভাগ এই খসড়া রূপরেখা চূড়ান্ত রূপ দিয়েছে।
নতুন সরকারের নীতি নির্ধারকদের মতে, এবারের বাজেটে মূলত দেশের সাধারণ মানুষের জীবনের স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংস্কারকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খসড়া নথিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন, নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিফলন ঘটানো, সামাজিক সুরক্ষাবেষ্টনীর ব্যাপক সম্প্রসারণ এবং একটি কল্যাণমুখী অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশজুড়ে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী এই খসড়া পরিকল্পনায় সামাজিক নিরাপত্তা এবং কল্যাণমূলক কর্মসূচির জন্য ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন, যা বিদায়ী বছরের তুলনায় অন্তত ১২ হাজার কোটি টাকা বেশি। এই বরাদ্দের মাধ্যমে সামাজিক সুবিধার আওতায় থাকা উপকারভোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে এই বাজেটকে ঘিরে অন্যরকম এক আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘ ২০ বছর পর দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসা নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর মেয়াদের এই প্রথম বাজেটটিকে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি ও অগ্রযাত্রার একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান। এই কারণে পবিত্র ঈদের ছুটির মধ্যেও তিনি বিশ্রাম না নিয়ে বাজেটের প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখেছেন এবং কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর জন্যও এটিই প্রথম বাজেট, যা আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হতে যাচ্ছে। বর্তমানে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার খুঁটিনাটি বিষয়গুলো চূড়ান্ত পরিমার্জন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নানা অর্থনৈতিক সংকট থাকলেও সাধারণ মানুষকে বাজারের ঊর্ধ্বগতি থেকে স্বস্তি দিতে সরকার বিশেষ কৌশল অবলম্বন করছে। এর অংশ হিসেবে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হচ্ছে, কর্পোরেট কর কমানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নিয়ন্ত্রণ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে করের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে এককালীন আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এমনকি দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি চাঙ্গা করতে এবং পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে আবারও অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা মূল অর্থনীতিতে আনার বিশেষ সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।
বাজেটের সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলোর মধ্যে আগামী অর্থবছরের জন্য মোট দেশজ উৎপাদনের বা জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। যেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য এই লক্ষ্যমাত্রা ৫ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছিল এবং বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে নতুন সরকারের এই লক্ষ্যমাত্রাকে বেশ সাহসী ও উচ্চাভিলাষী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল ও আমেরিকার মধ্যকার চলমান সংঘাত এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করা বেশ কঠিন হবে। একইভাবে আগামী বছরের জন্য মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা বলছেন, টানা কয়েক বছর ধরে দেশের মূল্যস্ফীতি যেভাবে প্রায় দুই অঙ্কের ঘরে অবস্থান করছে, তার ওপর ভিত্তি করে এই লক্ষ্য অর্জন করা চরম চ্যালেঞ্জিং হবে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতার কারণে দেশের বাজারে ইতিমধ্যেই জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে এবং বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়াও সচল রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কঠিন শর্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং তাদের চলমান সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ কর্মসূচির পাশাপাশি আরও ৩ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণের আলোচনার অংশ হিসেবে আগামী বছর তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম ধাপে ধাপে সমন্বয় বা বৃদ্ধি করার কথা বাজেটের খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত থেকে ভর্তুকি পুরোপুরি তুলে নেওয়ার তীব্র চাপ থাকলেও দেশের সাধারণ মানুষ এবং কৃষকদের কথা বিবেচনা করে সরকার আগামী বাজেটেও এই খাতের জন্য ৩৭ হাজার কোটি টাকাসহ মোট ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ সহায়তার জন্য ১ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখছে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ের মধ্যে পরিচালন ও অন্যান্য প্রশাসনিক খাতের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। আর দেশের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা, যা ইতিমধ্যেই সরকার অনুমোদন করেছে। এই উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০টিরও বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে, যার মধ্যে নতুন প্রকল্পই রয়েছে ১ হাজার ২৭৭টি। এডিপির অর্থায়নে সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হবে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা আসবে বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা থেকে। এই উন্নয়ন বরাদ্দে পরিবহন ও যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, এবং কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন খাতকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
আয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরকে প্রধান উৎস হিসেবে রাখা হয়েছে এবং সংস্থাটিকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের বিশাল লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এনবিআর বহির্ভূত খাত থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং কর ব্যতীত প্রাপ্তি খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। তবে গত ১০ মাসে দেশের রাজস্ব ঘাটতি যেখানে ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, সেখানে এই বিশাল রাজস্ব আদায় কতটুকু সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ফলে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার যে ঘাটতি তৈরি হবে, তা পূরণে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে। বাকি ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে বৈদেশিক উৎস থেকে। পাশাপাশি আগের নেওয়া বৈদেশিক ঋণের কিস্তি বাবদ আগামী বছর সরকারকে ৪৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।
ঈদুল আজহার ছুটির ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বাজেটের চূড়ান্ত রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়, যেখানে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ সরকারের নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রধান আটটি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা হয়। এই চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, কৃচ্ছ্রসাধন নীতি থেকে ধাপে ধাপে বের হওয়া, ভর্তুকির চাপ সামলে উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ সচল রাখা, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বৈদেশিক অর্থের ব্যবহার বৃদ্ধি করা এবং সামগ্রিক বিনিয়োগের পরিবেশ ব্যবসাবান্ধব রাখা।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার জোরদারকরণ, কর অব্যাহতির সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসা এবং ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষার পরিধি বাড়িয়ে ওএমএস বা টিসিবির মতো সাময়িক কর্মসূচির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার কৌশল নেওয়া হয়েছে। বাজেটে তরুণ প্রজন্মের জন্য ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ নামক একটি সম্পূর্ণ নতুন ধারণার অন্তর্ভুক্তি ও বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হচ্ছে, যা তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং এবং স্টার্টআপ খাতকে উৎসাহিত করবে।
সরকারের এই মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, বাস্তবভিত্তিক সংস্কার, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে টেকসই পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব এবং এই বাজেটের মাধ্যমে সব শ্রেণির মানুষ বাজারে স্বস্তি পাবে। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, নতুন এই বাজেটটি নতুন নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের জন্য একটি বিশাল পরীক্ষা। ভঙ্গুর আর্থিক খাতে সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানো, বেসরকারি বিনিয়োগ সচল করা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। সরকার তাদের প্রথম বাজেটে জনকল্যাণ ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে এক জটিল ও সংকটাপন্ন সন্ধিক্ষণে রয়েছে। একদিকে দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অন্যদিকে চরম জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। এই বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে উত্তরণ, বৈশ্বিক নানামুখী চাপ মোকাবিলা এবং দেশের আর্থিক খাতকে একটি শক্তিশালী কাঠামোর ওপর দাঁড় করাতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল এবং উচ্চাভিলাষী বাজেট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন নির্বাচিত সরকারের প্রথম এই বাজেটে শুধু ব্যয়ের পরিধিই বাড়ানো হয়নি, সেই সাথে বিশাল আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, এবারের বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বিপুল অঙ্কের এই আয়ের লক্ষ্যমাত্রার পরও সামগ্রিক বাজেটে রেকর্ড পরিমাণ ঘাটতি থেকে যাচ্ছে, যার পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী, এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং বৈদেশিক ঋণ উৎসের ওপর গভীরভাবে নির্ভর করতে হবে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। সেই তুলনায় আগামী অর্থবছরের বাজেটের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। শতাংশের হিসাবে এটি চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি, যা দেশের বাজেট ঘোষণার ইতিহাসে একটি রেকর্ড বৃদ্ধি। অথচ এর আগে, দেশের পরিবর্তিত ও সংকটময় পরিস্থিতি বিবেচনা করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার আগের বছরের তুলনায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে একটি সংকুচিত বাজেট ঘোষণা করেছিল, যা বর্তমানে ধীরগতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তবে নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে খরচের খাতা বড় করার এই সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রতি অর্থ বিভাগ কর্তৃক প্রস্তুত করা বাজেটের এই সারসংক্ষেপ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণের পরই অর্থ বিভাগ এই খসড়া রূপরেখা চূড়ান্ত রূপ দিয়েছে।
নতুন সরকারের নীতি নির্ধারকদের মতে, এবারের বাজেটে মূলত দেশের সাধারণ মানুষের জীবনের স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংস্কারকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খসড়া নথিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন, নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিফলন ঘটানো, সামাজিক সুরক্ষাবেষ্টনীর ব্যাপক সম্প্রসারণ এবং একটি কল্যাণমুখী অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশজুড়ে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী এই খসড়া পরিকল্পনায় সামাজিক নিরাপত্তা এবং কল্যাণমূলক কর্মসূচির জন্য ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন, যা বিদায়ী বছরের তুলনায় অন্তত ১২ হাজার কোটি টাকা বেশি। এই বরাদ্দের মাধ্যমে সামাজিক সুবিধার আওতায় থাকা উপকারভোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে এই বাজেটকে ঘিরে অন্যরকম এক আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘ ২০ বছর পর দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসা নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর মেয়াদের এই প্রথম বাজেটটিকে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি ও অগ্রযাত্রার একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান। এই কারণে পবিত্র ঈদের ছুটির মধ্যেও তিনি বিশ্রাম না নিয়ে বাজেটের প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখেছেন এবং কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর জন্যও এটিই প্রথম বাজেট, যা আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হতে যাচ্ছে। বর্তমানে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার খুঁটিনাটি বিষয়গুলো চূড়ান্ত পরিমার্জন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নানা অর্থনৈতিক সংকট থাকলেও সাধারণ মানুষকে বাজারের ঊর্ধ্বগতি থেকে স্বস্তি দিতে সরকার বিশেষ কৌশল অবলম্বন করছে। এর অংশ হিসেবে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হচ্ছে, কর্পোরেট কর কমানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নিয়ন্ত্রণ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে করের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে এককালীন আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এমনকি দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি চাঙ্গা করতে এবং পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে আবারও অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা মূল অর্থনীতিতে আনার বিশেষ সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।
বাজেটের সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলোর মধ্যে আগামী অর্থবছরের জন্য মোট দেশজ উৎপাদনের বা জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। যেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য এই লক্ষ্যমাত্রা ৫ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছিল এবং বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে নতুন সরকারের এই লক্ষ্যমাত্রাকে বেশ সাহসী ও উচ্চাভিলাষী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল ও আমেরিকার মধ্যকার চলমান সংঘাত এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করা বেশ কঠিন হবে। একইভাবে আগামী বছরের জন্য মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা বলছেন, টানা কয়েক বছর ধরে দেশের মূল্যস্ফীতি যেভাবে প্রায় দুই অঙ্কের ঘরে অবস্থান করছে, তার ওপর ভিত্তি করে এই লক্ষ্য অর্জন করা চরম চ্যালেঞ্জিং হবে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতার কারণে দেশের বাজারে ইতিমধ্যেই জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে এবং বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়াও সচল রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কঠিন শর্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং তাদের চলমান সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ কর্মসূচির পাশাপাশি আরও ৩ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণের আলোচনার অংশ হিসেবে আগামী বছর তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম ধাপে ধাপে সমন্বয় বা বৃদ্ধি করার কথা বাজেটের খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত থেকে ভর্তুকি পুরোপুরি তুলে নেওয়ার তীব্র চাপ থাকলেও দেশের সাধারণ মানুষ এবং কৃষকদের কথা বিবেচনা করে সরকার আগামী বাজেটেও এই খাতের জন্য ৩৭ হাজার কোটি টাকাসহ মোট ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ সহায়তার জন্য ১ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখছে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ের মধ্যে পরিচালন ও অন্যান্য প্রশাসনিক খাতের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। আর দেশের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা, যা ইতিমধ্যেই সরকার অনুমোদন করেছে। এই উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০টিরও বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে, যার মধ্যে নতুন প্রকল্পই রয়েছে ১ হাজার ২৭৭টি। এডিপির অর্থায়নে সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হবে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা আসবে বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা থেকে। এই উন্নয়ন বরাদ্দে পরিবহন ও যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, এবং কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন খাতকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
আয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরকে প্রধান উৎস হিসেবে রাখা হয়েছে এবং সংস্থাটিকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের বিশাল লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এনবিআর বহির্ভূত খাত থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং কর ব্যতীত প্রাপ্তি খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। তবে গত ১০ মাসে দেশের রাজস্ব ঘাটতি যেখানে ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, সেখানে এই বিশাল রাজস্ব আদায় কতটুকু সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ফলে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার যে ঘাটতি তৈরি হবে, তা পূরণে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে। বাকি ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে বৈদেশিক উৎস থেকে। পাশাপাশি আগের নেওয়া বৈদেশিক ঋণের কিস্তি বাবদ আগামী বছর সরকারকে ৪৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।
ঈদুল আজহার ছুটির ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বাজেটের চূড়ান্ত রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়, যেখানে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ সরকারের নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রধান আটটি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা হয়। এই চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, কৃচ্ছ্রসাধন নীতি থেকে ধাপে ধাপে বের হওয়া, ভর্তুকির চাপ সামলে উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ সচল রাখা, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বৈদেশিক অর্থের ব্যবহার বৃদ্ধি করা এবং সামগ্রিক বিনিয়োগের পরিবেশ ব্যবসাবান্ধব রাখা।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার জোরদারকরণ, কর অব্যাহতির সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসা এবং ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষার পরিধি বাড়িয়ে ওএমএস বা টিসিবির মতো সাময়িক কর্মসূচির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার কৌশল নেওয়া হয়েছে। বাজেটে তরুণ প্রজন্মের জন্য ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ নামক একটি সম্পূর্ণ নতুন ধারণার অন্তর্ভুক্তি ও বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হচ্ছে, যা তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং এবং স্টার্টআপ খাতকে উৎসাহিত করবে।
সরকারের এই মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, বাস্তবভিত্তিক সংস্কার, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে টেকসই পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব এবং এই বাজেটের মাধ্যমে সব শ্রেণির মানুষ বাজারে স্বস্তি পাবে। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, নতুন এই বাজেটটি নতুন নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের জন্য একটি বিশাল পরীক্ষা। ভঙ্গুর আর্থিক খাতে সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানো, বেসরকারি বিনিয়োগ সচল করা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। সরকার তাদের প্রথম বাজেটে জনকল্যাণ ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন