যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে ব্যয় কমানোর এক নিষ্ঠুর প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিশ্বের নামকরা সব বড় বড় প্রতিষ্ঠান। একের পর এক প্রযুক্তি সংস্থায় বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাইয়ের এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের কারণে আমেরিকার সিলিকন ভ্যালিতে কাজ করা লাখ লাখ বিদেশী কর্মী এখন দিশেহারা। আর এই তীব্র সংকটের মুখে পড়ে সবচেয়ে বেশি মানসিক ও সামাজিক চাপে পড়েছেন সেখানে বিশেষ কাজের অনুমতি বা এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীরা। হঠাৎ করে ভালো বেতনের চাকরি হারানোর কারণে তারা এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ এবং পরিবার নিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বিশ্বখ্যাত সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন বড় বড় প্রতিষ্ঠানে যে গণছাঁটাইয়ের জোয়ার শুরু হয়েছে, তাতে সবচেয়ে বেশি আঘাত এসেছে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের ওপর। বিশেষ করে যারা এই অস্থায়ী কাজের ভিসা নিয়ে দেশটিতে আছেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি এখন শাঁখের করাতের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মূল কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কঠোর ভিসা নীতিমালা। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো বিদেশী কর্মী চাকরি হারালে তাকে পরবর্তী মাত্র ষাট দিনের মধ্যে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি খুঁজে নিতে হবে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি কেউ নতুন কর্মসংস্থান মেলাতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে অত্যন্ত অপমানজনকভাবে সপরিবারে মার্কিন মুলুক ছাড়তে বাধ্য করা হবে।
এই বিশেষ বিদেশী পেশাজীবী ভিসার মূল নিয়মটি হলো, যে প্রতিষ্ঠানে কর্মী কাজ করবেন, সেই সংস্থাকেই কর্মীর সমস্ত আইনি কাগজপত্রের দায়িত্ব বা স্পন্সরশিপ নিতে হয়। ফলে আকস্মিক চাকরি চলে যাওয়ার সাথে সাথেই মার্কিন মাটিতে ওই কর্মীর বৈধভাবে থাকার অধিকারও ঝুলে যায়। তখন যুক্তরাষ্ট্রে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে হলে অন্য কোনো নতুন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পুনরায় সেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। কিন্তু বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক মন্দা এবং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজার সংকুচিত হওয়ার কারণে এখন নতুন একটি চাকরি জোগাড় করা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক গুণ বেশি কঠিন ও দুরূহ হয়ে উঠেছে।
এর পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো প্রযুক্তির আধুনিকায়ন। বর্তমানে সিলিকন ভ্যালির অনেক শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানবসম্পদ বা কর্মী রাখার চেয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কার্যক্রমের ওপর অনেক বেশি জোর দিচ্ছে। মানুষের বিকল্প হিসেবে এই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে প্রচলিত কর্মী চাহিদাতেও এক বিশাল বড় ও অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের হাজার হাজার দক্ষ মানুষের নিয়মিত চাকরি এখন প্রতি মুহূর্তেই চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
আমেরিকার বিখ্যাত সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যেভাবে রাতারাতি কর্মী সংখ্যা কমিয়ে আনছে, তার নেতিবাচক প্রভাব শুধু এই পেশাজীবীদের ক্যারিয়ারের ওপরেই পড়ছে না, বরং এর চেয়েও বড় বিপর্যয় নেমে এসেছে তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেক ভারতীয় প্রবাসী বহু বছর ধরে সেখানে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সুন্দর পরিবার গড়ে তুলেছেন। তাদের সন্তানদের অনেকেই আমেরিকার স্থানীয় নামকরা স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করছে এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের একটি সুন্দর স্বপ্ন নিয়ে নিজেদের জীবনকে সাজিয়েছিলেন। কিন্তু এক নিমেষে চাকরি হারানোর এই নিষ্ঠুর বাস্তবতায় তাদের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সেই সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সুখের সংসার এখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে, যা পুরো প্রবাসী সমাজে এক গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

রোববার, ২৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে ব্যয় কমানোর এক নিষ্ঠুর প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিশ্বের নামকরা সব বড় বড় প্রতিষ্ঠান। একের পর এক প্রযুক্তি সংস্থায় বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাইয়ের এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের কারণে আমেরিকার সিলিকন ভ্যালিতে কাজ করা লাখ লাখ বিদেশী কর্মী এখন দিশেহারা। আর এই তীব্র সংকটের মুখে পড়ে সবচেয়ে বেশি মানসিক ও সামাজিক চাপে পড়েছেন সেখানে বিশেষ কাজের অনুমতি বা এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীরা। হঠাৎ করে ভালো বেতনের চাকরি হারানোর কারণে তারা এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ এবং পরিবার নিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বিশ্বখ্যাত সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন বড় বড় প্রতিষ্ঠানে যে গণছাঁটাইয়ের জোয়ার শুরু হয়েছে, তাতে সবচেয়ে বেশি আঘাত এসেছে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের ওপর। বিশেষ করে যারা এই অস্থায়ী কাজের ভিসা নিয়ে দেশটিতে আছেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি এখন শাঁখের করাতের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মূল কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কঠোর ভিসা নীতিমালা। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো বিদেশী কর্মী চাকরি হারালে তাকে পরবর্তী মাত্র ষাট দিনের মধ্যে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি খুঁজে নিতে হবে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি কেউ নতুন কর্মসংস্থান মেলাতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে অত্যন্ত অপমানজনকভাবে সপরিবারে মার্কিন মুলুক ছাড়তে বাধ্য করা হবে।
এই বিশেষ বিদেশী পেশাজীবী ভিসার মূল নিয়মটি হলো, যে প্রতিষ্ঠানে কর্মী কাজ করবেন, সেই সংস্থাকেই কর্মীর সমস্ত আইনি কাগজপত্রের দায়িত্ব বা স্পন্সরশিপ নিতে হয়। ফলে আকস্মিক চাকরি চলে যাওয়ার সাথে সাথেই মার্কিন মাটিতে ওই কর্মীর বৈধভাবে থাকার অধিকারও ঝুলে যায়। তখন যুক্তরাষ্ট্রে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে হলে অন্য কোনো নতুন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পুনরায় সেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। কিন্তু বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক মন্দা এবং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজার সংকুচিত হওয়ার কারণে এখন নতুন একটি চাকরি জোগাড় করা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক গুণ বেশি কঠিন ও দুরূহ হয়ে উঠেছে।
এর পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো প্রযুক্তির আধুনিকায়ন। বর্তমানে সিলিকন ভ্যালির অনেক শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানবসম্পদ বা কর্মী রাখার চেয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কার্যক্রমের ওপর অনেক বেশি জোর দিচ্ছে। মানুষের বিকল্প হিসেবে এই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে প্রচলিত কর্মী চাহিদাতেও এক বিশাল বড় ও অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের হাজার হাজার দক্ষ মানুষের নিয়মিত চাকরি এখন প্রতি মুহূর্তেই চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
আমেরিকার বিখ্যাত সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যেভাবে রাতারাতি কর্মী সংখ্যা কমিয়ে আনছে, তার নেতিবাচক প্রভাব শুধু এই পেশাজীবীদের ক্যারিয়ারের ওপরেই পড়ছে না, বরং এর চেয়েও বড় বিপর্যয় নেমে এসেছে তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেক ভারতীয় প্রবাসী বহু বছর ধরে সেখানে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সুন্দর পরিবার গড়ে তুলেছেন। তাদের সন্তানদের অনেকেই আমেরিকার স্থানীয় নামকরা স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করছে এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের একটি সুন্দর স্বপ্ন নিয়ে নিজেদের জীবনকে সাজিয়েছিলেন। কিন্তু এক নিমেষে চাকরি হারানোর এই নিষ্ঠুর বাস্তবতায় তাদের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সেই সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সুখের সংসার এখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে, যা পুরো প্রবাসী সমাজে এক গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন