দিকপাল

শিল্প ও কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ০১ জুন ২০২৬ | ০৯:১৩ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

শিল্প ও কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের এই জটিল বাস্তবতায় বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ হলো দেশীয় শিল্প খাতকে বাঁচিয়ে রাখা এবং বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা। দেশের অর্থনীতির বর্তমান আকার প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছালেও এর বিপরীতে রয়েছে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের এক বিশাল ও উদ্বেগজনক ঘাটতি। এই ধরনের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন অর্থবছরের আসন্ন বাজেটে শিল্প ও উৎপাদন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ শিল্প যদি টিকে না থাকে, তবে সামগ্রিক অর্থনীতিকে সচল রাখা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রার মূল চালিকাশক্তি এখনো উৎপাদন ও রপ্তানিনির্ভর শিল্প খাত। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপ-খাতগুলো এ দেশের লাখ লাখ সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় এই শিল্পগুলো নানামুখী অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত পাঁচ বছরের খতিয়ান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশে সুতা আমদানির পরিমাণ অস্বাভাবিক এবং আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে যেখানে সুতা আমদানির আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা, সেখানে বর্তমানে তা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল অঙ্কে গিয়ে ঠেকেছে।

এই অনিয়ন্ত্রিত সুতা আমদানির সরাসরি ও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের স্থানীয় স্পিনিং এবং টেক্সটাইল মিলগুলোর ওপর। দেশীয় উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে এবং বহু কারখানা তাদের পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং কাঁচামালের অসম প্রতিযোগিতার কারণে অনেক উদ্যোক্তা কারখানা সচল রাখতেই হিমশিম খাচ্ছেন। একই সঙ্গে একটি বড় ধাক্কা আসছে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে, যেখানে বৈশ্বিক ক্রেতাদের ক্রয়াদেশের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশ থেকে হাতছাড়া হয়ে অন্য দেশে, বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এর ফলে শুধু যে আমাদের দেশীয় শিল্পের মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তা নয়, বরং সাধারণ শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও গভীর হুমকির মুখে পড়ছে, যা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

এমন এক নাজুক পরিস্থিতিতে নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপনের চেয়েও বিদ্যমান শিল্পগুলোকে যেকোনো মূল্যে টিকিয়ে রাখাই সরকারের প্রধান জাতীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। পুরনো ও চলমান শিল্পগুলোকে পুনরায় শক্তিশালী ও সচল করতে হলে সহজ শর্তে এবং দ্রুততম সময়ে কার্যকর অর্থায়নের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে, দেশের ব্যাংকিং খাত নিজেই এখন নানামুখী সংকট ও কাঠামোগত চাপের মধ্যে জর্জরিত। খেলাপি ঋণের পাহাড় এবং তীব্র তারল্য সংকটের কারণে অধিকাংশ ব্যাংক এখন শিল্প খাতে নতুন করে বড় অঙ্কের ঋণ দিতে চরম অনীহা প্রকাশ করছে।

এর পাশাপাশি আরও একটি বড় চিন্তার বিষয় হলো, সরকার যদি আসন্ন বাজেটের বিশাল ঘাটতি মেটানোর জন্য দেশীয় ব্যাংক খাতের ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তবে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণ পাওয়ার পথ আরও বেশি সংকুচিত হয়ে পড়বে। একে অর্থনীতিবিদরা বেসরকারি খাতের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে এক ধরনের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখছেন, যা স্থানীয় বিনিয়োগকে পুরোপুরি স্থবির করে দিতে পারে। তাই ব্যাংক ঋণের বাইরে গিয়ে অর্থায়নের বিকল্প এবং টেকসই উৎস নিয়ে নীতিনির্ধারকদের এখনই গভীরভাবে ভাবতে হবে। দেশের অকার্যকর পুঁজিবাজারকে গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করা, বিদেশি স্বল্প সুদের ঋণ ও উন্নয়ন সহায়তার সঠিক ও সময়োপযোগী ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে এমন সব সরকারি-বেসরকারি প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যা সরাসরি বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং সাধারণ মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছে দিয়ে তাদের আয় বাড়াতে সাহায্য করে। কারণ যেকোনো দেশের অর্থনীতির প্রকৃত শক্তি ও মজবুতি আসে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতার ওপর ভিত্তি করে।

শিল্পের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর আরেকটি বড় উপাদান হলো জ্বালানি খাতের দক্ষতা ও এর যৌক্তিক ব্যবহার। বর্তমান তীব্র জ্বালানি সংকটের যুগে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। উদাহরণস্বরূপ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী লাইট, উন্নত ইনভার্টার, আধুনিক ও দক্ষ মোটর এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে যদি সরকার শুল্কমুক্ত সুবিধা বা বিশেষ নীতি সহায়তা প্রদান করে, তবে শিল্প কারখানায় প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব। এটি একদিকে যেমন উদ্যোক্তাদের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে দীর্ঘ মেয়াদে দেশের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে এক দীর্ঘস্থায়ী স্বস্তি দেবে।

পরিশেষে বলা যায়, এবারের নতুন বাজেট যেন কেবলই আয়-ব্যয়ের গতানুগতিক কোনো কাগুজে হিসাব বা সংখ্যার খেলা না হয়। এটি হওয়া উচিত দেশের শিল্প, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান রক্ষার এক বাস্তবসম্মত, সাহসী এবং দূরদর্শী মহাপরিকল্পনা। সরকার যদি এই মুহূর্তে বিদ্যমান দেশীয় শিল্পগুলোকে সব ধরনের নীতিগত ও আর্থিক সমর্থন দিয়ে টিকিয়ে রাখতে না পারে, তবে বর্তমানের এই গভীর অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠা এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা দেশের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও দূরূহ হয়ে পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


শিল্প ও কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬

featured Image

বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের এই জটিল বাস্তবতায় বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ হলো দেশীয় শিল্প খাতকে বাঁচিয়ে রাখা এবং বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা। দেশের অর্থনীতির বর্তমান আকার প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছালেও এর বিপরীতে রয়েছে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের এক বিশাল ও উদ্বেগজনক ঘাটতি। এই ধরনের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন অর্থবছরের আসন্ন বাজেটে শিল্প ও উৎপাদন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ শিল্প যদি টিকে না থাকে, তবে সামগ্রিক অর্থনীতিকে সচল রাখা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রার মূল চালিকাশক্তি এখনো উৎপাদন ও রপ্তানিনির্ভর শিল্প খাত। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপ-খাতগুলো এ দেশের লাখ লাখ সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় এই শিল্পগুলো নানামুখী অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত পাঁচ বছরের খতিয়ান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশে সুতা আমদানির পরিমাণ অস্বাভাবিক এবং আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে যেখানে সুতা আমদানির আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা, সেখানে বর্তমানে তা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল অঙ্কে গিয়ে ঠেকেছে।

এই অনিয়ন্ত্রিত সুতা আমদানির সরাসরি ও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের স্থানীয় স্পিনিং এবং টেক্সটাইল মিলগুলোর ওপর। দেশীয় উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে এবং বহু কারখানা তাদের পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং কাঁচামালের অসম প্রতিযোগিতার কারণে অনেক উদ্যোক্তা কারখানা সচল রাখতেই হিমশিম খাচ্ছেন। একই সঙ্গে একটি বড় ধাক্কা আসছে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে, যেখানে বৈশ্বিক ক্রেতাদের ক্রয়াদেশের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশ থেকে হাতছাড়া হয়ে অন্য দেশে, বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এর ফলে শুধু যে আমাদের দেশীয় শিল্পের মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তা নয়, বরং সাধারণ শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও গভীর হুমকির মুখে পড়ছে, যা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

এমন এক নাজুক পরিস্থিতিতে নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপনের চেয়েও বিদ্যমান শিল্পগুলোকে যেকোনো মূল্যে টিকিয়ে রাখাই সরকারের প্রধান জাতীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। পুরনো ও চলমান শিল্পগুলোকে পুনরায় শক্তিশালী ও সচল করতে হলে সহজ শর্তে এবং দ্রুততম সময়ে কার্যকর অর্থায়নের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে, দেশের ব্যাংকিং খাত নিজেই এখন নানামুখী সংকট ও কাঠামোগত চাপের মধ্যে জর্জরিত। খেলাপি ঋণের পাহাড় এবং তীব্র তারল্য সংকটের কারণে অধিকাংশ ব্যাংক এখন শিল্প খাতে নতুন করে বড় অঙ্কের ঋণ দিতে চরম অনীহা প্রকাশ করছে।

এর পাশাপাশি আরও একটি বড় চিন্তার বিষয় হলো, সরকার যদি আসন্ন বাজেটের বিশাল ঘাটতি মেটানোর জন্য দেশীয় ব্যাংক খাতের ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তবে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণ পাওয়ার পথ আরও বেশি সংকুচিত হয়ে পড়বে। একে অর্থনীতিবিদরা বেসরকারি খাতের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে এক ধরনের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখছেন, যা স্থানীয় বিনিয়োগকে পুরোপুরি স্থবির করে দিতে পারে। তাই ব্যাংক ঋণের বাইরে গিয়ে অর্থায়নের বিকল্প এবং টেকসই উৎস নিয়ে নীতিনির্ধারকদের এখনই গভীরভাবে ভাবতে হবে। দেশের অকার্যকর পুঁজিবাজারকে গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করা, বিদেশি স্বল্প সুদের ঋণ ও উন্নয়ন সহায়তার সঠিক ও সময়োপযোগী ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে এমন সব সরকারি-বেসরকারি প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যা সরাসরি বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং সাধারণ মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছে দিয়ে তাদের আয় বাড়াতে সাহায্য করে। কারণ যেকোনো দেশের অর্থনীতির প্রকৃত শক্তি ও মজবুতি আসে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতার ওপর ভিত্তি করে।

শিল্পের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর আরেকটি বড় উপাদান হলো জ্বালানি খাতের দক্ষতা ও এর যৌক্তিক ব্যবহার। বর্তমান তীব্র জ্বালানি সংকটের যুগে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। উদাহরণস্বরূপ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী লাইট, উন্নত ইনভার্টার, আধুনিক ও দক্ষ মোটর এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে যদি সরকার শুল্কমুক্ত সুবিধা বা বিশেষ নীতি সহায়তা প্রদান করে, তবে শিল্প কারখানায় প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব। এটি একদিকে যেমন উদ্যোক্তাদের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে দীর্ঘ মেয়াদে দেশের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে এক দীর্ঘস্থায়ী স্বস্তি দেবে।

পরিশেষে বলা যায়, এবারের নতুন বাজেট যেন কেবলই আয়-ব্যয়ের গতানুগতিক কোনো কাগুজে হিসাব বা সংখ্যার খেলা না হয়। এটি হওয়া উচিত দেশের শিল্প, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান রক্ষার এক বাস্তবসম্মত, সাহসী এবং দূরদর্শী মহাপরিকল্পনা। সরকার যদি এই মুহূর্তে বিদ্যমান দেশীয় শিল্পগুলোকে সব ধরনের নীতিগত ও আর্থিক সমর্থন দিয়ে টিকিয়ে রাখতে না পারে, তবে বর্তমানের এই গভীর অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠা এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা দেশের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও দূরূহ হয়ে পড়বে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল