দিকপাল

‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি’ বাস্তবায়নে বিডিআরআইএস ডাটাবেজ নির্ভুল করা জরুরি: মীর শাহে আলম


সুমাইয়া জাবির
সুমাইয়া জাবির ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:০৫ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি’ বাস্তবায়নে বিডিআরআইএস ডাটাবেজ নির্ভুল করা জরুরি: মীর শাহে আলম

ভুল ও দ্বৈত তথ্য দূর করে নির্ভুল জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, দেশের সঠিক জনসংখ্যা জানা না থাকলে খাদ্য, অর্থনীতি ও চিকিৎসাসহ সামগ্রিক জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। 

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে ‘নির্ভুল নিবন্ধন নিশ্চিত করবে সুশাসন’ প্রতিপাদ্যে ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি’ ও ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সফল করতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ডাটাবেজ (বিডিআরআইএস) শতভাগ নির্ভুল করা আবশ্যক।

ডাটাবেজের বিপুল অসঙ্গতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে বিডিআরআইএস ডাটাবেজে প্রায় ২৪ কোটি ৮৮ লাখ মানুষের জন্ম নিবন্ধন এবং ৫৮ লাখ ১৯ হাজার মানুষের মৃত্যু নিবন্ধন নথিভুক্ত রয়েছে। অথচ সর্বশেষ ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। ডিজিটালাইজেশনের শুরুর দিকের কারিগরি ও মাঠপর্যায়ের ত্রুটির কারণেই এই বিশাল ব্যবধান ও দ্বৈত নিবন্ধন সৃষ্টি হয়েছে। সরকার দ্রুত এই অসঙ্গতি দূর করার লক্ষ্যে কাজ করছে। 

তৃণমূল পর্যায়ের বাস্তব চিত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রামে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জনসচেতনতা এখনো আশানুরূপ নয়। মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ স্বেচ্ছায় নিবন্ধন করান, আর বাকি ৯৫ শতাংশ স্কুলে ভর্তি, এনআইডি বা অন্যান্য সেবা পাওয়ার তাগিদে বাধ্য হয়ে কার্যালয়ে যান। তাছাড়া মৃত্যু নিবন্ধনের হার আরও অনেক কম। নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় পর্যায়ের অনিয়ম ও ভুয়া তথ্য সংশোধনের অভিযোগ কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। 

মাঠপর্যায়ের সংকট নিরসনে তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের নিবন্ধনে জড়িত কর্মীদের ঢাকায় এনে বিশেষ বৈঠক করা হবে। সে সময় তাদের সমস্যা শুনে ভোগান্তিমুক্ত সেবা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া স্থানীয় শাসন শক্তিশালী করতে ও প্রান্তিক পর্যায়ে মৌলিক সেবা পৌঁছাতে সরকার ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থা চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি জানান। 

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

অন্যান্যদের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগের প্রধান ড. মিখাল ক্রেজা এবং ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ বক্তব্য রাখেন।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি’ বাস্তবায়নে বিডিআরআইএস ডাটাবেজ নির্ভুল করা জরুরি: মীর শাহে আলম

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভুল ও দ্বৈত তথ্য দূর করে নির্ভুল জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, দেশের সঠিক জনসংখ্যা জানা না থাকলে খাদ্য, অর্থনীতি ও চিকিৎসাসহ সামগ্রিক জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। 

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে ‘নির্ভুল নিবন্ধন নিশ্চিত করবে সুশাসন’ প্রতিপাদ্যে ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি’ ও ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সফল করতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ডাটাবেজ (বিডিআরআইএস) শতভাগ নির্ভুল করা আবশ্যক।

ডাটাবেজের বিপুল অসঙ্গতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে বিডিআরআইএস ডাটাবেজে প্রায় ২৪ কোটি ৮৮ লাখ মানুষের জন্ম নিবন্ধন এবং ৫৮ লাখ ১৯ হাজার মানুষের মৃত্যু নিবন্ধন নথিভুক্ত রয়েছে। অথচ সর্বশেষ ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। ডিজিটালাইজেশনের শুরুর দিকের কারিগরি ও মাঠপর্যায়ের ত্রুটির কারণেই এই বিশাল ব্যবধান ও দ্বৈত নিবন্ধন সৃষ্টি হয়েছে। সরকার দ্রুত এই অসঙ্গতি দূর করার লক্ষ্যে কাজ করছে। 

তৃণমূল পর্যায়ের বাস্তব চিত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রামে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জনসচেতনতা এখনো আশানুরূপ নয়। মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ স্বেচ্ছায় নিবন্ধন করান, আর বাকি ৯৫ শতাংশ স্কুলে ভর্তি, এনআইডি বা অন্যান্য সেবা পাওয়ার তাগিদে বাধ্য হয়ে কার্যালয়ে যান। তাছাড়া মৃত্যু নিবন্ধনের হার আরও অনেক কম। নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় পর্যায়ের অনিয়ম ও ভুয়া তথ্য সংশোধনের অভিযোগ কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। 

মাঠপর্যায়ের সংকট নিরসনে তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের নিবন্ধনে জড়িত কর্মীদের ঢাকায় এনে বিশেষ বৈঠক করা হবে। সে সময় তাদের সমস্যা শুনে ভোগান্তিমুক্ত সেবা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া স্থানীয় শাসন শক্তিশালী করতে ও প্রান্তিক পর্যায়ে মৌলিক সেবা পৌঁছাতে সরকার ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থা চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি জানান। 

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

অন্যান্যদের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগের প্রধান ড. মিখাল ক্রেজা এবং ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ বক্তব্য রাখেন।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল